বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে কোনো ‘ভুল চিকিৎসা' হয়নি
বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে কোনো ‘ভুল চিকিৎসা' হয়নি

সংগৃহীত ছবি

দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসকদের মতামত

বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে কোনো ‘ভুল চিকিৎসা' হয়নি

অনলাইন ডেস্ক

সম্প্রতি বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে একজন রোগীর ভুল চিকিৎসা বিষয়ে অভিযোগ ওঠে এবং কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদও পরিবেশিত হয়। উক্ত হাসপাতালের গ্যাস্ট্রো অ্যান্টারোলজি এন্ড হেপাটোলজি বিভাগের কনস্যালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. এম এস আরেফিন কর্তৃক রোগী মেহবিশ জাহানের কথিত ‘ভুল চিকিৎসা’ সংক্রান্ত বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে। হাসপাতালটির পরিচালক ও সিইও আল ইমরান চৌধুরীর সাক্ষরে পাঠানো ব্যাখ্যায় যা বলা হয়েছে তা হলো : 

প্রখ্যাত গ্যাস্ট্রো অ্যান্টারোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. এম এস আরেফিনের নিকট উক্ত রোগী মেহবিশ জাহান গত ৫ বছর যাবৎ চিকিৎসা নিয়ে আসছেন। তার অগ্নাশয়ে সিস্ট থাকায় রোগী ও অভিভাবকদের মতামত নিয়ে চিকিৎসাশাস্ত্রের সব ধাপ অনুসরণ করে অ্যান্ডোসকপি প্রসিডিউরের মাধ্যমে ড্রেইনেজের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

অগ্নাশয়ে কোন ধরনের সিস্ট থাকলে অ্যান্ডোসকপির মাধ্যমে গ্যাস্ট্রো অ্যান্টারোলজিস্টগণই ড্রেনেজ করে থাকেন। এ ধরনের প্রসিডিউর করার সময় কখনো কখনো জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

প্রসিডিউরের পূর্বে এই পদ্ধতির জটিলতা সম্পর্কে রোগীপক্ষকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। অধ্যাপক এম এস আরেফিন উক্ত রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ধরণের অবহেলা/অসচেতনতা/ পেশাদারিত্বের ঘাটতি/গাফিলতা করেননি।

উক্ত প্রসিডিওরে যে কিছুটা জটিলতা হয়ে থাকতে পারে, সে ব্যাপারেও নিয়ম অনুযায়ী ‘রিস্কবন্ড’ নেয়া হয় রোগীর স্বামী আহনাফের কাছ থেকে।

প্রসিডিউর করার সময় অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হলে সাথে সাথে অ্যান্ডোসকপির মাধ্যমে তা বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। তারপরও রক্ত বন্ধ না হওয়ায় এবং রোগীর প্রেশার কমে যাওয়ায় ‘কোড ব্লু' কল করা হয়। দ্রুত হেপাটোবিলিয়ারি সার্জন ডা. ইমরুল হাসান খানকে কল করা হয় এবং একই সময়ে সাময়িক সাপোর্টের জন্য আইসিইউ প্রস্তুত করা হয়। রোগীকে আইসিইউতে নেয়ার সময় সার্জন ইমরুল হাসান এসে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রোগীর জীবন রক্ষার্থে যা যা করণীয় তা সফলভাবে করেন। এরপর রোগীর অপারেশনের পর কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে আইসিইউতে পাঠান। দুই দিন পর রোগীর অবস্থার বেশ উন্নতি ঘটলে এইচডিইউতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ঝুঁকিমুক্ত হবার পরই রোগী ডিসচার্জ গ্রহণ করে বাসায় চলে যায়। এসময় রোগী ও রোগীর লোকজন চিকিৎসকদের ধন্যবাদও জানান। গত ২১ আগস্ট হাসপাতালে ফলোআপ করতেও আসেন উক্ত রোগী। তখনও রোগী বা অভিভাবকদের পক্ষ থেকে কোনো রকমের অভিযোগ বা অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়নি।

চিকিৎসায় গাফিলতি বা ভুল ছিল না
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ভুল চিকিৎসা সংক্রান্ত অপপ্রচার দৃষ্টিগোচর হলে রোগীর অভিভাবকদের অপপ্রচারের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবার প্রয়োজন মনে করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ প্রেক্ষিতে আজ ১ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশের প্রখ্যাত গ্যাস্ট্রো অ্যান্টারোলজিস্ট, হেপাটোলজিস্ট এবং হেপাটোবিলিয়ারি সার্জনদের নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। রোগী মেহবিশ জাহানের প্রসিডিউর বিষয়ে বিস্তারিত শোনার পর দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসকগণ সম্মিলিতভাবে তাদের মতামত দিয়েছেন যে, এই রোগীর প্রসিডিউর যেভাবে করা হয়েছে, প্রসিডিউর কালীন যে সমস্যা হয়েছে, এরপর যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে-তার সবই আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড মেনে করা হয়েছে। এই ব্যাপারে চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনোরূপ গাফিলতি বা ভুল ছিল না।

বৈঠকে অভিমত দেওয়া বাংলাদেশের প্রখ্যাত গ্যাস্ট্রো অ্যান্টারোলজিস্ট, হেপাটোলজিস্ট এবং হেপাটোবিলিয়ারি সার্জনদের মধ্যে রয়েছেন, অধ্যাপক এ কিউ এম মহসিন, অধ্যাপক আনিসুর রহমান, অধ্যাপক এস এম এ রায়হান, অধ্যাপক হাসান মাসুদ, অধ্যাপক এ এইচ এম রওশন, অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক ফারুক আহমেদ, অধ্যাপক স্বপন চন্দ্র ধর, অধ্যাপক হাসান মাসুদ, অধ্যাপক ব্রিগে. জেনারেল বাহার হোসেন, অধ্যাপক তারেক মাহমুদ ভুঁইয়া, অধ্যাপক তৌহিদুল করিম, অধ্যাপক শাহিনুল আলম, অধ্যাপক গোলাম আজম, অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ খান, অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, ডা. ফাওয়াজ হোসেন শুভ, ডা. মাসুদুর রহমান, ডা. তাজিন আফরোজ শাহ প্রমুখ।   

news24bd.tv/desk

সম্পর্কিত খবর