বেড়েছে ডিম-সবজি-চালের দাম
বেড়েছে ডিম-সবজি-চালের দাম

সংগৃহীত ছবি

বেড়েছে ডিম-সবজি-চালের দাম

অনলাইন ডেস্ক

জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির পর হুট করে বেড়ে যায় ডিমের দাম। অভিযানে নামে সরকার। পরিবর্তন হয়েছিল সেই অবস্থার। তবে মাসখানেক পর ডিমের বাজারে আগের অবস্থানেই ফিরে এসেছে।

বড় বাজারে ফার্মের মুরগির বাদামি ডিমের দাম উঠেছে প্রতি হালি ৪৫ টাকায়। আর পাড়া-মহল্লার মুদিদোকান থেকে ডিম কিনতে লাগছে হালিতে ৫০ টাকা।  

ডিমের পাশাপাশি সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে সবজির দামও। আর এর জন্য সরবরাহকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এতেই দাম বেড়েছে। অন্যদিকে দাম বেড়েছে মুরগি ও চালের।  অপরিবর্তীত রয়েছে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্রই দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে ৫-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে সবজির দাম। শসা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। লম্বা বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা। গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা।

বাজারে সিমের কেজি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে সিমের কেজি ছিল ২৪০ টাকা, করলা  ৮০ টাকা, চাল কুমড়া পিস ৬০ টাকা, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা, কচুর লতি ৮০, পেঁপের কেজি ৪০, বটবটির কেজি ‌৯০ এবং ধুনধুলের কেজি ৬০ টাকা।

কাঁচামরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। এ ছাড়া কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা। শুকনা মরিচের কেজি ৪০০-৪৫০ টাকা। আলু ৩০, দেশি পেঁয়াজ ৫০, ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০, রসুন ৪০-৪৫, আদা ৯০-কে ১১০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মিরপুর ১১ নম্বর বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আল-আমিন বলেন, ‘বৃষ্টি আর সাপ্লাই কম থাকায় সবজির দাম বেড়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়লে আবার দাম কমে যাবে। ’

বাজারে বেড়েছে ডিমের দাম। খুচরায় প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। ডজন নিলে ১৪৫-১৫০ টাকা। যদিও কিছু কিছু বাজারে ডজনে ৫-১০ টাকা কম নিতে দেখা গেছে। তবে সে সংখ্যা খুব কম। হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২১০ টাকা। দেশি মুরগির ডিমের ডজন ২২০ টাকা।

এ দিকে মোটা-সরু সব চালের দামই বেড়েছে কেজিতে ২-৩ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২ টাকা বেড়ে স্বর্ণা ৫০-৫২ টাকা ও বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকায়। অথচ এর আগে প্রতি কেজি গুটি স্বর্ণা ৪৮-৫০ টাকা ও বিআর-২৮ এর দাম ছিল ৫৮-৬০ টাকা। এ ছাড়া আগের চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মিনিকেট ও নাজিরশাইল। এসব চাল মানভেদে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০-৮৪ টাকায়।

মেরুল বাড্ডার চাল ব্যবসায়ী হালিম চৌধুরী বলেন, ‘মিলপর্যায়ে বস্তাপ্রতি চালের দাম ১০০-১৫০ টাকার মতো বেড়েছে। পাইকারি বাজারেও চালের দাম বেড়েছে। এখন চালের সিজন (মৌসুম) শেষ। চাল আমদানি হলেও বাজারে সেগুলো আসছে না। এজন্য দাম বাড়তি। ’

গরুর মাংস কেনা যাচ্ছে প্রতি কেজি ৬৫০-৭০০ টাকায়। আর মানভেদে খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০০ থেকে এক হাজার টাকায়। চাষের রুই মাছ আকারভেদে প্রতি কেজি ২৫০-৩৫০ টাকায়, পাঙাশ ও তেলাপিয়া ১৫০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্রয়লার মুরগি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকায়। একদিন আগেও ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছিল ১৬০ টাকা কেজি। ২০ টাকা দাম বেড়ে সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩২০ টাকায়। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭০-২৮০ টাকায়।

news24bd.tv/মামুন