সঙ্কটের মুখে ব্রিটেনের পথেই জার্মানি
সঙ্কটের মুখে ব্রিটেনের পথেই জার্মানি

সংগৃহীত ছবি

সঙ্কটের মুখে ব্রিটেনের পথেই জার্মানি

অনলাইন ডেস্ক

বর্তমানে প্রায় সবকিছুর সঙ্কটে ভুগছে ব্রিটেন। তবে তাদের অবস্থা দেখে সত্তর দশকে নির্মিত ফল্টি টাওয়ার্সের কথা মনে পড়ছে। যেখানে বসিল চরিত্রে থাকা জন ক্লেস বলেছিলেন, ‘একটা কথা মনে রেখ ফল্টি তোমার থেকেও কেউ খারাপ অবস্থানে রয়েছে। ’ এর উত্তরে ফল্টি বলে,‘সত্যি? আমি তার সঙ্গে দেখা করতে চাই।

আমি তার সঙ্গে রক্তাক্ত হাসি দিতে চাই। ’

বর্তমানে জার্মানির চিত্র দেখে ফল্টি টাওয়ার্সের এই সংলাপের কথা মনেই করতে পারে ব্রিটেন। কারণ জার্মানির দিকে তাকালে সে তার থেকে খারাপ অবস্থা দেখতে পারবে।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নদীগুলোর মধ্যে একটি রাইন।

এ নদী মহাদেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপকভাবে ভূমিকা রাখে। রাইন দিয়েই ইউরোপের বেশিরভাগ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। ইউরোপের ধমনী বলা হয় নদীটিকে।

তবে মরার পথে এক হাজার ৩২০ কিলোমিটারের রাইন। ইউরোপে রেকর্ড তাপমাত্রায় ও অনবৃষ্টিতে শুকিয়ে যাওয়ার পথে নদীটি।

সুইজারল্যান্ডে উৎপন্ন হয়ে জার্মানির ৮৬৫ কিলোমিটারের দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়েছে রাইন নদী। তবে রাইনের পানি কমে যাওয়ায় জার্মানির অনেক শিল্প হুমকির মধ্যে রয়েছে। স্পষ্টতই, রাইনের পানিই শেষ ভরসা যা এখন বার্লিনের প্রয়োজন।

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির তথ্য মতে, জাহাজে করে রাইন নদী দিয়ে মধ্যে ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে জ্বালানি পৌঁছায়।

এমতাবস্থায় শুক্রবার কাউবে রাইনের পানি কমেছে ৪০ সেন্টিমিটার। সামনের সোমবারের মধ্যে পানির স্তর আরও ৩৪ সেন্টিমিটার নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন গভীরতায় রাইন দিয়ে জাহাজ চলাচল করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। তাই তো বলাই চলে জার্মানি সঙ্কট আরও তীব্র হবে।

এএমই গ্রুপের বিশ্লেষকরা বলছেন, রাইন নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ায় সর্বোচ্চ পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত কয়লা পাচ্ছে না কেন্দ্রগুলো।

এ দিকে রাইন নদী দিয়ে নৌ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় জার্মানিতে বিদ্যুতের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রাকৃতিক গ্যাসসহ সার্বিকভাবে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জার্মানির অর্থনীতির ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে। আরো খারাপ সময়ের আশঙ্কায় জার্মানিতে অসন্তোষ বাড়ছে।

পুতিনের তেল এবং গ্যাসের ওপর ব্যাপক নির্ভর করায় সামনের শীতে ব্ল্যাক আউটের শঙ্কায় যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ। এমনকি করোনা ও ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনে মন্দার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে তারা। তাই তো নাগরিকদের বিদ্যুৎ ও পানি অপচয় না করার জন্য অনুরোধ করছে তারা।

সূত্র: দ্যা টেলিগ্রাফ

news24bd.tv/মামুন