কৃষকের বীজতলা নষ্ট করে হচ্ছে গৃহহীনদের ঘর 
কৃষকের বীজতলা নষ্ট করে হচ্ছে গৃহহীনদের ঘর 

সংগৃহীত ছবি

কৃষকের বীজতলা নষ্ট করে হচ্ছে গৃহহীনদের ঘর 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠির রাজাপুরে গৃহহীনদের জন্য সরকারের উপহারের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে কৃষকের আবাদি জমির বীজতলা নষ্ট করে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে গ্রামের প্রায় ২০ কৃষক পরিবার। বীজতলা নষ্ট করে ঘর তৈরী করা হলে অনাহারে থাকতে হবে তাদের। তাই আবাদি জমির বীজ যাতে নষ্ট না করা হয় সে দাবী জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

তবে বেকু দিয়ে বীজতলা নষ্ট করে মাটি কাটার প্রমাণ দেখালেও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রাজাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনুজা মন্ডল।

সরেজমিন গেলে সাংবাদিকদের সামনে জড়ো হন সেখানকার পঞ্চাশোর্ধ বহু মানুষ। সবার মুখে একই কথা, বিগত ২’শ বছর ধরে এই সকল আবাদি জমি আমাদের পূর্বপুরুষরা ভোগ দখল করেছে এবং সে অনুযায়ী বংশ পরাম্পরায় এখন আমরা এসব জমি চাষাবাদ ও ভোগদখল করে আসছি। এসব জমির সিএস, আরএস এবং এসএ দাখিলা সহ যাবতীয় রেকর্ডীয় মালিকানার কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে।

কিন্তু বিএস রেকর্ডে এই জমির মালিক সরকার। এসব জমি নিয়ে আদালতে রেকর্ড সংশোধনের মামলাও চলমান রয়েছে। মামলার ফয়সালা না করে কৃষকের রোপিত বীজতলা নষ্ট করে সরকারি ঘর তৈরী শুরু করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

ভুক্তভোগী কৃষক মো. সেলিম বলেন, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া এই জমিতে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও জমিতে বীজতলা তৈরি করি এবং চাষাবাদ শুরু করি। হঠাৎ করে একটি ভেকু আমার জমিতে প্রবেশ করে বীজতলা সহ জমির মাটি কাটা শুরু করে। এমন খবর শুনে আমি সহ অন্য কৃষকরা জমিতে গিয়ে জানতে পারি ইউএনও অফিসের নির্দেশে আমার চাষের জমিতে মাটি কাটা হচ্ছে।
এ ছাড়াও লাভলু হাওলাদার, মোঃ রহমান মাস্টার, উজ্জল তেওয়ারীসহ একাধিক ভুক্তভোগী জমির মালিক জানান, কোন প্রকারের নোটিশ ছাড়াই আমাদের বীজতলা নষ্ট করে মাটি কাটার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

চাষী শাহ জামাল ও নাসিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন এ বছর আমাদের মনে হয় না খেয়েই থাকতে হবে। জমিগুলো যেনো খাস খতিয়ানে না নিয়ে যান এবং আবাদী জমিগুলো নষ্ট করে জীবিকা নির্বাহের পথ বন্ধ না করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সু-দৃষ্টির প্রার্থনা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে রাজাপুর সহকারী কমিশনার ভুমি অনুজা মন্ডল বলেন, এই জমিতে মামলা চলমান আছে, কিন্তু মামলায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। মুজিব বর্ষের ঘর নির্মাণের জন্য আমাদের এই খাস জমিটার প্রয়োজন তাই এখানে মাটি ও বালু ভরাট করে কাজ শুরু করেছি। যে জমিটায় আমরা কাজ করছি সেখানে কোনো বীজ রোপণ করা ছিলোনা এবং কোনো চাষও দেওয়া হয়নি। অবশ্যই আমরা কৃষি জমি নষ্ট করতে চাইনা, কিন্তু যে মানুষটার একেবারেই কিছু নেই সেই মানুষটার কথাও আমাদের ভাবতে হবে।

news24bd.tv/আজিজ