বিরোধিতার পরও ইভিএম নিয়ে ইসির ‘পরিকল্পনা’ চূড়ান্ত
বিরোধিতার পরও ইভিএম নিয়ে ইসির ‘পরিকল্পনা’ চূড়ান্ত

প্রতীকী ছবি

বিরোধিতার পরও ইভিএম নিয়ে ইসির ‘পরিকল্পনা’ চূড়ান্ত

আরেফিন শাকিল

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নেয়ার পর কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশনের দৃশ্যমান কাজের মধ্যে সব চাইতে বেশি সময় ব্যয় করেছে ভোটে ইভিএম ব্যবহার সিদ্ধান্ত গ্রহণে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা প্রশ্নে মতামত নিতে ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপে বসে আউয়াল কমিশন।

সেই সংলাপে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করে বিএনপিসহ অন্তত ১১টি দল অংশ নেয়নি, যোগ দেয়া ২৮টি দলের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল ও গণতন্ত্রী পার্টি আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে ইভিএমে ভোট চায়। এছাড়া তরিকত ফেডারেশন, জাতীয় পার্টি- জেপি, বিএনএফ, জাকের পার্টি, বিকল্পধারা ও এনপিপি’র ইভিএম নিয়ে তাদের কিছু আপত্তির কথা বললেও ভোটে ব্যবহারের পক্ষে অবস্থানের কথা জানায়।

কিন্তু সংলাপে যোগ দেয়া বাকী ১৮টি দল দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে বিরোধিতা করে। সব মিলিয়ে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করা রাজনৈতিক দলের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯-এ। সূচিবিহীন কমিশনের দ্বিতীয় দফার সংলাপেও ইভিএম ব্যবহারের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল তাদের আপত্তির কথা তুলে ধরে।

তবে, ইসি সচিবালয়ের একটি সূত্র নিউজ টোয়েন্টিফোর’কে নিশ্চিত করেছে, আগামী সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৮০ আসনে ইভিএম ব্যবহার করতে ইসি যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে।

সরকারের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেলে আসনের সংখ্যা আরও বাড়বে।

রোববার নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘ইভিএম ব্যবহার হবে। কিন্তু কত আসনে হবে সেই বিষয়ে আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। আমরা আলোচনা করছি। আমাদের সক্ষমতা কত আছে, জনবল কত আছে, কত ইভিএম আছে, এগুলো দিয়ে কত আসনে ভোট করা যাবে। যদি আরও বেশি করতে চাই, কত ইভিএম লাগবে, কত টাকা লাগবে। সময় কেমন আছে। এসব নিয়ে আলোচনা চলছে। এমাসে একটা ফাইনাল হবে আশা করছি’।

বিএনপি সংলাপে অংশ না নেয়ায় তাদের বক্তব্য আমলে নেয়ার সুযোগ নেই জানিয়ে কমিশনার মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, কারচুপির অভিযোগ প্রমাণিত নয়। যতক্ষণ না আপনি প্রমাণ দেবেন ইভিএমে কারচুপি করা যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত তো আমি এটা বিশ্বাস করবো না। ভোটে কেউ ৩০০ আসনে ইভিএম চায়, কেউ আবার একটিতেও না। ইসি সবার কথা সমানভাবে গুরুত্ব দিতে পারবে না।

ইসি সচিবালয়ের সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৭৯১টি নির্বাচনে ভোট হয়েছে ইভিএমে। এর মধ্যে শুধু চলতি বছরে ইভিএমে ভোট হয় ৪০৬টি নির্বাচনে। এসব নির্বাচনে অনেক এলাকায় নৌকার প্রার্থী হারলেও ইভিএম নিয়ে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের মধ্যে সন্দেহ-সংশয়-আস্থাহীনতা কাটেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নির্বাচন কমিশনার নিউজ টোয়েন্টিফোর’কে জানান, ‘নির্বাচন নিয়ে এখন মাঠ পর্যায়ের যে পরিস্থিতি তাতে ব্যালটে ভোট হলে তা কন্ট্রোল (নিয়ন্ত্রণ) করা কমিশনের পক্ষে খুবই কঠিন। শুধু সিসিটিভি চালু করে ভোট সুষ্ঠু করা সম্ভব না। প্রশাসনের কথা বাদই দিলাম। যন্ত্রটা নিয়ে যতই বিরোধিতা হোক ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, সুষ্ঠু নির্বাচন করা নিয়ে আমাদের যেই নিয়ত, সেটা পূরণ করতে হলে যেভাবে হোক ইভিএমে ভোটটা করতেই হবে।

জানা গেছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে দুইজন নির্বাচন কমিশনার বেশ সরব। তাঁদের যুক্তি, যন্ত্রে ভোট হলে বিতর্কমুক্ত থাকবে কমিশন।

২০০৭ সালে সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের সময় গঠিত এ টি এম শামসুল হুদার কমিশন প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে ভোটে ইভিএমের ব্যবহার শুরু করে। যা নিয়ে তখনই রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে রকিব উদ্দিন কমিশন তা নিয়ে খুব একটা কাজ করেনি। তবে, নানা বিরোধিতার পরও এই যন্ত্রে ভোট নেওয়ার ওপর বেশি জোর দেয় কে এম নুরুল হুদার নির্বাচন কমিশন। যা অব্যাহত রেখেছে বর্তমান আউয়াল কমিশন। কমিশনের ধারাবাহিক এমন ’আগ্রহ' নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে বিএনপিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল। বিশেষ করে, সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টির মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নু ইসির সংলাপে ভোটে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে তাদের আপত্তির কথা জানায়। তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি চায় না আগামী নির্বাচনে ইভিএমে ভোট হোক’।

news24bd.tv/FA