‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর’ দেখতে দর্শকদের ভিড়
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর’ দেখতে দর্শকদের ভিড়

সংগৃহীত ছবি

৫ আগস্ট পর্যন্ত গোপালগঞ্জ স্টেশনে অবস্থান করবে

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর’ দেখতে দর্শকদের ভিড়

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন আদর্শ, অধিকার আদায়ে সংগ্রাম এবং তার কর্মজীবনের নানা ঘটনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চালু হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর’ নামে দুটি জাদুঘর। গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি এ জাদুঘরের উদ্ধোধন করেন। আগস্টের প্রথম দিন রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন গোপালগঞ্জ রেলস্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে এর প্রদর্শন কার্যক্রমের সূচনা করেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণ বিনা টিকিটে এই জাদুঘরটি এখন দর্শন করতে পারছেন।

সেখানে সর্বস্তরের মানুষের ভীড় পরিলক্ষিত হচ্ছে।

জানা গেছে, ভ্রাম্যমান জাদুঘর দুটি দেশের বিভিন্ন রেল স্টেশনগুলোতে নির্দিষ্ট সময় অবস্থান করে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করবে। আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত গোপালগঞ্জ স্টেশনে অবস্থান করবে এ জাদুঘরটি। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর

জাদুঘরটিতে ১৯২০ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জাতির পিতার জীবন, মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহাসিক ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে সুদৃশ্য ১২ টেবিলে স্থাপন করা হয়েছে জাতির পিতার পৈত্রিক নিবাসের প্রতিরুপ। এছাড়া তার ব্যবহৃত চশমা, পাইপ, মুজিব কোর্ট, বঙ্গবন্ধুর নিজের হাতে লেখা চিঠি, টুঙ্গিপাড়ার সমাধিস্থলসহ ১৩ টি ঐতিহাসিক ছবি স্থান পেয়েছে। জাদুঘরটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গৌরবের প্রতীক জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ মুক্তি সংগ্রামের দূর্লভ চিত্রসমূহ রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে লেখা চিঠিও এখানে প্রদর্শন করা হয়েছে।

সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার পর থেকে নানা বয়স ও পেশার মানুষ এখন এসব ঐতিহাসিক ছবি দেখার জন্য ভীড় করছেন। আগত সবাই এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

ভ্রাম্যমান রেল যাদুঘর দেখে দর্শক মো. জামালউদ্দীন নিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেন, রেল মন্ত্রণালয় যে উদ্যোগ নিয়েছে তা খুবই প্রশংসনীয়। বিনোদনের পাশাপাশি এখান থেকে নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও তার আদর্শ সম্পর্কে আরও ভালো জানতে পারবেন।

ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর

শিডিউল অনুযায়ী, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে একটি জাদুঘর থাকবে ১ থেকে ৫ আগস্ট, ভাটিয়ারী স্টেশনে থাকবে ৫ থেকে ৭ আগস্ট, সীতাকুণ্ড স্টেশনে থাকবে ৭ থেকে ৯ আগস্ট, চিনকিআস্তানা স্টেশনে থাকবে ৯ থেকে ১১ আগস্ট, ফেনী জংশনে থাকবে ১১ থেকে ১৫ আগস্ট, গুনবতী স্টেশনে থাকবে ১৪ থেকে ১৭ আগস্ট, নাঙ্গলকোট স্টেশনে থাকবে ১৬ থেকে ১৯ আগস্ট, লাকসাম জংশনে থাকবে ১৮ থেকে ২৩ আগস্ট, চৌমুহনী স্টেশনে থাকবে ২৪ থেকে ২৫ আগস্ট, মাইজদীকোর্ট স্টেশনে থাকবে ২৬ থেকে ২৭ আগস্ট, নোয়াখালী স্টেশনে থাকবে ২৮ থেকে ২৯ আগস্ট, চাঁদপুর স্টেশনে থাকবে ৩০ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর, কুমিল্লা স্টেশনে থাকবে ২ থেকে ৪ নভেম্বর, আখাউড়া স্টেশনে থাকবে ৫ থেকে ৮ নভেম্বর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে থাকবে ৯ থেকে ১০ নভেম্বর, ভৈরব স্টেশনে থাকবে ১১ থেকে ১২ নভেম্বর, নরসিংদী স্টেশনে থাকবে ১৩ থেকে ১৪ নভেম্বর, টঙ্গী জংশনে থাকবে ১৫ থেকে ১৬ নভেম্বর এবং ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে থাকবে ১৭ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত।

অন্যদিকে আরেকটি রেল কোচ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের গোপালগঞ্জ স্টেশনে থাকবে ১ থেকে ৫ আগস্ট, কাশিয়ানী স্টেশনে থাকবে ৬ থেকে ৭ আগস্ট, ভাটিয়াপাড়া ঘাট স্টেশনে থাকবে ৯ থেকে ১০ আগস্ট, মধুখালী জংশনে থাকবে ১২ থেকে ১৩ আগস্ট, রাজবাড়ী স্টেশনে থাকবে ১৫ থেকে ১৭ আগস্ট, ফরিদপুর স্টেশনে থাকবে ১৯ থেকে ২০ আগস্ট, পাংশা স্টেশনে থাকবে ২২ থেকে ২৩ আগস্ট, কুমারখালী স্টেশনে থাকবে ২৫ থেকে ২৬ আগস্ট, কালুখালী জংশনে থাকবে ২৮ থেকে ২৯ আগস্ট, কুষ্টিয়া স্টেশনে থাকবে ৩০ থেকে ৩১ আগস্ট, খুলনা স্টেশনে থাকবে ২ থেকে ৭ নভেম্বর, দৌলতপুর স্টেশনে থাকবে ৯ থেকে ১০ নভেম্বর, নোয়াপাড়া স্টেশনে থাকবে ১২ থেকে ১৩ নভেম্বর, যশোর স্টেশনে থাকবে ১৫ থেকে ১৮ নভেম্বর, বেনাপোল স্টেশনে থাকবে ২০ থেকে ২১ নভেম্বর, নাভারণ স্টেশনে থাকবে ২২ থেকে ২৩ নভেম্বর, মোবারকগঞ্জ স্টেশনে থাকবে ২৫ থেকে ২৬ নভেম্বর, দর্শনা স্টেশনে থাকবে ২৮ থেকে ২৯ নভেম্বর এবং চুয়াডাঙ্গা স্টেশনে থাকবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।

news24bd.tv/আজিজ