আইসিসিবিতে প্রদর্শনী শুরু
আইসিসিবিতে প্রদর্শনী শুরু

টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্প

আইসিসিবিতে প্রদর্শনী শুরু

অনলাইন ডেস্ক

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান সরকার শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন-নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে সরকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিশ্চয়তাসহ অবকাঠামো উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। উন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার রূপকল্প বাস্তবায়নে পোশাক শিল্পকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

বুধবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ‘২১তম টেক্সটেক বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো-২০২২’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক)।

একই সঙ্গে আইসিসিবি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘১৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক ইয়ার্ন অ্যান্ড ফ্যাব্রিক শো ২০২২’-সামার এডিশন এবং ‘৪০তম ডাই + ক্যাম বাংলাদেশ ২০২২ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো’।

৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। সেমস-গ্লোবালের সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেরুন এন. ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও ভারতের সিন্থেটিক অ্যান্ড রেয়ন টেক্সটাইল এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের (এসআরটিইপিসি) চেয়ারম্যান ধীরাজ রাইচাঁদ শাহ।

সেমস-গ্লোবাল আয়োজিত এই ধরনের প্রদর্শনী খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে পাটমন্ত্রী বলেন, আশা করছি এই প্ল্যাটফরম দেশি-বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণ, দ্রুত শিল্পায়ন, পণ্যের বহুমুখীকরণ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।

বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের মধ্যে অন্যতম নিরাপদ দেশ। সরকার, আইএলও ও ক্রেতাদের সহযোগিতায় আমরা ফ্যাক্টরি পর্যায়ে সর্বোচ্চ নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করেছি। আমাদের ফ্যাক্টরিগুলো এখন অনেক বেশি ডায়নামিক, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। এখানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ১৬৮টি উচ্চ মানের গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে। আরও অনেক ফ্যাক্টরি গ্রিন ফ্যাক্টরি হিসেবে সার্টিফিকেশনের অপেক্ষায় আছে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আমাদের গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি ৪০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাতে পরিণত হয়েছে।

৪০ বছরের পথচলায় বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অ্যাপারেল রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। পোশাক খাতে বিদেশিদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নন-কটন টেক্সটাইলে আমাদের বড় সুযোগ রয়েছে। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর আমরা পোশাক উৎপাদনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই সেক্টরে টিকে থাকতে হলে নতুন নতুন উদ্ভাবনা ও প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে। বাইরের জগতের কাছে বাংলাদেশকে নতুনভাবে ব্যবসাবান্ধব দেশ হিসেবে উপস্থাপনে এই ধররে প্রদর্শনী বড় অবদান রাখবে এবং শিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।

মেহেরুন এন ইসলাম বলেন, আমাদের রপ্তানির ৮০ ভাগ আসে পোশাক খাত থেকে। করোনার কারণে ২০২০ সালে টেক্সটেক প্রদর্শনীর আয়োজন করা যায়নি। ২০২১ সালে ভার্চুয়ালি আয়োজন করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। দুই বছর পর আবার পুরোপুরি এ আয়োজন করতে পারলাম। প্রদর্শনীতে ৪৩০টি বুথে ১২টি দেশের ৩৫০টির বেশি কোম্পানি অংশগ্রহণ করেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাকে এক প্ল্যাটফরমে নিয়ে আসতে এ আয়োজন। এখানে ৪৫-৪৭টি হাইব্রিড বুথ আছে। তাদের সব ম্যাটেরিয়ালস বাইরে থেকে বাংলাদেশে এসেছে। এসব বুথে জুম কানেকশন রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের বাইরে থেকেও যে কেউ জুমের মাধ্যমে প্রদর্শনীতে অংশ নিতে পারবে। এই শিল্পের অত্যাধুনিক এবং নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য এটি একটি ওয়ান-স্টপ প্ল্যাটফরম। এ ছাড়া ‘টেক্সটেক’ বিজনেস টু বিজনেসের সুযোগ বয়ে আনবে। প্রদর্শনীতে টেক্সটাইল মেশিনারি, এমব্রয়ডারি মেশিন, সাকুর্?লার নিটিং মেশিন, অ্যাপারেল মেশিনারি, অ্যাপারেল সেলাই রিলেটেড ইকুইপমেন্ট, ট্রিম ম্যানুফ্যাকচারার ও ডিজিটাল প্রিন্টিং মেশিন সম্পর্কিত নানা যন্ত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ১৮তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক শোতে সুতা, ফেব্রিক, ট্রিমসসহ সংশ্লিষ্ট নানা সরঞ্জাম এবং ডাই + ক্যাম শোতে টেক্সটাইল এবং গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রির জন্য সব ধরনের রঞ্জক পদার্থ, বিশেষ রাসায়নিক দ্রব্য, প্রসেস ইন্ডাস্ট্রির জন্য আধুনিক এবং নতুন নানা প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

এই রকম আরও টপিক