দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত তহশিলদার থানা হেফাজতে
দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত তহশিলদার থানা হেফাজতে

সংগৃহীত ছবি

দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত তহশিলদার থানা হেফাজতে

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে অনিয়ম-দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হওয়া ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মনিরুল ইসলামকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় ভূমি অফিসের সামনেই তাকে আটকে রাখে সাধারণ মানুষ। এ সময় ঘুষের টাকা ফেরত দেয়ার দাবী করে শতাধিক মানুষ। পরিস্থিতির অবনতি হলে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি(এসিল্যান্ড) সালেক মুহিদ পুলিশকে খবর দেন।

পরে পুলিশ এসে তহশিলদার মনিরুল ইসলামকে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।

এর আগে গত ১০ আগস্ট অনিয়ম, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্বেও কোড়ালীয়া স্পীডবোট ঘাটের এক কিলোমিটারের মধ্যে খাস আদায়ের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা, নিয়মবহির্ভূতভাবে কাউখালী মালেকার খাল ও চর ইমারশন স্লইস খালে খাস আদায়ের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ, নিয়মবহির্ভূতভাবে কৃষি খাস জমি একসনা বন্দোবস্ত এবং সরকারী সম্পত্তি যথাযথ ব্যবস্থাপনা না করা ও জেলা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার দায়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম মজুমদার জানান, পাওনা টাকা দাবী করে শতাধিক মানুষ তাকে আটকে রাখে।

উত্তেজিত জনতার সাথে ঝামেলা এড়াতে এসিল্যান্ড মহোদয় পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে।

নিজ হাওলা গ্রামের কামরুল হাসান রুবেল বলেন, মিটিশন করিয়ে দেয়ার কথা বলে ৬ মাস আগে আমার কাছ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে মনির তহশিলদার। মিটিশনও করিয়েও দেয়নি, আর টাকাও দিচ্ছেনা।

ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কালাম মুন্সি জানান, আমার জমি বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলে ইউএনওকে টাকা দিতে হবে বলে আমার কাছ থেকে ১লাখ টাকা নিয়েছে। কিন্তু আমার কাজ করে দেননি।  আমাকে একবছর ধরে ঘোরাচ্ছে। তাই আজ আমরা যারা টাকা পাই তারা টাকা নিতে আসছি।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) সালেক মুহিদ জানান, দুপুরে ৫০-৬০ জন মানুষ এসে আমার কাছে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মহোদয়কেও জানানো হয়েছে।  

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্ণীতির দায়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এদিকে জনগণের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার যে অভিযোগ এসেছে, সে ব্যাপারে তাকে আমরা তলব করবো। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

news24bd.tv/আজিজ