করোনার ধাক্কায় বন্ধই হয়ে গেল ১৮৬ বছরের পুরনো চিড়িয়াখানা 
করোনার ধাক্কায় বন্ধই হয়ে গেল ১৮৬ বছরের পুরনো চিড়িয়াখানা 

সংগৃহীত ছবি

করোনার ধাক্কায় বন্ধই হয়ে গেল ১৮৬ বছরের পুরনো চিড়িয়াখানা 

অনলাইন ডেস্ক

করোনা গেলেও এর রেশ এখনও যে রয়ে গেছে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ব্রিস্টনের ১৮৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘ব্রিস্টল জু’। লকডাউন ও করোনা পরিবর্তী সময়ে একেবারেই কমে গিয়েছিল ওই চিড়িয়াখানার দর্শকসংখ্যা। খরচ চালাতে না পেরে বাধ্য হয়েই তাই চিড়িয়াখানাটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলেন কর্তৃপক্ষ।

ইংল্যান্ডের দক্ষিণ পশ্চিমে ব্রিস্টলে চিড়িয়াখানাটি তৈরি হয় ১৮৩৬ সালে।

এত দিন এটি ছিল পৃথিবীর পঞ্চম প্রাচীনতম চিড়িয়াখানা। দীর্ঘ এই সময়ে ইতিহাসে কম টানাপড়েন দেখেনি এই চিড়িয়াখানা। বিশ্বযুদ্ধের সময় পশুদের স্থানান্তরিত করতে হয়েছিল। তবু বন্ধ হয়ে যায়নি এই প্রতিষ্ঠান।
কিন্তু সামলানো যায়নি করোনার ধাক্কা। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আর্থিক ভার বহন করতে না পারার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি চিড়িয়াখানার কিছু জমি বিক্রি করে প্রতিষ্ঠান চালানোর চেষ্টা করেছিলেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দিতে হলো বহু ঐতিহাসিক উত্থান-পতনের সাক্ষী এই প্রতিষ্ঠান। জানা গেছে, চিড়িয়াখানার জায়গায় গড়ে উঠবে বহুতল।

চিড়িয়াখানার সাবেক পরিচারক জন প্যাটরিজ  ৥ সংগৃহীত

চিড়িয়াখানার সাবেক পরিচারক জন প্যাটরিজ কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে বেশ মর্মাহত। ১৯৭৫ সাল থেকে প্রায় ৪৫ বছর ব্রিস্টলের এই ঐতিহাসিক চিড়িয়াখানায় পশুদের দেখাশোনা করা প্যাটরিজ বলেছেন, সত্যি বলতে আমি ভেঙে পড়েছি। এটা দেখতে খুব সুন্দর ছিল। সবাই খুব ভালোবাসত এই জায়গা। আমার মনে হয়, মানুষ এই জায়গার অভাব অনুভব করবে।

শনিবার ব্রিস্টলের এই চিড়িয়াখানায় শেষবার দর্শনার্থীরা ঢোকার সুযোগ পায়। শেষ বারের মতো ঘোরার সুযোগ পেয়ে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। কয়েক প্রজন্মের মানুষের স্মৃতি জড়িয়ে চিড়িয়াখানাটির সঙ্গে। তাই আবেগপ্রবণও হয়ে পড়েছিলেন অনেকে। তার মধ্যে একজন জানায়, ছোট থাকতে তার বাবা তাকে এখানে ঘুরতে নিয়ে আসত। এখানে এখন তাই যতবারই আসেন, তার বাবার কথা মনে পড়ে তার।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে চিড়িয়াখানা ভাঙা পড়লে পশুগুলোর কী হবে? চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবি করেছে, অধিকাংশ পশুকেই অন্যান্য চিড়িয়াখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কিছু পশুকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে শহরের অন্য একটি জায়গায়। এদিকে, পুনর্বাসনের জায়গা ঠিক হওয়ার কিছু গরিলা এবং লাল রঙয়ের পাণ্ডাকে আপাতত এখানেই রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

news24bd.tv/সাব্বির