ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ থেকে রক্ষার সর্বোত্তম উপায়
ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ থেকে রক্ষার সর্বোত্তম উপায়

ডিমেনশিয়া থেকে রক্ষার সর্বোত্তম উপায় হল, মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত রাখা

ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ থেকে রক্ষার সর্বোত্তম উপায়

অনলাইন ডেস্ক

ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ একটি মানসিক রোগ। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির বুদ্ধি, স্মৃতি ও ব্যক্তিত্ব লোপ পায় এবং রোগটি ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্করা এ রোগে আক্রান্ত হয় এবং হঠাৎ-ই অনেক কিছুই মনে করতে পারেন না। ফলে তাদের দৈনন্দিন আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়।

কেন হয়?
এখন পর্যন্ত জানা যায়নি যে, কেন একজনের ডিমেনশিয়া হতে পারে কিন্তু অপরজনের নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা ডিমেনশিয়া সম্পর্কে আরো জানতে গবেষণা করে যাচ্ছেন। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডিমেনশিয়া হয়, বিষয়টা এমন নয়। বিভিন্ন রোগের কারণেও ডিমেনশিয়া হয়ে থাকে।

এসব রোগ মস্তিষ্কের ভিন্ন ভিন্ন অংশকে প্রভাবিত করে।

লক্ষণ
যখন কারোর ডিমেনশিয়ার প্রভাব শুরু হয়, তখন নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। যেমন :

  • সাম্প্রতিক ঘটনা, নাম ও চেহারা ভুলে যাওয়া
  • প্রায়শই অল্প সময়ের মধ্যে একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করা
  • জিনিসপত্র ভুল স্থানে রাখা
  • মনযোগ ধরে রাখা বা সরল সিদ্ধান্ত গ্রহণ কঠিন হওয়া
  • দিন তারিখ বা সময় সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া
  • হারিয়ে যাওয়া, বিশেষ করে নতুন নতুন স্থানে
  • সঠিক শব্দ ব্যবহার করতে না পারা বা অন্যদের কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া
  • অনুভূতিতে পরিবর্তন, যেমন সহজে বিমর্ষ ও মর্মাহত হয়ে পড়া বা কোন কিছুর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা ইত্যাদি।

করণীয়
সাম্প্রতিক গবেষণায় ডিমেনশিয়ায় ঝুঁকি হ্রাসের সর্বোত্তম কিছু উপায় সম্পর্কে জানা গেছে। ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি হ্রাস করতে কিছু করণীয় হলো :

  • মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত রাখুন
    ডিমেনশিয়া থেকে নিজেকে রক্ষার সর্বোত্তম উপায় হল, মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত রাখা। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বই পড়েন, বাদ্যযন্ত্র বাজান বা ব্যক্তিগত ডায়েরি লিখেন তাদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি ২৩ শতাংশ হ্রাস করে। প্রায় ২ মিলিয়ন মধ্যবয়সী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের নিয়ে পরিচালিত বেশ কিছু গবেষণায় এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।  
    গবেষণা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ রাখার সেরা উপায় হলো, শরীরকে সচল রাখা বা শারীরিক কার্যকলাপ চালানো।  
    এজন্য বই পড়ুন, বাদ্যযন্ত্র বাজান, ডায়েরি লিখুন-মস্তিষ্ককে সব সময় সচল রাখুন বা উদ্দীপিত রাখুন।
  • শারীরিক ক্রিয়াকলাপ করুন
    গবেষণায় শারীরিক ক্রিয়াকলাপ বা ব্যায়ামের মধ্যে রয়েছে হাঁটা, দৌড়ানো, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, ব্যায়াম যন্ত্র ব্যবহার, খেলাধুলা, যোগব্যায়াম, নাচ ইত্যাদি। যারা নিয়মিত এগুলো করেন তাদের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ১৭ ভাগ কম থাকে। হার্টকে সুস্থ রাখতে এবং রক্ত ​​চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে ব্যায়াম।  হার্টে সমস্যা হলে মস্তিষ্কে রক্ত ​​প্রবাহ বন্ধ হয়, অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্কের নিউরন এবং কোষের মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করে যা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সুতরাং সময় পেলেই এসব করুন।
  • সম্মিলিত কাজে সম্পৃক্ত থাকুন
    গবেষণা বলছে, একাকী জীবন কাটালে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বরং যারা নিজেকে প্রাণবন্ত রাখতে সামাজিক নানা কার্যকলাপে জড়িত থাকেন তাদের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমে ৭ ভাগ। গবেষকরা দেখেছেন, অন্যদের সাথে সময় কাটানো বা সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করলে মানসিক উদ্দীপনা বাড়িয়ে মস্তিষ্ককে রক্ষা করতে পারে, ডিমেনশিয়ার জন্য দায়ী হতাশা এবং চাপের ঝুঁকি হ্রাস করে। এজন্য কোন ক্লাবে যোগদান করুন, স্বেচ্ছাসেবী কার্যকলাপে জড়িত থাকুন, বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সাথে সময় কাটান, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যান। এ সবই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে শরীর ও মনে।  

মেইল অনলাইন অবলম্বনে আতাউর রহমান কাবুল

সম্পর্কিত খবর