লিজ ট্রাস: সংকট মোকাবেলায় নতুন প্রধানমন্ত্রীর নীতি কেমন হবে 
লিজ ট্রাস: সংকট মোকাবেলায় নতুন প্রধানমন্ত্রীর নীতি কেমন হবে 

সংগৃহীত ছবি

লিজ ট্রাস: সংকট মোকাবেলায় নতুন প্রধানমন্ত্রীর নীতি কেমন হবে 

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসছেন কনজারভেটিভ পার্টির লিজ ট্রাস। গত মঙ্গলবার বরিস জনসনের আসনে বসেছেন সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ছয় বছরের মধ্যে ট্রাস চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।  

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা যুক্তরাজ্যকে কীভাবে এগিয়ে নিবেন ট্রাস এ প্রশ্ন এখন সবার মনে।

কারণ দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে বহুগুণে। এমনকি আসন্ন শীতে দেশটি ব্ল্যাকআউট হতে পারে বলে সতর্ক করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা।

ক্ষমতায় এসেই জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাস। ভোটে বিজীয় হওয়ার পর ট্রাস বলেন, ‘আমি কর কমানোর ও  অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য একটি দৃঢ় পরিকল্পনা নেব।

জ্বালানি সংকট, বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের বোঝা ও জ্বালানি সরবরাহের মতো দীর্ঘ মেয়াদি সমস্যাগুলোও মোকাবেলা করবো। ’

তবে কীভাবে সংকট মোকাবেলায় কাজ করবেন তা নিয়ে নির্দিষ্ট কিছুই জানাননি ট্রাস। মূল্যস্ফীতি, শ্রম বিবাদ ও একটি চাপা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি কীভাবে এগিয়ে যাবেন এ নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।

সবশেষ কয়েক সপ্তাহ ধরে ধর্মঘটে রয়েছেন দেশটির বন্দর, ট্রেন ও বিভিন্ন ইন্ড্রাস্টির শ্রমিকেরা। এমনকি জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। সম্ভাব্য একটি দীর্ঘ মন্দার মুখোমুখি রয়েছে যুক্তরাজ্য। এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন ট্রাস? সংকট প্রশমনে কী পরিকল্পনা নেবেন তিনি? এমন প্রশ্ন থেকেই যায়। ট্রাসের সম্ভাব্য নীতিগুলো হলো-

জ্বালানি নীতি

রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট সংকটে যুক্তরাজ্যের বাসাবাড়িতে জ্বালানি বিল ৮০ শতাংশ বেড়েছে। ট্রাস এই শীতে জ্বালানির রেশনিং ব্যবস্থা বাতিল করে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তবে কর্মকর্তারা বলছেন, রেশনিং ছাড়া সামনের জানুয়ারিতে বেশ কিছু দিনের জন্য ব্ল্যাকআউট হতে পারে যুক্তরাজ্য। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, যদি ঠাণ্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে গ্যাসের ঘাটতির মিলিত হয় তাহলে দেশটিতে বিদ্যুৎ স্বল্পতা থেকে যাবে।

ক্ষমতায় এসে ট্রাস কষ্টে থাকা পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা ব্যয় কমাতে আরও একটি উইন্ডফল কর বাতিল করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জ্বালানির সরবরাহ বাড়াচ্ছি। স্টিকিং প্লাস্টার লাগানোর পরিবর্তে আমরা সমস্যার মূল কারণ নিয়ে কাজ করছি। এটি নিশ্চিত করার জন্য আমি নিজে এর তদারকি করবো। ’

কর নীতি

ক্ষমতায় বসেই নতুন করের প্রস্তাবনা বাতিল করেছেন ট্রাস। এমনকি চলতি বছরে সবচেয়ে লাভ করা তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর ওপর অতিরিক্ত উইন্ডফল কর প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

