'ক্রেনের চেয়ে গার্ডারের ওজন ছিল ২০ টন বেশি'
'ক্রেনের চেয়ে গার্ডারের ওজন ছিল ২০ টন বেশি'

ফাইল ছবি

'ক্রেনের চেয়ে গার্ডারের ওজন ছিল ২০ টন বেশি'

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

চালক নয়, ক্রেনটি চালাচ্ছিলো চালকের সহকারী।  যে ক্রেন থেকে প্রাইভেটকারের ওপর গার্ডার পড়েছে সেটির সক্ষমতা ছিল ৪৫-৫০ টন। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় ক্রেনে যে গার্ডার ছিল সেটির ওজন ছিল ৬০-৭০ টন। রাজধানীর উত্তরায় প্রাইভেট কারের ওপর নির্মাণাধীন বিআরটি প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহতের ঘটনায় এমন তথ্যই দিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) র‍্যাবের মি‌ডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য দিয়েছেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, ক্রেন চালকের সহকারী রাকিবের ক্রেন চালানোর কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তিনি আরও বলেন, ক্রেনের মূল চালক ছিলেন আল আমিন। তার হালকা যানের লাইসেন্স থাকলেও ভারি যানের লাইসেন্স ছিল না।

এছাড়া ঘটনার দিন ক্রেনটি চালাচ্ছিলেন মূল চালক আল আমিনের সহকারী রাকিব। এবং দীর্ঘদিন ধরেই এই কাজ করে আসছে তারা।

খন্দকার আল মঈন বলেন, থার্ড পার্টি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিল্ড ট্রেড ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেড মাসিক ভাড়ার চুক্তিতে ক্রেনটি সরবরাহ করে। ক্রেনটি আনুমানিক ১৯৯৬-৯৭ সালে আনা হয়েছিল। প্রথমে ক্রেনটির সক্ষমতা ৮০ টন ছিল। পরে আস্তে আস্তে ক্রেনটির সক্ষমতা কমে যায়। সর্বশেষ ক্রেনটির সক্ষমতা ছিল ৪৫-৫০ টন। এছাড়া ২০২১ সালে সর্বশেষ ফিটনেস যাচাই করা হয়, এরপর ক্রেনটির আর ফিটনেস যাচাই করা হয়নি।

খন্দকার আল মঈন বলেন, আমরা গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছি, ক্রেনটির ফিটনেস ছিল না। অতিরিক্ত ভার বহন করায় ক্রেনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ ধরনের গার্ডার শিফট করতে কাউন্টার লোড ব্যবহার করা উচিত ছিল। আরেকটি ক্রেন পাশাপাশি স্ট্যান্ডবাই রাখা উচিত ছিল।

গত সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে উত্তরার প্যারাডাইস টাওয়ারের সামনে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার ছিটকে প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হন। তারা একটি বৌভাতের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন। গাড়িটিতে মোট সাতজন যাত্রী ছিলেন। এরমধ্যে দুই শিশু, দুই নারী ও একজন পুরুষ মারা গেছেন।

এ ঘটনায় নিহতরা হলেন- রুবেল (৫০), ঝর্ণা (২৮), ফাহিমা, জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। গাড়িতে থাকা হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনি (২১) নামে নবদম্পতি বেঁচে যান। গাড়ি চালাচ্ছিলে রুবেল। রুবেলের বাড়ি মেহেরপুরে। এদিন রাতেই উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত ফাহিমা আক্তার ও ঝর্ণার ভাই মো. আফরান মণ্ডল বাবু।

news24bd.tv/FA