ইরানের সঙ্গে দ্রুত কোনো পারমাণবিক চুক্তিতে যাবে না জার্মানি
ইরানের সঙ্গে দ্রুত কোনো পারমাণবিক চুক্তিতে যাবে না জার্মানি

সংগৃহীত ছবি

ইরানের সঙ্গে দ্রুত কোনো পারমাণবিক চুক্তিতে যাবে না জার্মানি

অনলাইন ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে দ্রুত কোনো পারমাণবিক চুক্তিতে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস। সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ কথা বলেছেন জার্মান চ্যান্সেলর। খবর আরব নিউজের।

ওলাফ শলৎস বলেন, ‘খুব দ্রুত এটি হচ্ছে না।

আমরা ধৈর্য ধরে আছি, কিন্তু আমরা এটাও পরিষ্কার রাখছি; ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন থেকে বিরত রাখতে হবে। ’

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এমনটা জানিয়েছেন শলৎস। এর আগে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ পরমাণু চুক্তি বাস্তবায়িত হলেও ইরানকে ছাড় না দেয়ার ঘোষণা দেয়।

বর্তমানে জার্মান সফরে রয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ।

বৈঠক শেষে তিনি বলেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে ব্যর্থ আলোচনা শেষ করার সময় এসেছে। তারা কোনোদিনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। তাদের লক্ষ্য থেকে বিরত রাখতে আমরা একমত হয়েছি। ’

তিনি আরও বলেন,‘ইরানের সঙ্গে পশ্চিমাদের পারমাণবিক চুক্তি বন্ধ করতে কাজ করছে ইসরায়েল। চুক্তি হতে এখনও অনেক পথ বাকি। ’

একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি বলেছেন, ‘তেহরান জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। ’

ইরান ইস্যুতে সোমবার বৈঠকে বসবেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বোর্ডের সদস্যরা। তিন মাস আগে ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে ইউরেনিয়ামের অস্তিত্ব পাই আইএইএ’র তদন্তকারী দল। তবে ইরান তদন্তটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করে।

ইসরায়েলের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে ইরানই একমাত্র দেশ যাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির শক্তি রয়েছে। তারা তেহরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র পশ্চিমারা। তবে ২০১৮ সালে সেই চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর থেকেই তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে ইরান চুক্তির শর্ত ভেঙে পারমাণবিক প্ল্যান্টে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম দেশে পরিণত হয়েছে। তবে ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় ফের চুক্তির পথে রয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। গত ৮ আগস্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতির প্রধান জোসেফ বরেল জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের দীর্ঘ ১৬ মাস আলোচনার পর চুক্তির অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে একটি চূড়ান্ত প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

এ দিকে চলতি মাসের শুরুর দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের খসড়া প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান। তবে এর পরেই জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্স তেহরানের জবাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে।

news24bd.tv/মামুন