‘আধুনিক দাস’ বিশ্বের ৫০ মিলিয়ন মানুষ: জাতিসংঘ
‘আধুনিক দাস’ বিশ্বের ৫০ মিলিয়ন মানুষ: জাতিসংঘ

সংগৃহীত ছবি

‘আধুনিক দাস’ বিশ্বের ৫০ মিলিয়ন মানুষ: জাতিসংঘ

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বের প্রায় ৫০ মিলিয়ন মানুষ ‘আধুনিক দাসত্বে’ জীবনযাপন করছে। যা গত পাঁচ বছর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে,  জাতিসংঘের লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও)। সোমবার সংস্থাটির প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে এমন তথ্য।

আইএলও বলছে, ‘২০২১ সালের শেষে প্রায় ২৮ মিলিয়ন মানুষকে জোরপূর্বক কাজ করানো হচ্ছে।

এছাড়াও ২২ মিলিয়ন মানুষকে জোরপূর্বক বিয়ে দিয়ে কাজে বাধ্য করা হচ্ছে। যা ২০১৬ সালের প্রতিবেদনের তুলনায় ১০ মিলিয়ন বেড়েছে। ’

আইএলও মহাপরিচালক গাই রাইডার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, ‘এটি খুব উদ্বেগের বিষয় যে আধুনিক দাসত্বের পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। মানবাধিকারের এই মৌলিক অপব্যবহারের অধ্যবসায়কে কোনো কিছুই ন্যায্যতা দিতে পারে না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আধুনিক দাসপ্রথা প্রায় প্রতিটি দেশেই দেখা যায়। আইএলও, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী ওয়াক ফ্রি-এর যৌথ সমীক্ষা অনুসারে, অর্ধেকেরও বেশি জোরপূর্বক শ্রমের ঘটনা এবং উচ্চ-মধ্য আয়ের বা উচ্চ-আয়ের দেশগুলিতে বেড়েছে এক চতুর্থাংশ জোরপূর্বক বিবাহ।

২০১৬ সালের একই রিপোর্টের তুলনায় ৬.৬ মিলিয়নের ক্ষেত্রে জোরপূর্বক বিবাহের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। যদিও এশিয়া ও দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ৬৫% জোরপূর্বক বিবাহ পাওয়া গেছে। তবে এই সংখ্যা আরব দেশগুলিতে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৪.৮ মিলিয়ন। ২০১৩ সালে আরব দেশগুলোতে জোরপূর্বক বিয়ে করেছেন এক হাজার মানুষ। তবে ১৬ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের বিয়েসহ সংখ্যাটি আরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সমীক্ষা অনুসারে, জোরপূর্বক শ্রমের ঘটনাগুলি বেসরকারি খাতে বেশি পাওয়া গেছে। যা শতাংশের বিচারে যা প্রায় ৮৬%। যার মধ্যে ২৩% জোরপূর্বক যৌন শোষণের শিকার।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারী, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সশস্ত্র সংঘাত এসবই দাসত্ব সংকটে অবদান রেখেছে।

‘আধুনিক দাসত্ব’ অবসানের ব্যাপারে বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছে আইএলও। যেখানে রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত বাধ্যতামূলক শ্রমের অবসান, সামাজিক সুরক্ষা প্রসারিত করা এবং আইনি সুরক্ষা জোরদার করা, যার মধ্যে বিবাহের আইনি বয়স ১৮-এ উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে।

news24bd.tv/আমিরুল