চীন-তাইওয়ান : কার কত সামরিক শক্তি?
চীন-তাইওয়ান : কার কত সামরিক শক্তি?

সংগৃহীত ছবি

চীন-তাইওয়ান : কার কত সামরিক শক্তি?

অনলাইন ডেস্ক

তাইওয়ান প্রণালীতে দূরপাল্লার গোলা ছুঁড়ল চীন।  মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সফরের জেরে বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) এই গোলা ছোঁড়া হয়। মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সফরের জেরে শুরু হওয়া সামরিক মহড়া থেকে তাইওয়ান প্রণালীতে দূরপাল্লার একাধিক গোলা ছুঁড়েছে চীন। স্থানীয় সময় দুপুর ১.১৩ মিনিটে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

এক বিবৃতিতে চীনের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়,  তারা পূর্ব তাইওয়ান প্রণালীর নির্দিষ্ট এলাকায় দূরপাল্লার তাজা গোলাবারুদ ব্যবহার করে গোলাবর্ষণ করেছে।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তাইওয়ানের উত্তর, দক্ষিণ এবং পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের কাছে জলসীমায় অন্তত ১১টি ডংফেং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে চীন।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক চীন ও তাইওয়ানের কার কত সামরিক শক্তি

জনসংখ্যার নিরিখে
চীনের জনসংখ্যা ১৩৯ কোটি ৮০ লাখ। তাইওয়ানের জনসংখ্যা মাত্র দুই কোটি ৩৬ লাখ। জনসংখ্যার বিচারে চীন ও তাইওয়ানের কোনও তুলনাই চলে না।

প্রতিরক্ষা বাজেট
গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার, ২০২২-এর হিসাব অনুযায়ী, সামরিক খাতে চীন বিপুল খরচ করে। খুব কম দেশই এতটা খরচ করে বা করতে পারে। চীনের প্রতিরক্ষা বাজেট হল ২৩ হাজার কোটি ডলার। সেই তুলনায় তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বাজেট এক হাজার ৬৮০ কোটি ডলার।  

সেনার সংখ্যা
চীনের সক্রিয় সেনার সংখ্যা ২০ লাখ। আর তাইওয়ানের এক লাখ ৭০ হাজার মাত্র। ফলে সেনাসংখ্যার হিসাবেও চীন ও তাইওয়ানের কোনও তুলনা চলে না।

কার কাছে কত ট্যাংক
চীনের কাছে আছে পাঁচ হাজার ২৫০টি ট্যাংক। আর তাইওয়ানের আছে এক হাজার ১১০টি। ফলে তুলনা অসম।

যুদ্ধবিমানের সংখ্যা
চীনের কাছে তিন হাজার ২৮৫টি যুদ্ধবিমান আছে। তাইওয়ানের কাছে আছে মাত্র ৭৪১টি। তবে তাইওয়ানের কাছে এফ ১৬ যুদ্ধবিমান রয়েছে।

নৌবহরের সংখ্যা
চীনের নৌবহর ৭৭৭টি। তাইওয়ানের মাত্র ১৭৭টি।

প্রশান্ত মহাসাগরে কে কত খরচ করে
ট্রেন্ডস ইন ওয়ার্ল্ড মিলিটারি এক্সপেন্ডিচার ২০২১ অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি খরচ করে আমেরিকা, ৮০ হাজার কোটি ডলার। দ্বিতীয় স্থানে আছে চীন। তারা ২৯ হাজার কোটি ডলার খরচ করে। তাইওয়ান সেখানে খরচ করে এক হাজার তিনশ কোটি ডলার। তবে তারা সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের থেকে বেশি অর্থ খরচ করে।

পারমাণবিক অস্ত্র
আর্মড ফোর্সেস ডট ইউ এর তথ্য মতে, চীনের প্রায় ২৮০টি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড আছে। তবে বিভিন্ন অসমর্থিত ও অনানুষ্ঠানিক সূত্র মতে, চীনের ৩৫০ বা ৪০০টির মতো পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।

এ যাবৎ চীন ৪৫ বার পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে।

তাইওয়ানের হাতে এ মুহূর্তে কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র নেই। তবে দেশটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় গোপনে পারমাণবিক গবেষণা ও কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ রয়েছে।  

তথ্যসূত্র: ডয়েচে ভেলে

news24bd.tv/আলী