সরকার হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়ে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সরকার হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়ে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

সরকার হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়ে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

বর্তমান সরকার হিমালয় পর্বতের মতো দাঁড়িয়ে আছে। বিরোধী দলের তিনজনের ধাক্কায় হিমালয় পর্বত পড়বে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। শুক্রবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা গড়পাড়া শুভ্র সেন্টারে জেলা পরিষদ আয়োজিত কোভিড-১৯ মোকাবেলায় কর্মহীন ৫০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্য, বস্ত্র ও সুরক্ষাসামগ্রী এবং জেলা প্রেসক্লাবসহ ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই বিতরণের সময় এ কথা বলেন মন্ত্রী।

জাহিদ মালেক বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধে সারা বিশ্বে প্রভাব পড়েছে।

বিশ্বে জ্বালানি, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দেশে দাঙ্গা-হাঙ্গামা চলছে। শ্রীলঙ্কায় সব কিছু বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেখানে জ্বালানি, খাদ্য, সার ও বিদ্যুৎ নেই।
ইউরোপেও এর প্রভাব পড়ছে। সেখানেও রেশনিং শুরু হয়েছে ও ব্যাংকের সুদ বাড়িয়েছে। সমস্যা যখন পৃথিবীতে আসে এর প্রভাব কম-বেশি সব দেশেই পড়ে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশ ঘনবসতি একটি দেশ, যে কারণে আমাদের দেশেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা জ্বালানি নির্ভরশীল রাষ্ট্র। আমাদের জ্বালানি আমদানি করতে হয়। জ্বালানির দাম পৃথিবীতে তিনগুণ বেড়ে গেছে। জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না, অনেক দেশে জ্বালানি নেই। বাংলাদেশের জ্বালানি আছে। প্রধানমন্ত্রী আগে থেকেই সাবধানতা অবলম্বন করছেন। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করছেন। আমাদের এই সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে। স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। তাই আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। আমাদের বিদ্যুৎসহ সবক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার হিমালয়ের পর্বতের মতো দাঁড়িয়ে আছে বিরোধী দলের তিনজনের ধাক্কায় হিমালয় পর্বত পড়বে না। কাজেই সামনে নির্বাচনে দেখা যাবে জনগণ কাদের মূল্যায়ন করেন। যারা পদ্মা সেতু, রাস্তাঘাট, মেট্রোরেল, বিদ্যুৎ, খাদ্যের সংকট মোকাবেলা করেছেন তাদের মূল্যায়ন করবে? না যারা সার ও বিদ্যুতের জন্য জনগণকে গুলি করে মেরেছে তাদের মূল্যায়ন করবে। জনগণ উন্নয়নের সঙ্গে আছে, ভবিষ্যতেও উন্নয়নের সঙ্গে থাকবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণ করেছে সরকার। বিশ্বের কম দেশই করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে, আমেরিকাও পারেনি,  ইউরোপ পারেনি, বাংলাদেশ করোনা নিয়ন্ত্রণে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে। এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে ৩০ কোটি ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। এতে আমাদের দেশের মানুষ সুরক্ষিত রয়েছে। এতে ভ্যাকসিনে ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ৫ বছর থেকে ১১ বছরের শিশুদের পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ২৫ আগস্ট থেকে সিটি করপোরেশনগুলোতে এই কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে দুই কোটি ২০ লাখ শিশুকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। ইতিমধ্যে আমাদের হাতে ৩০ লাখ ভ্যাকসিন রয়েছে। শিশুদের জন্য বিশেষ ভ্যাকসিন আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে পেয়ে যাব।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মহীউদ্দীনের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন- জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ, পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ গোলাম আজাদ খান, পৌর মেয়র মো. রমজান আলী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসরাফিল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন সরকার।

news24bd.tv/আলী