বেজোস-গেটসকে পেছনে ফেলে কে এই গৌতম আদানি?
বেজোস-গেটসকে পেছনে ফেলে কে এই গৌতম আদানি?

বেজোস-গেটসকে পেছনে ফেলে কে এই গৌতম আদানি?

গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে গত দু'দিনে সর্বাধিক চর্চিত নাম গৌতম আদানি। বিশ্বের ধনকুবেরদের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে এই ভারতীয়। শুক্রবার ফোর্বসের তালিকায় উঠে আসে তার নাম। যেখানে তিনি পেছনে ফেলেছেন অ্যামাজনের স্বত্বাধিকারী জেফ বেজোস ও বিল গেটসের মতো ধনীকে।

ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, আদানির বর্তমান সম্পদের পরিমাণ $১৫২.২ বিলিয়ন ডলার (শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত)। ব্যক্তিগতভাবে আদানি খুবই স্বল্পভাষী মানুষ। যিনি বেশিরভাগ সময়েই তার সম্পদের বিষয়টা সাধারণের সামনে আনতে চান না।

কে এই আদানি?
ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ষাট বছর বয়সী এই ধনকুবের কলেজ থেকে স্বেচ্ছায় ড্রপআউট হয়েছিলেন।

এরপরে নামেন ব্যবসায়। ধীরে ধীরে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন পণ্য রপ্তানি এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায়। সুপ্রসন্ন ভাগ্যর সুবাদে আদানি একে একে গড়ে তোলেন মিডিয়া, এনার্জি সাপ্লাই শিল্প এবং পরিবহন ব্যবসা। মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেশিরভাগ অংশীদারিত্বই আদানির দখলে। ২০২০ সালে ভারতের বৃহত্তম বিমানবন্দর অপারেটর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তার পোর্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম।

সর্বপ্রথম ২০০৮ সালে ফোর্বসের বিলিয়নেয়ারদের তালিকায় স্থান করে নেন আদানি। সে সময়ে তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ছিলো $৯.৩ বিলিয়ন ডলার। যা গত ১৪ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। আদানি গ্রুপের অসংখ্য ভারতীয়-তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ফেব্রুয়ারিতে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হয়ে ওঠে তার গ্রুপ। চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্বের ২ হাজারটি কোম্পানির মধ্যে জরিপ চালায় ফোর্বস। সেখানে র‍্যাঙ্কিংয়ে আদানির বেশ কয়েকটি কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত ছিল। হোল্ডিং কোম্পানি আদানি এন্টারপ্রাইজ, পরিবহন জায়ান্ট আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন, পুনঃব্যাবহারযোগ্য শক্তি প্রদানকারী আদানি গ্রিন এনার্জি, ইউটিলিটি কোম্পানি আদানি ট্রান্সমিশন এবং প্রাকৃতিক গ্যাস জায়ান্ট আদানি টোটাল গ্যাস এগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

এপ্রিল মাসে আদানির সম্পদ $১০০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যায় এবং সেই মাসের শেষের দিকে তিনি আমেরিকান বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটকে পেছনে ফেলে বিশ্বের পঞ্চম-ধনী ব্যক্তি হন। জুলাইয়ে বিল গেটসেকে ছাড়িয়ে যান আদানি। এবং চলতি সপ্তাহের শুরুতে তৃতীয় ধনী ব্যক্তি হিসেবে বেজোসকে ছাড়িয়ে যান এই ধনকুবের।

আদানির গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা
২০১০ সালে ফোর্বসকে দেয়া আদানির একটা বক্তব্য ছিলো- 'একজন উদ্যোক্তা হওয়া আমার স্বপ্ন ছিলো। কারণ এটা একজনের দৃঢ়তার পরীক্ষা করে। আমি কখনই কারও কাছ থেকে আদেশ নিতে শিখিনি'। আদানি সে সময়ে বলেছিলেন, ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গল্পে তার অবদান অন্যতম। তাকে ভারত এক সময়ে স্মরণ করবে।

আদানির সাথে ঘটে যাওয়া আশ্চর্যজনক কিছু ঘটনা
জীবনে বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হয়েছেন ভারতীয় এই ধনকুবের। তন্মধ্যে দু'টি ঘটনা বেশ উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৭ সালে অপহরণ হন তিনি। সেইসাথে ২০০৮ সালে সন্ত্রাসী হামলা থেকে বেঁচে ফেরেন আদানি। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস নাউ'র তথ্যমতে, ১৯৯৭ সালে দেড় মিলিয়ন মুক্তিপণের বিনিময়ে অপহরণের পর বেঁচে ফেরেন আদানি। বন্দুকের মুখে সেই মুক্তিপণ দিতে বাধ্য করা হয় তাকে। ২০১৩ সালে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, অপহরণটি তার জীবনের 'দুটি বা তিনটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার মধ্যে একটি'। যদিও গণমাধ্যমের সামনে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে অস্বস্তিবোধ করেন এই বিলিয়নেয়ার।

দ্বিতীয় ঘটনা ২০০৮ সালের। তাজমহল প্যালেস হোটেলের একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খাচ্ছিলেন তিনি। ঠিক এসময়েই মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। সন্ত্রাসীরা রেস্তোরাটিকে ঘেরাও করে আক্রমণ করার আগেই তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান।

আদানির উল্লেখযোগ্য অবদান
ধনকুবেরের ৬০ তম জন্মদিনে নিজের করা আদানি ফাউন্ডেশনে $৭.৭ বিলিয়ন অনুদানের ঘোষণা দেন তিনি। দাতব্য এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতিত্ব করছেন তার স্ত্রী প্রীতি আদানি। আদানি ফাউন্ডেশন ভারতের গ্রামীণ অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

news24bd.tv/FA