৮৫ বছর পুরনো লজ্জার স্মৃতি ফেরাল ম্যানইউ
৮৫ বছর পুরনো লজ্জার স্মৃতি ফেরাল ম্যানইউ

সংগৃহীত ছবি

৮৫ বছর পুরনো লজ্জার স্মৃতি ফেরাল ম্যানইউ

অনলাইন ডেস্ক

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সফলতম দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। বছর কয়েক আগেও দাপটের সঙ্গে ইউরোপ মাতিয়েছে ক্লাবটি। অথচ সে দলটি দুঃসময়ের ঘূর্ণিপাকে খাবি খাচ্ছে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের বিদায়ের পর থেকে। এরিক টেন হ্যাগের অধীনে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখলেও তাদের নতুন মৌসুমটা শুরু হয়েছে দুঃস্বপ্নের মতো।

প্রথম ম্যাচে নিজেদের মাঠে ব্রাইটনের কাছে ২-১ ব্যবধানে হারা রেড ডেভিলদের আরও বড় লজ্জা দিয়েছে ব্রেন্টফোর্ড।

গত মৌসুম শেষের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়তে চেয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলার সুযোগ না থাকার পাশাপাশি ক্লাবটির মধ্যে উচ্চাশার অভাব দেখেছিলেন তিনি। তার কথা সত্য প্রমাণ করতেই যেন জায়ান্ট ক্লাবটি এতো বাজে ফুটবল খেলছে।

শনিবার (১৩ আগস্ট) নিজেদের মাঠে ম্যানইউকে নিয়ে ছেলেখেলা করেছে পশ্চিম লন্ডনের অপেক্ষাকৃত দুর্বল শক্তি ব্রেন্টফোর্ড। প্রথমার্ধেই রেড ডেভিলদের জালে ৪ গোল দেওয়া দলটি শেষ পর্যন্ত এই লিড ধরে রেখেই জয় তুলে নিয়েছে। তাতে ৮৫ বছরের পুরনো লজ্জার মুখোমুখি ১৯বারের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাধারীরা। পঁচাশি বছর পর ফের ইংলিশ লিগে এই নিয়ে টানা সাতটা অ্যাওয়ে ম্যাচে হারের মুখ দেখল তারা।  ১৯৩৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে টানা ১০টি অ্যাওয়ে ম্যাচে হারের মুখ দেখেছিল তারা।

এদিন ম্যানইউয়ের একাদশে ফিরেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ম্যাচের শুরুটাও ভালো হয়েছিল তাদের। ৬ মিনিটের মাথায় গোল পেতে পারতেন রোনালদো। চতুর্থ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন একাদশে ফেরা এই পর্তুগিজ। তবে তার দূরপাল্লার শট পরাস্ত করতে পারেনি ব্রেন্টফোর্ড গোলরক্ষককে।

রেড ডেভিলদের দুঃস্বপ্নের শুরুটা এরপরই। দশম মিনিটে রোনালদো বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে পেয়ে যান ব্রেন্টফোর্ডের ম্যাথিয়াস ইয়োহানসেন। তার পাস ধরে ডি-বক্সের বাহির থেকে শট নিয়েছিলেন জশ ডি সিলভা। সেই দুর্বল শট ম্যানইউ গোলরক্ষক ডি গেয়ার হাত ফসকে গোলে ঢুকে যায়।

১৮ মিনিটে ফের ডি গেয়ার ভুলে গোল খায় ইউনাইটেড। ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ব্যাকপাস দিয়েছিলেন ডি গেয়াকে। তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কি বুঝে তিনি বল বাড়ালেন কড়া মার্কিংয়ে থাকা এরিকসেনকে। বল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এই ডেনিশ। বল পেয়ে যান ইয়োহানসেন। জায়গা বানিয়ে নিখুঁত শটে ডি গেয়াকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি।

দুই গোল খেয়ে সামলে ওঠার আগেই ৩০ মিনিটে ফের গোল খায় ম্যানইউ। এবারের গোলের দায়ও দলটার রক্ষণভাগের। কর্নারে দূরের পোস্টে লাফিয়ে হেড করেন ব্রেন্টফোর্ডের ইভান টনি। সে বল ক্লিয়ার করতে পারেনি ম্যানইউয়ের ডিফেন্ডাররা। কাছের পোস্ট থেকে হেডে গোল আদায় করেন ইংলিশ ডিফেন্ডার বেন মি।  

ইউনাইটেড এতটাই বাজে খেলছিল যে, দলটার সাবেক খেলোয়াড়রা এতো সহজে হজম করতে পারেনি বিষয়টা। তৃতীয় গোলের পর তাই ম্যানইউয়ের কিংবদন্তি গ্যারি নেভিল স্কাই স্পোর্টসের হয়ে ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে বলে বসেন, 'যেন সিনিয়র দলের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-৯ দলের খেলা চলছে!'

৩৫ মিনিটে ফের গোল খায় ইউনাইটেড। মাঠে রোনালদোর চোখেমুখে তখন নেমে এসেছে রাজ্যের হতাশা। বলতে গেলে হালই ছেড়ে দিয়েছিলেন পর্তুগিজ যুবরাজ। এবার দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। নিজেদের বক্স থেকে পাওয়া লম্বা বল টনি বল বাড়ান ইউনাইটেডের ডি-বক্সে। সঙ্গে লেগে থাকা রেড ডেভিলদের লেফটব্যাক লুক শকে বোকা বানিয়ে গোল করেন ব্রায়ান এমবিউমো।

এই নিয়ে তৃতীয় দল হিসেবে ইউনাইটেডের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই চার গোল করলো ব্রেন্টফোর্ড। এর আগে টটেনহ্যাম ও লিভারপুল প্রিমিয়ার লিগ যুগে এই কীর্তি করেছিল।

ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে ৮৫ বছর পর ম্যানইউকে হারাল ব্রেন্টফোর্ড। এর আগে সর্বশেষ ১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে রেড ডেভিলদের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল পশ্চিম লন্ডনের দলটি। সেবার দুই লেগেই জয়ের মুখ দেখেছিল তারা। এরপর আরও ছয়বার দেখা হলেও, এরমধ্যে পাঁচটিতেই হেরেছিল তারা। বাকি একটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল।

আগামী ২২ আগস্ট ওল্ড ট্রাফোর্ডে লিভারপুলের মুখোমুখি হবে ইউনাইটেড। কিন্তু মহারণের আগে বেশ বড় রকমের ধাক্কা খেলেন টেন হাগ। উইং থেকে সরিয়ে এই ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলিয়েছিলেন ডাচ কোচ। পর্তুগিজ তারকাকে আজ প্রথম একাদশেও রাখেন তিনি। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হলো না। রোনালদো থাকলেন নিজের ছায়া হয়ে। আর দলও বড় হার এড়াতে পারল না। এই নিয়ে টানা দুই ম্যাচে হেরে পয়েন্ট তালিকার একদম নিচে চলে গেল ইউনাইটেড।

news24bd.tv/আলী