ইউক্রেনকে কোন দেশ কী অস্ত্র দিয়েছে!
ইউক্রেনকে কোন দেশ কী অস্ত্র দিয়েছে!

সংগৃহীত ছবি

ইউক্রেনকে কোন দেশ কী অস্ত্র দিয়েছে!

অনলাইন ডেস্ক

ইতোমধ্যে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ছয় মাস অতিক্রম হয়ে গেছে। অনেকেরই ধারণা ছিল খুব দ্রুতই ইউক্রেনকে পর্যদুস্ত করতে পারবে রাশিয়া। তবে বাস্তবে তা হয়নি, রাশিয়ার ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে এখনো প্রতিরোধ করে যাচ্ছে ইউক্রেন। তবে এই প্রতিরোধে ইউক্রেনকে সব ধরনের সাহায্য করে আসছে আমেরিকা ও ন্যাটোর মিত্র দেশগুলো।

ইউক্রেনকে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে আমেরিকা-ব্রিটেনসহ ৩০টির বেশি দেশ।  

কোন দেশ সবচেয়ে বেশি অস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে?

সতন্ত্র দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসে ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দেয় বাইডেন প্রশাসন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য এবং সহায়তার দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে পোল্যান্ড।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আরও সাহায্যের আবেদন করেছেন। তার দাবি, যুদ্ধে ইউক্রেনকে প্রতিমাসে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হচ্ছে।

কোন ধরনের অস্ত্র সহায়তা দেওয়া হয়েছে?

সামরিক পেশাদারদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রশস্ত্রের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তা প্রয়োজন। তাদের মতে কোনো একটি অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধে সাফল্য লাভ করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার বেশি কার্যকর। তবে বেশ কয়েকটি অস্ত্র এখন পর্যন্ত যুদ্ধে মূল ভূমিকা পালন করছে বলে মত তাদের।

দূরপাল্লার রকেট

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে ইউক্রেনের আরও ভালো কামান ও গোলাবারুদ প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র অন্তত একডজন দূরপাল্লার রকেট লঞ্চার ইউক্রেনে পাঠিয়েছে। ইউরোপীয় বেশ কয়েকটি দেশও এ অস্ত্র পাঠিয়েছে ইউক্রেনে।

যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো রকেটলঞ্চারগুলো হলো M142 হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম বা হাইমার্স। এছাড়া রয়েছে M270 MLRS। ইউক্রেনকে দেওয়া এই অস্ত্র দুটির প্রায় ৫০ মাইল বা ৮০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যে আঘাত করার সক্ষমতা রয়েছে। আরও আছে M777 হোইৎজার যা ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরে আঘাত করতে পারে।  

রাশিয়া ব্যবহার করে BM-30 Smerch যা ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত করতে সক্ষম। হোইৎজার 2A36 এর লক্ষসীমা ৪০ কি.মি আর হোইৎজার D-30 এর লক্ষ্যসীমা ২২ কি.মি.। রাশিয়ার ব্যবহৃত সিস্টেমের তুলনায় ইউক্রেনের অস্ত্র অনেক নির্ভুল ও দূরপাল্লার।

হাইমার্স কতদূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে তা নির্ভর করে এতে ব্যবহৃত রকেট বা গোলাবারুদের ওপর। তবে ধারণা করা হয়, দীর্ঘ পরিসরে আঘাত করার গোলাবারুদ সরবরাহ করেনি দেশগুলো।  


হোইৎজার 

জুলাইয়ের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  ইউক্রেনে ১০০টির বেশি M777 হোইৎজার ও ৩ লক্ষ রাউন্ড ১৫৫ মি.মি. গোলা পাঠিয়েছে। ইউক্রেনকে দেয়া M777 হোইৎজার এর লক্ষসীমা রাশিয়ার হোইৎজার 2A36 এর মতোই তবে রাশিয়ার D30 এর থেকে অনেক বেশি।

অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক অস্ত্র

অন্তত ৫ হাজার কাঁধে চালিত Nlaw ক্ষেপনাস্ত্র দেয়া হয়েছে ইউক্রেনকে। এর একটি গুলি একটি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট।
যুদ্ধ শুরুর দিকে কিয়েভের দিকে আসা রাশিয়ান সামরিক বহরকে আটকে দেয়ায় কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে এই অস্ত্র।  


ট্যাংক


পোল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্র ২৩০টিরও বেশি Warsaw Pact-designed ট্যাঙ্ক দিয়েছে ইউক্রেনকে।

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী কয়েক দশক ধরেই T-72 ট্যাংক ব্যবহার করে আসছে এবং প্রশিক্ষিত ক্রু ছাড়াও তাদের রক্ষণাবেক্ষণ এবং খুচরা যন্ত্রাংশের ক্ষমতা রয়েছে।


ড্রোন


এখন পর্যন্ত যুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে ড্রোন। নজরদারি, লক্ষ্যবস্তুুতে অঘাতের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন।

সম্প্রতি তুরস্ক ইউক্রেনের কাছে Bayraktar TB2 সশস্ত্র ড্রোন বিক্রি করেছে।  

বিশ্লেষকরা বলছেন, Bayraktar TB2 অত্যন্ত কার্যকরী, লেজার-গাইডেড বোমা দিয়ে রাশিয়ান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এই ড্রোন প্রায় ২৫ হাজার ফুট উপরে উড়তে সক্ষম।

ইউক্রেন বাহীনি ড্রোনগুলো দিয়ে রাশিয়ান হেলিকপ্টার, নৌযান এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করতে পেরেছে বলে ধারণা করা হয়।  

এগুলি নির্ভুলভাবে শত্রুপক্ষের অবস্থান সনাক্ত করতে সক্ষম।

আকাশ প্রতিরক্ষা

যুদ্ধে ইউক্রেনের আকাশসীমার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি রাশিয়া। আকাশসীমার প্রতিরক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে উন্নত প্রযুক্তির সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম NASAMS পাঠিয়েছে। এছাড়া স্লোভাকিয়া দিয়েছে এস-৩০০ এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা।

সূত্র: বিবিসি

news24bd.tv/আজিজ