রংপুরে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে ওসিসহ আহত ৬০
রংপুরে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে ওসিসহ আহত ৬০

সংগৃহীত ছবি

রংপুরে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে ওসিসহ আহত ৬০

রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।  বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটার পাশাপাশি প্রায় ৫০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও বেশ কিছু কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। বিএনপির নেতা-কর্মীরাও পাল্টা ইটপাটকেল ছোড়েন।

উপজেলার পুরাতন সোনালী ব্যাংক মোড়ে বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলের এ ঘটনায় সাংবাদিক, পুলিশসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন।

তবে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি উপজেলা বিএনপির সভাপতির। এমনকি যুবদলের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও দাবি তার।

আহতদের গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গঙ্গাচড়া বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে যুবদল নেতা শাওন হত্যাসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে গঙ্গাচড়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয় স্থানীয় বিএনপি। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার পুরোনো সোনালী ব্যাংক মোড় এলাকায় জড়ো হতে থাকেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

বিকেল পাঁচটার দিকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুরোনো সোনালী ব্যাংক মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি গঙ্গাচড়া বাজারের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। বাধা পেয়ে নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পুলিশও লাঠিপেটা করে।

ইটপাটকেল নিক্ষেপে গঙ্গাচড়া থানার ওসি দুলাল হোসেনসহ পুলিশের ২৫ সদস্য এবং পুলিশের লাঠিপেটায় বিএনপির নেতা-কর্মীসহ প্রায় ৬০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

রংপুর জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। গঙ্গাচড়া বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। থানার ওসিসহ ২০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে প্রায় ৫০ রাউন্ড রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখনো কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ’

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাবুর অভিযোগ করে বলেন, ‘বুধবার ওসির সঙ্গে কথা হয়েছিল, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করবো। কিন্তু সমাবেশ চলাকালে পুলিশ অতর্কিত হামলা করেছে। আমাদের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ছাড়াও যুবদল নেতা রাশেদকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ’

news24bd.tv/মামুন