ট্রাস কর কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এতে করে দেশটির রাজস্ব কমবে বার্ষিক ৩৮ বিলিয়ন পাউন্ড। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর পরিমাণ হবে বছরে ৫০ বিলিয়ন পাউন্ড। করের কাটছাঁট ব্রিটেনের উৎপাদন কমানোর প্রকৃত কারণগুলোর কিছুই করতে পারবে না।

কর ছাড়া ট্রাসকে অতিরিক্ত সরকারি ঋণের ওপর ঝুঁকতে হবে। ব্রিটিশ পরিবারগুলোকে আরও অর্থায়নের জন্য অন্য সেক্টরে খরচ কমাতে হবে।

কিছু অর্থনীতিবিদ বলেছেন, ট্রাসের পরিকল্পনা মুদ্রাস্ফীতিকে বাড়িয়ে তুলবে এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডকে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য করবে।

অভিবাসন নীতি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে তিনটি পয়েন্ট নিয়ে একটি টুইট করেছে ট্রাস। ওই টুইট বার্তায় তিনি অবৈধ অভিবাসীদের জন্য বিতর্কিত রুয়ান্ডা নীতিতে যাওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। রুয়ান্ডা নীতি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়ান্ডায় পাঠানো হবে।

ট্রাস সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সদস্য ২০ শতাংশ বাড়ানোর চিন্তা করছেন। এমনকি সমুদ্রে কাজ করা সীমান্ত বাহিনীর সদস্য দ্বিগুণ করার কথাও ভাবছেন। ট্রাস মানবাধিকার সম্পর্কিত ইউরোপীয় কনভেনশনে (ইসিএইচআর) যুক্তরাজ্য কাজ করবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ট্রাস আরও বলেছেন, তিনি মৌসুমি কৃষি প্রকল্পের স্বল্পমেয়াদি সম্প্রসারণের অনুমতি দেবেন, যা বিদেশি শ্রমিকদের গ্রীষ্মকালীন কৃষি কাজের জন্য যুক্তরাজ্যে আসতে দেয়।

শ্রম অধিকার

ট্রাস জানিয়েছিলেন, ব্রেক্সিট-পরবর্তী কর্মসংস্থান আইনের পুনর্গঠনের দিকে নজর দিচ্ছেন তিনি। এর প্রতিক্রিয়ায় দেশটির শ্রমিক ইউনিয়নগুলো তাদের অধিকারের জন্য ট্রাসের পরিকল্পনা পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

চলমান ধর্মঘট এবং রেল কর্মীদের আরও ওয়াকআউটের ঘটনায় আসন্ন শীতে উৎপাদন বাড়ানোয় চাপে থাকবেন ট্রাস।
 
তেল ও গ্যাস নীতি

তেল ও গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে উত্তর সাগরে আরও জ্বালানি অনুসন্ধানে খননের অনুমোদন দেওয়ার কথা জানিয়েছিল নতুন প্রধানমন্ত্রী। ট্রাসের উপদেষ্টারা ১৩০টি পর্যন্ত নতুন ড্রিলিং লাইসেন্স ইস্যু করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছেন।

তবে ট্রাসের এ নীতির সমালোচনা করছেন পরিবেশবাদীরা। তারা বলছেন, এই খনন জলবায়ু সংকট আরও বাড়াবে।

ভর্তুকি নীতি

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে রয়েছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)। ট্রাস এনএইচএসকে ১৩ বিলিয়ন পাউন্ড ভর্তুকি দেওয়ার কথা চিন্তা করছেন। তিনি বলেন, ‘তহবিলের চেয়ে স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভাব এনএইচএসের সমস্যা। ’

গণপরিবহন নিয়ে ট্রাস জানান, তিনি নতুন একটি আইনের প্রস্তাব করবেন যা ধর্মঘট ডাকা কঠিন করে তুলবে। আর এই আইন পাবলিক ট্রান্সপোর্টে পরিষেবার সর্বনিম্ন স্তর বজায় রাখার নিশ্চয়তা দেবে।

সূত্র: আল-জাজিরা

news24bd.tv/মামুন