বায়ার্ন, নাপোলি, টটেনহাম, আয়াক্স ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের জয়
বায়ার্ন, নাপোলি, টটেনহাম, আয়াক্স ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের জয়

সংগৃহীত ছবি

চ্যাম্পিয়নস লিগ

বায়ার্ন, নাপোলি, টটেনহাম, আয়াক্স ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের জয়

অনলাইন ডেস্ক

শুরু হয়েছে ক্লাব ফুটবলের বিশ্ব সেরার আসর চ্যাম্পিয়নস লিগ। তবে লিগের শুরুতেই হার দেখলো দারুণ ছন্দে থাকা লিভারপুল। ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলির কাছে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছে রেড ডেভিলরা।

এক ইতালিয়ান ক্লাব জয়ের মুখ দেখলেও হেরেছে অপর ক্লাব ইন্টার মিলান।

জার্মানির জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে ইতালির ক্লাবটি। অন্যদিকে ফরাসি ক্লাব মার্শেইকে হারিয়ে দিয়েছে টটেনহ্যাম।  

এ দিকে পোর্তোর বিপক্ষে কষ্টসাধ্য জয় পেয়েছে অ্যাতলেটিকো ম্রাদিদ। তবে স্কটল্যান্ডের ক্লাব রেঞ্জার্সের বিপক্ষে সহজে জয় তুলে নিয়েছে আয়াক্স।

৪-০ গোলে জিতেছে ডাচ ক্লাবটি।

বায়ার্ন-ইন্টার

চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি মৌসুমে সবচেয়ে কঠিন গ্রুপ ধরা হচ্ছে ‘সি’ কে। কারণ বায়ার্ন, বার্সা ও ইন্টার মিলান রয়েছে এতে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে নিজেদের মাঠ সান সিরোতে বায়ার্নের বিরুদ্ধে মাঠে নামে ইন্টার মিলান।

নিজেদের মাঠে সমর্থকদের হতাশ করেছে ইতালিয়ান ক্লাবটি। ২-০ গোলে হেরেছে দলটি।

ম্যাচের ২৫ মিনিটে লিড নেয় বায়ার্ন মিউনিখ। কিমিখের পাস ধরে গোল করেন লিরয় সানে। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৬ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে ইন্টার মিলানের দ্যানিয়ালো। আর এতেই ২-০ গোলে জয় পায় জার্মান ক্লাবটি।

তবে সহজ এই স্কোরলাইন দিয়ে বায়ার্নের পারফরম্যান্স বোঝা যাবে না। কারণ ইন্টার মিলান লড়েছে সমান তালে। বায়ার্নের গোল বার লক্ষ্য করে ৯টি শর্ট নেয় ইতালির ক্লাবটির ফুটবলাররা। তবে লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি তারা।

বলের পজিশন দখলেও সমান তালে লড়েছে বায়ার্ন-ইন্টার। ৫৬ শতাংশ সময় বল ছিল জার্মান ক্লাবটির পায়ে। অন্যদিকে ইন্টারের কাছে ছিল ৪৪ শতাংশ সময়। দুদলের খেলোয়াড়টা একটি করে হলুদ কার্ডের দেখা পেয়েছে।

নেপোলি-লিভারপুল

গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নাপোলির আতিথ্য নেয় লিভারপুল। আর প্রথম ম্যাচেই নেপলসে বিধ্বস্ত গেল মৌসুমের রানার্সআপরা। এস্তাদিও ডিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনাতে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে অলরেডরা।

ম্যাচের দুই মিনিটের মাথায় লিড নিতে পারতো নাপোলি। তবে ভাগ্য সেবার সহায় হয়নি। ওশিমেন দারুণ এক ফ্লিকে লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসনকে পরাস্ত করলেও গোলপোস্টে লেগে গোল বঞ্চিত হন। তবে অপেক্ষা করতে হয়নি নাপোলিকে বেশি সময়।  
ম্যাচের পাঁচ মিনিটের মাথায় নাপোলির মিডফিল্ডার জেলেনস্কি ১২ গজের ভেতর বল পেয়ে শট নেন, তার শট হাত দিয়ে ঠেকিয়ে দেন লিভারপুলের জেমস মিলনার। এতেই রেফারি বাঁশি বাজান পেনাল্টির। স্পটকিক থেকে গোল করে নাপোলিকে এগিয়ে নেন পিটর জেলেনস্কি।

ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত ম্যাচের ১৭ মিনিটে। এবার বল নিয়ে লিভারপুলের ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন ভিক্টর ওশিমেন। তাকে থামাতে গিয়ে ফাউল করেন ভার্জিল ভ্যান ডাইক। এতেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। এবারে স্পটকিক নিতে আসেন ওশিমেন তবে তার শট সহজেই রুখে দেন অ্যালিসন। তবে বেশি সময় আটকে রাখতে পারেনি নাপোলিকে। ৩১ মিনিটে পিটর জেলেনস্কির অ্যাসিস্ট থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফ্র্যাঙ্ক অ্যাঙ্গুইসা। আর প্রথমার্ধের শেষ দিকে খিভিচা কভারাতস্খেইলার অ্যাসিস্ট থেকে জিওয়াভানি সিমিওনে গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন।  

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর মাত্র দুই মিনিটের মাথায় পিটর জেলেনস্কি নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি করেন। তবে এর মিনিট দুই পরে ডিয়েগো জোটা একটি গোল পরিশোধ করেন। তবে শেষ পর্যন্ত লিভারপুলকে আর ম্যাচে ফেরাতে পারেননি। এতেই শেষ পর্যন্ত ওই ৪-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নাপোলি।

