কুষ্টিয়ায় ১৬ দিনে ৬ মরদেহ উদ্ধার
কুষ্টিয়ায় ১৬ দিনে ৬ মরদেহ উদ্ধার

কুষ্টিয়ায় ১৬ দিনে ৬ মরদেহ উদ্ধার

জাহিদুজ্জামান, কুষ্টিয়া :

কুষ্টিয়ার ভেড়ামায় লোকমান হোসেন (৩৬) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে ভেড়ামারা পুলিশ। এ নিয়ে গত ১৬ দিনে ৬টি মরদেহ উদ্ধার করলো পুলিশ। এর মধ্যে অন্তত ৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

ভেড়ামারা থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে ভেড়ামারা পাইলট স্কুলের কাছ থেকে চটের বস্তায় মোড়ানো লোকমান হোসেনের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ভেতরে আরেক পলিথিন দিয়ে মোড়ানো। মাথাসহ সারা শরীর রক্তাক্ত, আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি হত্যাকাণ্ড। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে মামলা নেয়া হবে।  

নিহত লোকমান হোসেনের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস এলাকায়। তিনি রক্সি পেইন্টের এরিয়া ম্যানেজার। গত ১ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ ব্যাপারে ২ আগস্ট তার স্ত্রী জিন্নাত আরা টুম্পা ভেড়ামারা থানায় জিডি করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, কোম্পানির টাকা তোলার জন্য তিনি ভেড়ামারা গিয়েছিলেন। ১ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।  

আজ সকাল ৯টার দিকে কুমারখালী বাজার থেকে অজ্ঞাত আরও এক ব্যাক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন নেই বা হত্যার আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কুমারখালী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার। মরদেহের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ জানতে কাজ করছে পুলিশ।

গত ১ আগস্ট কুমারখালীর সদকী চরপাড়ায় হত্যা মামলার প্রধান আসামি সেলিম আলীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে বাদী পক্ষের লোকজন। ২১ জুলাই কুষ্টিয়া শহরের চর মিলপাড়ায় লিয়াকত আলী মণ্ডল নামে এক হোটেল ব্যবসায়ীকে ইটের আঘাতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এদিনই মিরপুর উপজেলার কালীতলা ব্রিজের নিচ থেকে নজরুল ইসলাম নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ১৭ জুলাই কুমারখালীর নন্দলালপুরে নয়ন নামের এক ইটভাটা শ্রমিককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।  

এর মধ্যে মিরপুর উপজেলার কালীতলা ব্রিজের নিচ উদ্ধার করা নজরুলের মরদেহের ব্যাপারে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মিরপুর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে হত্যা কি-না। হত্যার আলামত পেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তর করা হবে। বাকি সবগুলো ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

উল্লেখ্য গত মাসের ৭ তারিখে কুষ্টিয়ার গড়াই নদী থেকে নিখোঁজ সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রুবেলের পলিথিনে মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হলেও এখনো পুলিশ মূল আসামি গ্রেপ্তার বা হত্যাকাণ্ডের মোটিভ উদ্ধার করতে পারেনি। এ নিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিকরা।

একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা প্রসঙ্গে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম বলেন, হত্যার ঘটনাগুলোতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব ঘটনার বেশিরভাগই জমিজমা বা টাকা পয়সা নিয়ে বিরোধ। এসব ব্যাপারে পুলিশের কাজ করার এখতিয়ার নেই। আদালতে পাঠানো হয়। তবে, হত্যার পর দেওয়ানী থেকে ফৌজদারী অপরাধে পরিণত হয় তখন পুলিশ কাজ করে। এসব নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

খাইরুল আলম আরও বলেন, কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়ায় মানুষকে সামাজিক ও পারিবারিক বিরোধ থেকে বের করে আনতে বিট পুলিশের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। সব থানা এলাকাতে এরকম উদ্যোগ নেয়া হবে।

news24bd.tv/আজিজ