নিউইয়র্কে হামলার শিকার কে এই সালমান রুশদি
নিউইয়র্কে হামলার শিকার কে এই সালমান রুশদি

সংগৃহীত ছবি

নিউইয়র্কে হামলার শিকার কে এই সালমান রুশদি

অনলাইন ডেস্ক

নিউইয়র্কে ছুরিকাঘাতের শিকার ভারতীয় বংশোদ্ভূত বুকারজয়ী লেখক সালমান রুশদি গত পাঁচ দশক ধরে তার সাহিত্য কর্মের জন্যই বারবার হত্যার হুমকি পেয়েছেন। শুক্রবার (১২ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলেন বুকারজয়ী এই  লেখক। সেখানে দর্শক সারি থেকেই উঠে এসে ছুরি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায় এক যুবক। মাত্র ২০ সেকেন্ডের মধ্যে ১০ থেকে ১৫ বার কোপানো হয় রুশদিকে।

এর আগে, ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি রুশদির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে ফতোয়া জারি করেন।

সালমান রুশদি ভারতের স্বাধীনতার দু'মাস আগে বোম্বেতে (বর্তমান মুম্বাই) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। চৌদ্দ বছর বয়সে তাকে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়। তখন ভর্তি হয়েছিলেন রাগবি স্কুলে।

পরে ইতিহাসে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেন ক্যামব্রিজের মর্যাদাপূর্ণ কিংস কলেজ থেকে।

এরপর ব্রিটেনের নাগরিকত্ব নেন এবং তার মুসলিম বিশ্বাস থেকে সরে দাঁড়ান। কিছুদিন অভিনেতা হিসেবে কাজ করা ছাড়াও বিজ্ঞাপনের কপিরাইটিংয়ের কাজও করেছেন।

সালমান রুশদির অনেক উপন্যাসই ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছিলো যার মধ্যে আছে ১৯৮১ সালে বুকার পুরষ্কার জেতা তার দ্বিতীয় উপন্যাস মিডনাইট চিলড্রেন। তবে ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হওয়া তার চতুর্থ বই স্যাটানিক ভার্সেস হলো তার সবচেয়ে বিতর্কিত কাজ যা তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজিরবিহীন বিপদে ফেলে দেয়।

বইটি প্রকাশের পর তাকে হত্যার হুমকি আসে যা তাকে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য করে। ব্রিটিশ সরকার তখন তাকে পুলিশী নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসে। যুক্তরাজ্য ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট হয়। পশ্চিমা বিশ্বের লেখক ও বুদ্ধিজীবীরা মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বইটির কারণে মুসলিমদের দিক থেকে আসা প্রতিক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। তার প্রাণনাশের হুমকি সৃষ্টি করে এই বইটি।  

এই বইটি তীব্র ক্ষোভ তৈরি করে মুসলিমদের অনেকের মধ্যে। তারা মনে করেন বইটিতে ধর্ম অবমাননা করা হয়েছে। ভারতই প্রথম এই বইটি নিষিদ্ধ করেছিলো। পরে পাকিস্তানসহ অন্য বেশ কিছু মুসলিম দেশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকাও একই পদক্ষেপ নেয়।

তবে এটির প্রশংসাও করেছেন অনেকে। এটি পেয়েছিলো দ্যা হুইটব্রেড প্রাইজ। কিন্তু দু মাসের মধ্যেই বইটিকে ঘিরে দানা বাঁধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ।

কিছু মুসলিম মনে করেন, বইটিতে ইসলাম ধর্মকে উপহাস করা হয়েছে। বইটিতে দুজন যৌনকর্মীর এমন নাম দেয়া হয়েছিলো যা ইসলামের নবীর দুজন স্ত্রীর নামের সাথে মিলে গিয়েছিলো।

তিনি বইটিতে এমন দুটো লাইন লিখেছিলেন যেখানে তিনি দাবি করেন, ইসলামের নবী কোরআন থেকে সেগুলো বাদ দিয়েছেন।

news24bd.tv/রিমু