দেশে হুহু করে বাড়ছে সাইবার বুলিং : গবেষণা
দেশে হুহু করে বাড়ছে সাইবার বুলিং : গবেষণা

সংগৃহীত ছবি

দেশে হুহু করে বাড়ছে সাইবার বুলিং : গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

একবিংশ শতাব্দীতে বিপ্লব ঘটেছে প্রযুক্তির। বিশ্ব জুড়েই বেড়েছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা। নানা প্রয়োজনে মানুষ ইন্টারনেটের দারস্ত হলেও অপরাধীদের বিচরণ বেড়েছে মাধ্যমটিতে। ট্রান্সন্যাশনাল এই অপরাধীদের ক্ষেত্র বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।

যার নমুনা দেখা গেল এক গবেষণায়। সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন (সিসিএ ফাউন্ডেশন) এর গবেষণ প্রতিবেদন বলছে, দেশে সাইবার অপরাধের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের ৫০ দশমিক ২৭ শতাংশই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে।

সিসিএ ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, সাইবার বুলিংয়ের মধ্যে রয়েছে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার, পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট, সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার এবং অনলাইনে-ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে হুমকি দিয়ে মানসিক হয়রানি। ক্রমেই এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে বলেও দাবি করে সিসিএ ফাউন্ডেশন।

 

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শনিবার সকালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ প্রবণতা ২০২২’ শীর্ষক এই গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সিএসআরের অংশ হিসেবে এতে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সাইবার প্যারাডাইজ লিমিটেড।  সিসিএ ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী মুস্তাফিজের সভাপতিত্বে প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরেন গবেষক দলের প্রধান ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মনিরা নাজমী জাহান।  

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাস-পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বাড়তে শুরু করেছে। এর ভুক্তভোগীদের বেশির ভাগের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর, এই হার ৮০ দশমিক ৯০ শতাংশ।

হয়রানির শিকারের পর ভুক্তভোগীদের মাত্র ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে গেছে জানিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আইনের আশ্রয় নেওয়া ভুক্তভোগীদের মাত্র ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ আশানুরূপ ফল পেয়েছেন।  

লোকলজ্জার ভয়সহ বিভিন্ন কারণে অপরাধের বিষয়ে ভুক্তভোগীরা কোথাও অভিযোগ করেন না। সার্বিক পরিস্থিতিতে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপকভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ আটটি সুপারিশ তুলে ধরা হয় গবেষণা প্রতিবেদনে।  

জরিপে ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ০২ মার্চ পর্যন্ত ব্যক্তি পর্যায়ে ভুক্তভোগী ১৯৯ জনকে ১৮টি প্রশ্ন করা হয়। সেই মতামতের ভিত্তিতে এ বছরের গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।  

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, সাইবার অপরাধীরা প্রতিদিনই তাদের ধরণ বদলাচ্ছে। তুলনা মূলকভাবে বাড়ছে না পুলিশের সংখ্যা। তাই বিকল্প নেই সচেতনতার।  

শুধু ডিএমপিতে ২০২০ সালে সাইবার অপরাধের শিকার হয়ে পুলিশের দারস্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৬০ জন। ২০২১ সালে যা এসে দাঁড়ায় ২ হাজার ১৯৩ জনে।  

অনুষ্ঠানে আলোচকদের মধ্যে ছিলেন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির পরিচালক সাকিফ আহমেদ, প্রযুক্তিবিদদের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইসাকা ঢাকা চ্যাপ্টারের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন ও ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সুলতানা ইশরাত জাহান।
news24bd.tv/আলী