নিরাপত্তা বেষ্টনীর বালাই নেয় নতুন ভবন নির্মাণে
নিরাপত্তা বেষ্টনীর বালাই নেয় নতুন ভবন নির্মাণে

হেলমেট ছাড়া কাজ করছেন দুই শ্রমিক

নিরাপত্তা বেষ্টনীর বালাই নেয় নতুন ভবন নির্মাণে

তালুকদার বিপ্লব

নতুন ভবন নির্মাণে শ্রমিক এবং পথচারীদের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মানছেন না অনেক ভবন মালিক এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি বড় বড় ডেভেলপার কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ ভবন মালিকরা কোন আদর্শ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করছে না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র আতিকুল ইসলাম ।

দশ তলা ভবনের মাথায় দুই সারিতে- বাঁশের তৈরি ঝুলন্ত মাচায় বসে দেয়ালে প্লাস্টারের কাজ করছেন মিজান ,আরাফাতসহ আরও চারজন। এক হাতে শক্ত করে ধরেছেন মাচার দড়ি, অন্য হাতে নির্মাণ সামগ্রী। আর নিচে অবাধে চলাচল করছেন নারী-পুরুষসহ স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকার বিষয়ে এক নির্মাণ শ্রমিক বলেন, ‘আমি হেলমেট ছাড়া কাজ করতে পারব না বলে জানিয়েছিলাম।

তখন আমাকে বলা হয়, কর দু-এক দিন পরে কিনে দেব।  এখন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। ’ 

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোন নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই চলছে বহুতল ভবন নির্মাণকাজ। ফলে মাঝে মধ্যে বড় দুর্ঘটনায় শ্রমিক-পথচারীদের অঙ্গহানির ঘটনা ঘটছে। এমনকি চলতি আগস্ট মাসেই নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে কিংবা কাজের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক শ্রমিক।

নিরাপত্তার বিষয়ে পথচারীরা বলেন, এই মাত্র মোটরসাইকেল রাখলাম এখানে। কোন নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় এখানে বিল্ডিং নির্মাণ করা হচ্ছে তা খেয়াল করিনি। নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান ওই পথচারী।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড-বিএনবিসিতে বলা আছে, নির্মাণ শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাথায় হেলমেট, কোমরে সেফটি বেল্ট, ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহারের কথা। এছাড়া নির্মাণ কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নাইলনের জাল দিয়ে পুরো ভবন ঢেকে দেয়া। সড়ক থেকে কমপক্ষে ১ দশমিক ৫ মিটার দূরত্বে নির্মাণাধীন ভবনকে অবশ্যই ২ দশমিক ৪ মিটার বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রাখতে হবে। ভবনের চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা রেখে টিন দিয়ে অস্থায়ী ছাদ বানানোর বিধিও আছে কাগজে কলমে।

বিল্ডিং নির্মাণের সময় নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর  সহকারী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজ বলেন, নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে যিনি ভবন নির্মাণ করছেন তিনিও অনিরাপদ থাকছেন। এমনকি ভবন নির্মাণের সময় উপর থেকে বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী পড়ে পথচারী আহত হচ্ছেন। ফলে সড়কে নিরাপত্তায় বিঘ্ন হচ্ছে।

তবে এর ব্যতিক্রমটাই যেন বেশি চোখে পড়ে রাজধানী জুড়ে। তাই রাজউককে সাথে নিয়ে এ ধরনের ভবন নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামার কথা জানালেন ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে রাজউকের চেয়ারম্যানকে এ বিষয়টি বলেছি। এমনকি সব ডেভেলমেন্ট এজেন্সিকে বলেছি। যে কোনও সময় যে কোনও জায়গায় আমরা চলে যাব। গিয়ে যদি দেখি, নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়ায় ভবন নির্মাণ হচ্ছে তাহলে ভবন মালিককে জরিমানা করা হবে। ’

 বাংলাদেশ জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী,  আইন না মেনে ভবন নির্মাণকালে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তার সব দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারীকে বহন করতে হবে।

news24bd.tv/হারুন