ইজিয়ামে গণকবরে পাওয়া ব্যক্তিদের নির্যাতন করা হয়েছিল, দাবি জেলেনস্কির
ইজিয়ামে গণকবরে পাওয়া ব্যক্তিদের নির্যাতন করা হয়েছিল, দাবি জেলেনস্কির

সংগৃহীত ছবি

ইজিয়ামে গণকবরে পাওয়া ব্যক্তিদের নির্যাতন করা হয়েছিল, দাবি জেলেনস্কির

অনলাইন ডেস্ক

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ইজিয়াম শহরে একটি গণকবরে ৪৪০টি মৃতদেহের সন্ধান পেয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মৃতদেহগুলোতে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। খবর: আল-জাজিরা।

জেলেনস্কি বলেন, ‘গণকবরে পাওয়া অনেক মৃতদেহে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

অনেক মৃতদেহের হাড় ভাঙা ছিল। অনেকের গলায় রশির দাগ ছিল। গণকবরে অনুসন্ধান চালানো কর্মকর্তাদের কাছে এর প্রমাণ রয়েছে। ’

সম্প্রতি রুশ বাহিনীর কাছ থেকে শহরটি দখলমুক্ত করেন ইউক্রেনের সেনারা।

পুনরুদ্ধারের পর শহরটির পাশেই একটি জঙ্গলে বৃহৎ গণকবরটির সন্ধান পাওয়া যায়।

এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘ওই গণকবরে ৪০০-এর বেশি লাশ পাওয়া গেছে। ওই এলাকায় রুশদের নির্যাতন, অত্যাচার ও গোলাবর্ষণে শতশত বেসামরিক, শিশু এবং ইউক্রেনীয় সৈন্য মারা গেছে। ’

ইজিয়ামে রুশ সেনারা যুদ্ধাপরাধ করছে বলে দাবি ইউক্রেনের।

বৃষ্টি উপেক্ষা করেও ইজিয়ামের পাশের জঙ্গলের গণকবর থেকে মৃতদেহগুলো উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। সেখানে এখন পর্যন্ত ৪৪৫টি লাশ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

ইউক্রেনীয় পুলিশ বলছে, ‘আমরা ৪৪৫টি কবর পেয়েছি। অনেক কবরে একাধিক লাশ রয়েছে। তাদের সবাই কীভাবে মারা গেছে তা স্পষ্ট নয়। মৃতদের মধ্যে অনেক বেসামরিক নাগরিক, নারী ও শিশু রয়েছে। ’

ইজিয়ামের মৃতদেহ সংখ্যা নির্ধারিত হলে ১৯৯০ সালের বলকান যুদ্বের পর এটি ইউরোপের সর্ববৃহৎ গণকবর হবে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।

মরদেহগুলোতে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে দাবি করে খারকিভ অঞ্চলের পুলিশ প্রধান সেরহিয়ে বোধান বলেন, ‘আমরা একটি লাশ পেয়েছি যার হাত রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। এটি নির্যাতনের একটি চিহ্ন। ’

খারকিভ আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ওলেগ সিনেগুবভ বলেন, ‘উত্তোলিত মৃতদেহের ৯৯ শতাংশে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। এই অঞ্চলে কমপক্ষে এক হাজার ইউক্রেনীয়কে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। ’

সপ্তাহখানেক আগে ইজিয়াম ছেড়েচে রুশ বাহিনী। তাদের দখলে থাকার সময় ওই শহরের প্রধান হিসেবে ভিতালি গানচেভকে দায়িত্ব দেয় মস্কো। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে নির্যাতন করে হত্যা করিনি ও গণকবর সম্পর্কে কিছু শুনিনি। গণকবরটি ইউক্রেনীয়দের কাজ। ’

গণকবরটি নিয়ে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। আর যুক্তরাজ্য ভিত্তিক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, গণকবরটি তাদের ‘অন্ধকার ভয়’নিশ্চিত করেছে।

গণকবরটির খবরে গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক জোসেপ বোরেল। অন্যদিকে হোয়াইট হাউজের নিরাপত্তা বিষয়ক মুখপাত্র জন কিরবি গণকবরটিকে ভয়াবহ বলে আখ্যা করেছেন।

এ দিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এসসিও সম্মেলনে বলেছেন, ‘ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করলে মস্কো আক্রমণ বাড়াতে পারে। ’

উজবেকিস্তানে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, ‘আমাদের প্রধান সামরিক লক্ষ্য ডনবাস অঞ্চলের মুক্তি। আমরা তাড়াহুড়ো করছি না। রাশিয়া কেবল ইউক্রেনে  স্বেচ্ছাসেবক সৈন্য মোতায়েন করেছে। ’

news24bd.tv/মামুন