মায়ের বিরুদ্ধে সন্তান হত্যার অভিযোগ, মামলা নেয়নি পুলিশ
মায়ের বিরুদ্ধে সন্তান হত্যার অভিযোগ, মামলা নেয়নি পুলিশ

মায়ের বিরুদ্ধে সন্তান হত্যার অভিযোগ, মামলা নেয়নি পুলিশ

শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুরের শ্রীবরদীতে মায়ের বিরুদ্ধে শিশু সন্তানকে হত্যার অভিযোগ করেছে শিশুটির বাবা আমিন মিয়া। ১৯ আগস্ট শুক্রবার রাতে উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের চরহাবর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আমিন মিয়ার পরিবারের অভিযোগ, এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে অভিযোগ নেয়নি শ্রীবরদী থানা পুলিশ। এমনকি আদালতে মামলা করলেও কোন সহযোগিতা করা হবে না বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার বিশ্বাস।

শুক্রবার রাত সোয়া দুইটার দিকে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এই অভিযোগ করে থানায় মামলা করতে আসা আমিন মিয়া ও তার পরিবার।

শ্রীবরদীতে অগ্নিকাণ্ডে বসতবাড়ি পুড়ে ছাই ও এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ শেষে থানা পুলিশের বক্তব্য নিতে শ্রীবরদী থানায় গণমাধ্যমকর্মীরা গেলে, এসব অভিযোগ করেন তারা। এ সময় অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে তার বক্তব্য নিতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে কল করেও পাওয়া যায়নি ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাসকে।

তাদের অভিযোগ, থানায় মামলা না নিয়ে বরং খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে তাদের সাথে। আদালতে মামলা করলেও কোন সহযোগিতা করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
 
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীর ফোনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, “শিশুটির বাবা ভালো লোক নয়। সে তিন বছর তাদের কোন খোঁজ খবর না নিয়ে এখন আসছে মায়া কান্না করতে। ”

মামলা কেন নেয়া হয়নি, এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চাকরি চলে গেলেও শিশুটির বাবার বিষয়ে কোন কথা বলে সময় নষ্ট করতে চাই না। আপনার (সাংবাদিকের) সময় অনেক, আপনি এ বিষয়ে কথা বলতে পারেন। আমার সময় নেই, আমি কথা বলতে চাই না। পারলে আপনারা তদন্ত করেন গিয়ে। ”

স্থানীয়রা জানায়, গত পাঁচ বছর আগে ভেলুয়া ইউনিয়নের নুরু মিয়ার ছেলে স্থানীয় আমিন মিয়ার সাথে একই এলাকার ইছাহাক আলীর মেয়ে রত্না আক্তারের বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য কলহ চলছিলো। শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে এ বিষয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করলেও আমিন মিয়ার পরিবার অনুপস্থিত ছিলো। আজ শনিবার তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা ছিলো বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য সুলতান সরকার।

এদিকে শুক্রবার রাতে রত্না আক্তারের বাবার বাড়িতে গোয়াল ঘরে দেয়া ধোঁয়া থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে গোয়াল ঘরসহ দুইটি বসত ঘর পুড়ে যায়। পরবর্তীতে গোয়াল ঘরে তাদের চার বছরের শিশু ইসমাঈলের মরদেহ পাওয়া যায়। তবে শিশুটির বাবা আমিন মিয়ার অভিযোগ, দাম্পত্য কলহের কারণে তালাকের পর যাতে কোন সমস্যা না হয়, এজন্য শিশুকে পুড়িয়ে মেরেছে শিশুটির মা রত্না আক্তার।

news24bd.tv/FA