শিশু লম্বা হবে যেসব খাদ্যাভাস ও জীবনধারা পরিবর্তনে
শিশু লম্বা হবে যেসব খাদ্যাভাস ও জীবনধারা পরিবর্তনে

সংগৃহীত ছবি

শিশু লম্বা হবে যেসব খাদ্যাভাস ও জীবনধারা পরিবর্তনে

অনলাইন ডেস্ক

শিশু কেন সঠিকভাবে লম্বা হচ্ছে না? এ নিয়ে অভিভাবকগণ বরাবরই টেনশনে থাকেন। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন রাজধানীর মেরাদিয়া, বনশ্রীর ফেমাস স্পোশালাইড হসপিটালের পুষ্টিবিদ শাহনাজ পারভীন 

কারণ
মূলত : বংশগত, হরমোনাল ইমব্যালেন্স ও অপুষ্টিজনিত সমস্যা-এই তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে শিশুর বেড়ে ওঠা বা লম্বা হওয়ার বিষয়টি। স্বাভাবিক অবস্থায় হাড়ের গঠন ও মাংসপেশীর সঠিক গঠনের মাধ্যমে বেড়ে উঠে একটি শিশু। বয়স অনুযায়ী শিশুর মাংসপেশীর গঠন ঠিকমত না হলে আমরা তাকে বলি কম ওজনের শিশু বা ‘ওয়াস্টেড বেবী’।

একই ভাবে হাড়ের সঠিক গঠন ঠিকমত না হলে বলা হয় কম উচ্চতার শিশু বা ‘স্টানটিং বেবী’।  

বোঝার উপায়
গবেষণা বলছে, প্রতি চার হাজার শিশুর মধ্যে গ্রোথ হরমোন সমস্যায় ভোগে ২ জন। এর মধ্যে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি দেখা দেয় ৪ গুণ বেশি। ১০ বছর থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে গ্রোথ হরমোন থেরাপি এবং সঠিক গ্রোথ হরমোন ইনডিউস ডায়েট দেওয়া হলে খাটো ছেলে-মেয়েদের উচ্চতা কিছুটা বাড়ানো যায়।

প্রতি বছর ৫ সেন্টিমিটারের বেশি লম্বা না হলে বুঝতে হবে শিশুটির গ্রোথ হরমোনের সমস্যা আছে। সাধারণত ভিটামিন ‘ডি’, রক্ত ও হরমোন পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায়, শিশুর গ্রোথ ঠিকমতো হচ্ছে কি না। সেক্ষেত্রে হরমোন থেরাপির পাশাপাশি ফুড থেরাপি বা প্রোপার ডায়েটেরি প্লানের মধ্যে আনতে হবে শিশুটিকে।  

খাদ্যাভাস

  • যদি শিশুর ভিটামিন ‘ডি’  লেভেল ২৫ মিলিমল পার লিটার এর কম হয়, তবে অবশ্যই শিশুকে ভিটামিন ‘ডি’ সাপলিমেন্টের পাশাপাশি ভিটামিন ‘ডি’ রিচ ফুড দিতে হবে। এ ধরণের খাবারগুলো হলো:- চর্বিযুক্ত মাছ, মাছের তেল, ডিমের সাদা অংশ, টুনা মাছ, সামুদ্রিক মাছ, কলিজা, কডলিভার ওয়েল, মাসরুম, ছোট চিংড়ি, সয়ামিন, দুধ, মাখন, ঘি, রুপচাঁদা মাছ, বাইলা মাছ, লইটা মাছ, চিনা বাদম, পেসতা বাদাম, আখরোট, কাঠ বাদাম, কিচমিচ, ড্রাই ফ্রুট, পালং শাক, কাঁচা মরিচ, গাজর, পেঁপে, বাঁধা কপি, মিষ্টি আলু, তরমুজ, স্কোয়াস ইত্যাদি।  
  • প্রতিদিনের খাদ্যে তালিকায় রাখতে হবে এবং বেশি করে খাওয়াতে হবে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার। বিশেষ করে ঘি, মাখন, ছানা, পনির, চিজ ইত্যাদি।  
  • বাইরের প্যাকেটজাত খাবার যেমন: চিপস, চকলেট, জুস, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ইত্যাদি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। ঘরের তৈরি খাবারের প্রতি আগ্রহী করে গড়ে তুলতে হবে।  

জীবন ধারা পরিবর্তন
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পাশাপাশি জীবন ধারায় পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন: 

  • সূর্যের আলোতে কমপক্ষে ৩০ মিনিট কোন ধরণের সান প্রটেকশন ছাড়া শিশুকে খেলাধুলা করাতে হবে। কারণ ৮০ ভাগ ভিটামিন ‘ডি’ শরীরেই উৎপাদন হয়।  সূর্যের আলো এবং ভাল কোলেস্টেরল একসাথে বিক্রিয়া করে ত্বকে ভিটামিন ‘ডি’ তৈরি করে। যা পরবর্তিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম শোষনে সহায়তা করে। এতে করে BMD (Bone Mineral Density) বা হাড়ের গঠন মজবুত করে শিশুকে উচ্চতায় বাড়তে সহায়তা করে।  
  • শিশুর সঠিক ঘুমের সঙ্গে লম্বা হওয়ার একটি ভাল সম্পর্ক রয়েছে। এজন্য অবশ্যই দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘন্টা ঘুমানো নিশ্চিত করতে হবে। শিশুটি যখন ঘুমাতে থাকে তখন মস্তিস্কের ভেতর বা Base of the brain এর মধ্যে অবস্থিত মোটর দানার আকারের পিটুইটারি গ্লান্ড বেশি অ্যাকটিভ থাকে। শিশুটি যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন এই গ্লান্ডের এন্টেরিয়ার অংশ হতে গ্রোথ হরমোন বেশি পরিমাণে রিলিজ হয়। ফলে হাড়ের গঠন ভাল হয় এবং শিশুটি লম্বা হয়।  

সঠিক খাদ্যাভাস ও জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনার সন্তান বেড়ে উঠুক বুদ্ধিতে ও বৃদ্ধিতে।

 news24bd.tv/arkabul