যেভাবে কুলি থেকে শতকোটি টাকার মালিক বিপ্লব
যেভাবে কুলি থেকে শতকোটি টাকার মালিক বিপ্লব

যেভাবে কুলি থেকে শতকোটি টাকার মালিক বিপ্লব

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুলি থেকে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আর গ্রেফতার এড়াতে ব্যাবহার করতেন পকেট রাউটার। সাথে ছিল বিদেশি সিম। পার্সেল প্রতারণার বাংলাদেশের মূল হোতা বিপ্লব লস্করের দীর্ঘদিন ধরেই চালিয়ে আসছে এ কাজ।

অবশেষে রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে, লস্করসহ এই চক্রের ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে ডিবি জানায়, গ্রেফতারের সময় চক্রটির কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২৬৩টি বিভিন্ন অপারেটরের সিম, ১৪১৫ পাতার ২৬টি চেক বই, রাউটার, জাল টাকা, প্রতারণার সাড়ে ১১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ১০ শতাংশ কমিশনে লস্কর নাইজেরিয়ানসহ বেশ কিছু বিদেশি নাগরিকদের সাথে মিলে এ কাজ করতো।

বিপ্লবের সাথে আরও গ্রেপ্তার তার সহযোগী সুমন হোসেন ওরফে ইমরান (৩১), মোহসিন হোসেন ওরফে শাওন (৩০), ইমরান হাসান ওরফে ইকবাল (৩০), নাজমুল হক রনি (৩০), মোসা. নুসরাত জাহান (২৪) এবং নাইজেরিয়ান নাগরিক চীডি (৪০), ইম্মানুয়েল (২৬), জন (৩১), আঙ্গোলিনার নাগরিক উইলসন ডা কনসিকাউ (৩৫), ক্যামেরুনের নাগরিক নিগুজেনি পাপিনি (৩২)।

পুলিশ আরও জানায়, চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন পন্থায় সাধারণ মানুষের ফেসবুক আইডি, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর, ই-মেইল সংগ্রহ করে ফেসবুকে ইউএস আর্মি, ইউএস নেভিসহ বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে টার্গেট ব্যক্তিদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলত। সম্পর্কের একটি পর্যায়ে দামি উপহার স্বর্ণ, মূল্যবান পাথর, হীরা, বিশাল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা, ডলার/ইউরো ইত্যাদি পাঠানোর কথা বলে ফাঁদে ফেলে। এরপর সেগুলো ব্যক্তির নাম ঠিকানা উল্লেখ করে ভুয়া পার্সেলের ছবি পাঠায়। প্রতারিত ব্যক্তিরা সরল বিশ্বাসে পার্সেল গ্রহণের অপেক্ষায় থাকে।

এরপর প্রতারক চক্রের কলিং বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশি প্রতারকরা বিভিন্ন অপারেটরের নম্বর ব্যবহার করে নিজেদের কাস্টমস অফিসার পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের জানায়, কিং এক্সপ্রেস সার্ভিস থেকে একটি পার্সেল এসেছে। পার্সেলটি ছাড়াতে কাস্টমস হাউজ  ফি বাবদ মোটা অংকের টাকা পরিশোধ করতে হবে। পার্সেল পাওয়ার আশায় কাস্টমস কর্মকর্তার দাবি করা টাকা পাঠিয়ে দেয়ার পরে শুরু হয় নতুন ফন্দি। তারা আবারও ফোন করে জানায়, বিদেশি বন্ধুর পাঠানো পার্সেলে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ডলার রয়েছে। যা ছাড়াতে আরও বেশি টাকা প্রয়োজন। এই টাকা দিতে বার্থ হলে প্রতারিত ব্যক্তির নামে মানি লন্ডারিং আইন অন্যান্য আইনে মামলা হবে বলে মিথ্যা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। আর এভাবে চলে দফায় দফায় টাকা হাতিয়ে নেয়া।

পুলিশ জানায়, বিপ্লবের বিরুদ্ধে সিআইডি মোহাম্মদপুর, খিলক্ষেত ও কাফরুল থানায় মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাসহ শতাধিক মামলা রয়েছে। এর আগে এ মামলায় সে একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছে।

news24bd.tv/FA