অস্টিওআর্থ্রাইটিসে সবচেয়ে কার্যকর ফিজিওথেরাপি
অস্টিওআর্থ্রাইটিসে সবচেয়ে কার্যকর ফিজিওথেরাপি

আজ বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস

অস্টিওআর্থ্রাইটিসে সবচেয়ে কার্যকর ফিজিওথেরাপি

ডা. মোহাম্মদ শাহাদৎ হোসেন

ফিজিওথেরাপি নিয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা অর্জনের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সাল থেকে বৈশ্বিক ফিজিওথেরাপি সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ফিজিওথেরাপি’ এর আহ্বানে ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশে ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশনের (বিপিএ) নেতৃত্বে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘অস্টিওআর্থ্রাইটিস চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি’।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস হাড়জোড়ের একটি রোগ যা ক্ষয়জনিত, আঘাত, পারিবারিক ইতিহাস, স্থূলতা বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে যে কোনো বয়সী মানুষের হতে পারে।

সারাবিশ্বে ৫২০ মিলিয়ন মানুষ অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত, যার ৬০ শতাংশই হাঁটু আক্রান্ত মধ্যবয়সী মানুষ। বিশ্বে প্রতি ১০ বছরে অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত মানুষ ৪৮% বৃদ্ধি পাচ্ছে যা প্রতিবন্ধীতার ১১তম কারণ।

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের তথ্যমতে, বাংলাদেশে ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব ৭.৩% অস্টিওআর্থ্রাইটিস রোগী রয়েছে যাদের বেশিরভাগ মহিলা বা স্থূলতায় আক্রান্ত বা শারীরিক কার্যক্রমে কম সক্রিয়।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস হলে হাড়জোড়ে ও মাংসপেশিতে ব্যথা হয়, চলাফেরায় কষ্ট হয় এমনকি প্রতিবন্ধীও হতে পারে।

অস্টিওআর্থ্রাইটিসে স্বাস্থ্যসেবার ‘প্রিভেনটিভ’, ‘কিউরেটিভ’ ও ‘রিহ্যাবিলিটেটিভ’ ক্ষেত্রে ‘মাল্টিডিসিপ্লিনারি’ চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর।

এ রোগের চিকিৎসায় ওষুধ ব্যথা কমাতে সাহায্য করে, ফিজিওথেরাপিস্ট নির্দেশিত এক্সারসাইজ ও ইলেক্ট্রোথেরাপি ব্যাথা কমিয়ে হাড়জোড় সচল করে ও মাংসপেশি শক্তি বাড়িয়ে শারীরিক সচলতা নিশ্চিত করে। এভাবে রোগীর প্রতিবন্ধীতা প্রশমিত হয় এবং রোগী স্বাভাবিক কাজে ফিরে যেতে পারে। অস্টিওআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় রোগীদের রোগ সম্পর্কে জ্ঞান অনেক জরুরি কারণ এ রোগের প্রভাব বহুমাত্রিক ও এ রোগের উপসর্গ বারবার ফিরে আসে। রোগীকে জানতে হবে যে, সে কখন কি করবে। কারণ ব্যথা হলেই ব্যথানাশক খাওয়া ক্ষতিকর।

গবেষণা বলছে, জীবনযাপনের সঠিক পদ্ধতি এ ব্যথা নিরাময়ে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। অস্টিওআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ ফিজিশয়ান, ফিজিওথেরাপিস্ট ও ডায়েটেশিয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশের এক গবেষণা অনুযায়ী ৮৪% বিশেষায়িত হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি ‘সিল মারা’ ব্যবস্থাপত্রে ফিজিওথেরাপিস্ট ব্যতীত অন্য পেশাজীবীগণ দিয়ে থাকেন এবং প্রদেয় ফিজিওথেরাপির ৯৫% ই ইলেকট্রোথেরাপি যা শুধুমাত্র সাময়িক ব্যথা উপশম করে।  

ফিজিওথেরাপিস্টদের সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল অনুযায়ী, ফিজিওথেরাপি আধুনিক বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা ও স্বতন্ত্র চিকিৎসা ব্যবস্থা; যেখানে বিভিন্ন ধরনের বাত, ব্যথা, প্যারালাইসিস, প্রতিবন্ধী এবং প্রতিবন্ধীতার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি বা রোগীকে বিভিন্ন পরীক্ষণ, নিরীক্ষণ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রয়োগসহ উপদেশ ও ব্যবস্থাপত্র প্রদানের  মাধ্যমে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সমাধান ও প্রতিবন্ধীতা প্রতিরোধ করে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন করে।

বিশ্বব্যাংকের এক জরিপ মতে, বাংলাদেশের ১০ ভাগ জনগোষ্ঠী প্রতিবন্ধীতায় আক্রান্ত ও তাদের ৮০ ভাগই গ্রামে ও মফস্বল শহরে বাস করে।

আইন অনুযায়ী, স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে ৫ বছর মেয়াদী স্নাতক ডিগ্রীধারীগণ ফিজিওথেরাপিস্ট। বাংলাদেশে এ মানদণ্ডে প্রতি ৫০ হাজারে একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রয়েছে। জনবলের এ স্বল্পতা ও সরকারী হাসপাতালে ফিজিওথেরাপিস্ট না থাকায় দেশের সর্বস্তরে ফিজিওথেরাপি সেবা নিতে গিয়ে অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দেশে যে হারে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মত অসংক্রামক রোগ বাড়ছে তা প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সমন্বিতভাবে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাসেবা প্রসার জরুরি।

লেখক: সেক্রেটারি, বংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন (বিপিএ)

 

news24bd.tv/মামুন

এই রকম আরও টপিক