পিনাক-৬ ট্র্যাজেডির আট বছর, বিচারকাজ শেষ হয়নি আজও
পিনাক-৬ ট্র্যাজেডির আট বছর, বিচারকাজ শেষ হয়নি আজও

সংগৃহীত ছবি

পিনাক-৬ ট্র্যাজেডির আট বছর, বিচারকাজ শেষ হয়নি আজও

পিনাক-৬ ট্র্যাজেডির আট বছরেও বিচারকাজ শেষ হয়নি। মামলায় আটবার তারিখ দিয়ে আড়াই বছরেও সাক্ষী হাজির করা যায়নি। অতিরিক্ত যাত্রীবহনে এই লঞ্চডুবির ঘটনায় ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়। অর্ধশতাধিক আজও নিখোঁজ।

 

পদ্মায় তলিয়ে যাওয়া লঞ্চটি চিহ্নিত করাই যায়নি। এমন গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিলম্ব ও সাক্ষী হাজির করতে না পারায় ভুক্তভোগীদের পাশাপাশি সংসদ সদস্যও ক্ষোভ জানান।

মুন্সীগঞ্জের মাওয়ার কাছে ২০১৪ সালের ৪ আগস্ট উত্তাল পদ্মায় ডুবে যায় এমএল পিনাক-৬। সংশ্লিষ্টদের মতে, ৮৫ জন যাত্রীর ধারণক্ষমতার বিপরীতে দেড়শর বেশি যাত্রী বহনের কারণেই উত্তাল পদ্মায় ডুবে যায় পিনাক। ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়। আজও নিখোঁজ রয়েছেন ৬৩ জন।  

আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করেও লঞ্চটি চিহ্নিত করা যায়নি। দুর্ঘটনার পর মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানায় মামলা হয়। তবে আট বছরেও বিচার শুরু করা যায়নি। এরই মধ্যে মারা গেছেন লঞ্চ মালিক প্রধান আসামি আবু বক্কর সিদ্দিক কালু।

২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ছয় আসাসির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়। এরপর মামলাটি বিচারের লক্ষ্যে সাক্ষীর জন্য আটবার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও সাক্ষী হাজির হননি। ৩১ সাক্ষীর মধ্যে প্রথম ধাপে তিনজনকে সমন দেয়া হয়। গড়হাজির থাকায় গত ২১ মার্চ তিন সাক্ষীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা দেয়ার পরও কার্যকর হয়নি।

মুন্সীগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদালতের পিপি আব্দুল মতিন বলেন, ‘চার্জ গঠনের পর ৮টি তারিখ চলে গেছে, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সাক্ষী না আসায় আমরা মামলার কোনো কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারছি না। আশা রাখি, আগামী তারিখে সাক্ষী এলে আমরা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এগিয়ে যাব। ’

জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন বলেন, ‘কেন তারা সাক্ষ্য দিতে এলেন না, তারা যথাযথভাবে মেসেজটি পেয়েছেন কি না? আমরা অবশ্যই সে বিষয়ে খোঁজখবর নেব। আমরা বিআইডব্লিউটিএ-র সঙ্গে যোগাযোগ করব, যাতে তারা সাক্ষ্য দিয়ে যান। ’

দুর্ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ যথাযথ বাস্তবায়ন না থাকা এবং দীর্ঘ আট বছরেও বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ জানান অনেকেই। আক্ষেপ স্থানীয় সংসদ সদস্যেরও।

মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি বলেন, ‘অবহেলার কারণে দীর্ঘ আট বছরেও ওই ট্র্যাজেডির কোনো সুরাহা হয়নি। যাদের অবহেলার জন্য এটা হয়েছে, আমি তাদের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি। ’