টটেনহাম-মার্শেই

গ্রুপ ‘ডি’ এর ম্যাচে বুধবার রাতে মাঠে নামে ইংলিশ ক্লাব টটেনহাম ও ফ্রান্স ফুটবলের সাফল্যধারী ক্লাব মার্শেই। তবে নিজেদের মাঠে ভুল করেনি আন্তোনিও কন্তের শীর্ষরা। ২-০ গোলে হোর্হে সাম্পাওলির শীর্ষদের হারিয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি।

হটস্পুর স্টেডিয়ামে টটেনহামের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রিচার্লিসন। ৭৬ ও ৮১ মিনিটে গোল করে নিজের দিকে উঠা সমালোচনার জবাব দেন তিনি।

ম্যাচের ৪৭ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মার্সেইয়ের এমবেম্বা। আক্রমণের ধার বাড়ায় প্রথমার্ধে গোল শূন্য সমতা করা টটেনহ্যাম। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে কাঙ্খিত গোল পায় অ্যান্তোনিও কন্তের দল। ইভান পেরিসিচের বল ধরে গোল করেন রিচার্লিসন।

পাঁচ মিনিট পরেই এভারটন থেকে নর্থ লন্ডনের ক্লাবে আসা রিচার্লিসন ফ্রান্সের একমাত্র চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী ক্লাব মার্সেইয়ের জালে দ্বিতীয় গোল দিয়ে দেন। বুনো উদযাপনে উল্লাসে ভাসান হটস্পার স্টেডিয়াম। তাকে দ্বিতীয় গোল অ্যাসিস্ট করেন হজিবার্গ।

ম্যাচে হারলেও সমানে সমানে লড়েছে ফরাসি ক্লাবটি। হোর্হে সাম্পাওলির শীর্ষরা গোলবার লক্ষ্য করে নয়বার শর্ট মারলেও তা জাল বেদ করতে পারেনি। ৫১ শতাংশ সময় বলের আয়ত্ত রাখে ফরাসি ক্লাবটির খেলোয়াড়রা। তবে কার্ডের দিক থেকে এগিয়ে সাম্পাওলির শীর্ষরা। দুটি করে হলুদ কার্ড দুদলের খেলোয়াড়রা পেলেও একটি লাল কার্ড পেয়েছে ফরাসি ক্লাবটির ডিফেন্ডার এমবিএমবা।

অ্যাতলোটিকো-পোর্তো

গ্রুপ ‘বি’ নিজেদের মাঠ মেট্রোপলিটিয়ানোতে  পুর্তগিজ ক্লাব পোর্তোর বিপক্ষে মাঠে নামে সিমিওনের শীর্ষরা। নাটকীয়তা জমা ছিল ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর পর্যন্ত।

যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মারিও হেরমেসো গোল করে এগিয়ে নেন অ্যাতলেটিকোকে। এরপর ৯৪ মিনিটের সময় সেই হেরমোসোর করা হ্যান্ডবলে পোর্তো পায় পেনাল্টি।

স্পটকিক থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ম্যাথিয়াস আরবি। তবে ম্যাচের নাটকীয়তার তখনও অনেক বাকি ছিল। অতিরিক্ত সময়ের ১১তম মিনিটে গ্রিজম্যানের করা গোলে ২-১ ব্যবধানে রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশ ক্লাবটি।

পোর্তোর বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। তবে ঘরের মাঠেও গোটা ম্যাচজুড়ে তেমন সুবিধা করে উঠতে পারেনি সিমিওনের শীর্ষরা। বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকলেও আক্রমণের দিক দিয়ে এগিয়ে ছিল সফররত পোর্তোই। অ্যাতলোটিকোর ১০টি শটের বিপরীতে পোর্তোর শট সংখ্যা ছিল ১৭টি। যার মধ্যে দুই দলেরই তিনটি করে শট ছিল লক্ষ্যে।

বলের নিয়ন্ত্রণে পোর্তোর থেকে আট শতাংশ এগিয়ে ছিল স্প্যানিশ ক্লাবটি; যেখানে তারা বল রেখেছিল ৫৪ শতাংশ সময়। তবে কার্ডের দিক থেকে এগিয়ে সার্জিও কনসিকাওর শীর্ষরা। দুই হলুদ কার্ডের সঙ্গে একটি লাল কার্ড পেয়েছে পুর্তগিজ ক্লাবটির খেলোয়াড়রা।

আয়াক্স-রেঞ্জার্স

১২ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে স্কটিশ ক্লাব রেঞ্জার্স। তবে তাদের মধুর সময়কে শেষ করে দিল ডাচ ক্লাব আয়াক্স। নিজের মাঠ আমস্টারডাম এরেনা স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে স্কটিশ ক্লাবটিকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে ডাচ ক্লাব আয়াক্স।  

ম্যাচের ১৭ মিনিটেই আয়াক্সের হয়ে গোল করেন এডসন। ৩২ মিনিটে স্টিভেন করেন দ্বিতীয় গোল। কিছু না বুঝার আগেই ৩৩ মিনিটে ফের রেঞ্জার্সের জালে বল জড়ান মোহাম্মেদ কুদ্দুস। আর স্কটিশ ক্লাবটির বুকে সবশেষ পেরেকটা দেন স্টিভেন বার্গজিন। ৮০ মিনিটে গোল করেন তিনি।

গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচে সবকিছুতেই পিছিয়ে ছিল রেঞ্জার্স। মাত্র ২৪ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছিল স্কটিশ ক্লাবটি। আর গোলবারের দিকে শর্ট মারে মাত্র চারটি; যেগুলো ছিল অপেক্ষাকৃত অনেক দুর্বল।

news24bd.tv/মামুন