অন্য নারীকে বিয়ে করায় আলী নূরকে হত্যা
অন্য নারীকে বিয়ে করায় আলী নূরকে হত্যা

অন্য নারীকে বিয়ে করায় আলী নূরকে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক

অটোরিকশাচালক আলী নূর (৩০) হত্যার ঘটনায় পোশাক শ্রমিক আহিনা খাতুনকে (২৯) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার (২ আগস্ট) রাতে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  

আহিনা র‌্যাবের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। বুধবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

মোজাম্মেল হক জানান, ঢাকায় পোশাক শ্রমিক আহিনা খাতুনের (২৯) সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় বসবাস করছিলেন হত্যাকাণ্ডের শিকার অটোরিকশাচালক আলী নূর (৩০)। তিন বছর ধরে তারা এভাবে আশুলিয়ার বিভিন্ন বাসায় ভাড়া ছিলেন। কথা ছিল একদিন তারা বিয়ে করবেন। কিন্তু আলী নূর গত ১৪ জুলাই তার গ্রামের বাড়ি মাগুরা গিয়ে অন্য নারীকে বিয়ে করেন। এরপর ১৭ জুলাই আবার ঢাকায় ফিরে আসেন। এ নিয়ে আহিনার ক্ষোভ ছিল, তবে আলী নূরকে তা বুঝতে দেননি তিনি। তিনি আলী নূরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। একদিন রাতে ঘুমের মধ্যে তাকে হত্যা করে বাসায় তালা দিয়ে বের হয়ে যান আহিনা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। র‌্যাব-৪ এর হাতে তাকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে। স্বীকার করেছেন হত্যার কথা।

আসামির বক্তব্যের সূত্র ধরে র‌্যাব আরও জানায়, রক্তাক্ত মরদেহ দেখে কিছুটা ভয় পেয়ে কাঁথা চাপা দিয়ে রাখেন আহিনা খাতুন। হত্যার পরে তার থালা-বাসন, কাপড় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি একটি বস্তায় ভরে ভোরেই ঘর তালা দিয়ে বস্তাটি নিয়ে হেঁটে প্রথমে জিরাবো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসেন। সেখান থেকে বাস যোগে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকায় আসেন তিনি।  

সেখানে আহিনা নিজেকে চাকরিপ্রত্যাশী গার্মেন্টসকর্মী পরিচয় দিয়ে ২২০০ টাকায় ভাড়ায় জনৈক মজিবুরের সহযোগিতায় একটি টিনশেড বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন এবং আত্মগোপনে চলে যান। আহিনা বিবেকের তাড়নায় ৩১ জুলাই বিকেলের দিকে আলী নূরের মোবাইলের মাধ্যমে ভিকটিমের ভগ্নিপতি জাকিরকে জানান যে, আলী নূর অসুস্থ, তাকে বাঁচাতে তার পরিবার যেন দ্রুত আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় দেলোয়ার বেপারীর টিনশেড ভাড়া বাসায় যান।

০১ আগস্ট দুপুরে সংবাদ পেয়ে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন জিরাবোর সেই টিনশেড বাসায় গিয়ে দেখতে পান যে রুমের দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। তারা বাসার মালিক ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় জানালা খুললে রুমের ভেতর হতে তীব্র দুর্গন্ধসহ মেঝেতে কাঁথা মোড়ানো অবস্থায় চিৎ হয়ে ভিকটিম আলী নূরের মরদেহ দেখতে পান।  

পুলিশকে জানালে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘরের তালা ভেঙে রুমের ভেতর থেকে মরদেহ বের করে। উক্ত ঘটনাটি প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়াসহ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে সুরতহাল ও ময়না তদন্ত শেষে ২ আগস্ট ভুক্তভোগীর বড় ভাই বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।  

এর পরই র‌্যাব-৪ আসামি গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আহিনা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব সদস্যরা।

র‌্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান জানান, আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে আসামি নীলফামারীর একটি স্কুল থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। তাদের পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ।  

২০১২ সালে জনৈক মিজানুর রহমানের সঙ্গে তার প্রথম বিবাহ হলেও পারিবারিক কলহের কারণে দেড় বছর পরে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। উক্ত পরিবারে তার ০১ টি ছেলে সন্তান রয়েছে।  

পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে তার সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে ২০১৮ সালে ঢাকায় আসেন এবং আশুলিয়ার একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। চাকরির সুবাদে ভুক্তভোগী আলী নুরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের সম্পর্ক ও শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করেন আহিনা খাতুন। আসামিকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

news24bd.tv/কামরুল