৭ হাজার সিভি প্রিন্ট করে বিলি করছেন চাকরিপ্রত্যাশী যুবক (ভিডিও)
৭ হাজার সিভি প্রিন্ট করে বিলি করছেন চাকরিপ্রত্যাশী যুবক (ভিডিও)

সিভি প্রিন্ট করে কর্পোরেট ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে বিলি করছেন

৭ হাজার সিভি প্রিন্ট করে বিলি করছেন চাকরিপ্রত্যাশী যুবক (ভিডিও)

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানী ঢাকায় চাকরি নামক ‌‘সোনার হরিণ’ ধরার অভিনব চেষ্টা করছেন এক যুবক। তিনি ৭ হাজার সিভি (জীবনবৃত্তান্ত) প্রিন্ট করে ব্যাগে ভরে বিভিন্ন কর্পোরেট ভবনের মুল গেটে দাঁড়িয়ে বিলি করছেন। কর্মকর্তা গোছের কেউ সেসব গেট দিয়ে বের হলেই সালাম দিয়ে তাদের হাতে সিভি ধরিয়ে দিচ্ছেন। বলছেন, ‘স্যার! আমি পরিশ্রমী ও সৎ।

প্রয়োজন হলে আমাকে ডাকবেন। ’

মোহাম্মদ জিয়াউল হাসান নামের এই যুবকের সঙ্গে কথা বলে, অনুমতি নিয়ে সে ভিডিও ফেসবুকে ছেড়েছেন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জি এম নিজাম উদ্দিন।  

ফেসবুকে জি এম নিজাম উদ্দিন লিখেছেন, করোনার আঘাতে চাকরি হারিয়েছেন জিয়াউল হাসান। গত প্রায় আড়াই বছর ধরে তিনি বেকার।

অনেক জায়গায় বিজ্ঞাপন দেখে গত আড়াই বছর ধরে অনেক দরখাস্ত করেছেন চাকরির জন্য। কিন্তু কেউ আজ পর্যন্ত ডাকেনি তাকে। তার সন্দেহ, এতো এতো চাকরি প্রার্থীর দরখাস্তের ভিড়ে তার দরখাস্তটি হয়তো কোনো মানবসম্পদ ব্যবস্থাপকের নজর কাড়েনি বা কোনো নিয়োগকর্তা এমডি/চেয়ারম্যানের হাতে পৌঁছায়নি।  যুবকটি ৭ হাজার সিভি ছাপিয়েছেন। ইতিমধ্যে ঢাকার প্রেস ক্লাব, হাইকোর্ট, সচিবালয় ও বিভিন্ন কর্পোরেট হাউজ সহ  নানা স্থানে গিয়ে নিজে প্রায় ২ হাজার সিভি বিলিও করেছেন।  

জি এম নিজাম ফেসবুকে লিখেন, গতকাল এক অফিসের সামনে তার সঙ্গে দেখা। গেটের বাইরে আসা মাত্রই আমার হাতেও একখানা কাগজ ধরিয়ে দিলেন। প্রথমে প্রচারপত্র ভেবে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। পরে মনে হলো, সিভি। তাই আবার নিজেই চেয়ে নিলাম এবং সিভি বিলি করার এই অভিনব কায়দা দেখে তাকে কিছু প্রশ্ন করলাম। বেশ ভদ্র, সপ্রতিভ ও স্মার্ট বলেই মনে হলো তাকে। জিজ্ঞেস করলাম, ‘এভাবে চাকরি খোঁজা হচ্ছে কেন?

যুবকটি বেশ আগ্রহ নিয়েই আমার সঙ্গে অনেক কথা শেয়ার করলেন। কথোপথনের কিছু অংশ তার অনুমতি নিয়েই ভিডিও করলাম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে পারি কিনা জিজ্ঞেস করলাম। তিনি হেসে বললেন, ‌‘জ্বি স্যার’।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যুবকটি বলছেন, ‌‘আমি মো. জিয়াউল হাসান। আমি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জব করেছি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেনিং নিয়েছি। পড়াশোনাও করেছি দেশে এবং দেশের বাইরে। দু:খজনক হলেও সত্য, ২০০০ সালে আমি শেষ জব করি। এরপর করোনা আসে এবং চাকরির বাজারে বিপরীত ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। ফলে এখনো পর্যন্ত চাকরি পেতে পারিনি।  আমার ধারণা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিদের কাছে আমার সিভি হয়তো পৌঁছেনি। তাই আমি এই পথ অবলম্বন করেছি। আমার আশা, শিগগিরই আমি একটা চাকরি পাবো। '

ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে

news24bd.tv/arkabul