কুমিরের দখলে ব্রাজিলের সমুদ্র সৈকত!
কুমিরের দখলে ব্রাজিলের সমুদ্র সৈকত!

সংগৃহীত ছবি

কুমিরের দখলে ব্রাজিলের সমুদ্র সৈকত!

অনলাইন ডেস্ক

ব্রাজিলের এক সমুদ্র সৈকত পুরোপুরি চলে গেছে কুমিরের দখলে। জনপ্রিয় রেডিও টক শো'র উপস্থাপক কেন রুটকস্কি তার এক টুইটে এমন দাবিই করেছেন। তার টুইটের সঙ্গে এক ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েক শ কুমির সমুদ্র তীরে বিশ্রাম নিচ্ছে এবং হামাগুড়ি দিচ্ছে। নিরাপদ দূরত্ব থেকেই এই ভিডিওটি ধারন করা হয়।

রুটকস্কির টুইটের পর মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে গেছে। ১৫ সেপ্টেম্বর করা রুটকস্কির টুইটটি এখন পর্যন্ত দেখেছে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ। পছন্দ করেছে ১ লাখ ৫৮  হাজার মানুষ। রিটুইট হয়েছে ২৪ হাজার বার।

এ ছাড়াও কয়েক হাজার কমেন্ট পড়েছে ওই টুইটের নিচে।  ছোট্ট ভিডিওর সঙ্গে রেডিও টক শোর উপস্থাপক কেন রুটকস্কি টুইটে লেখেন, ব্রাজিলের একটি সমুদ্র সৈকত কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়েছে। সংখ্যাটা কয়েক শ, এমনকি হাজার হতে পারে এবং সেখানকার স্থানীয়রা এই ঘটনায় আতঙ্কিত।

কুমিরের এরকম সমুদ্র দখলের খবরে সবাই প্রায় বিস্মিত। তবে অনেকেই এটাকে আক্রমণ মানতে নারাজ। কারও দাবি এটা উপকূলীয় কোনো সমুদ্র সৈকত নয়। আর এগুলো কুমির নয়, প্রায় একই রকমের দেখতে অ্যালিগেটর (কুমিরের চেয়ে ছোট)। এক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, এটাকে আক্রমণ বলা ঠিক হবে না। এটাকে পুনরুদ্ধার বলা উচিত। বাড়ি হিসেবেই হাজার হাজার কুমির সমুদ্র তীর দখল করেছে। যা একটা সময় মানুষ অবৈধভাবে দখল করেছিল।

আরও একজন মন্তব্য করেন, এগুলো হল ইয়ারকেয়ার কাইম্যান এবং অন্যান্য কুমিরের মতো। এরা ইক্টোথার্মিক বা ঠান্ডা রক্তের। সূর্যের আলোতে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্য তারা সরাসরি ভূমিতে চলে যায়। উপরন্তু, এটি একটি উপকূলীয় সমুদ্র সৈকত নয়, যেমনটি ভিডিওর দীর্ঘ সংস্করণে দেখানো হয়েছে৷ তৃতীয় আরেকজন মন্তব্য করেন, এটা কোনো আক্রমণ নয়। আর স্থানীয়রাও আতঙ্কিত নয়।

রেডিও টক শোর উপস্থাপক কেন রুটকস্কির টুইটে যে কিছু তথ্যগত ভুল আছে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাপ্তাহিক অনলাইন ম্যাগাজিন নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে, ভিডিওতে প্রাণীগুলো সম্ভবত এক ধরনের অ্যালিগেটর, কুমির নয়। এটা কোনো সৈকতও নয়, একটি নদীর তীর। আর অ্যালিগেটররা আক্রমণ করছে না, তারা তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক আবাসস্থলে রয়েছে।

ভিডিও মূলত পান্তানাল পেসকা নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে গত ২৫ আগস্ট পোস্ট করা হয়। জায়গাটি পান্তানালেই। ভিডিও থেকে শোনা যাচ্ছিল এক ব্যক্তি পর্তুগিজ ভাষায় বলছেন, আমার মনে হয় এই অ্যালিগেটরদের জন্য খুব পানি আছে। জীবনে এর আগে এত কুমির একসঙ্গে দেখিনি। এরপর আরও শোনা যায়, এটা কোনো উপকূলীয় সৈকত নয় বরং একটি নদীর পাড়।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের (ডব্লিউডব্লিউএফ) মতে, পান্তানাল হলো বিশ্বের বৃহত্তম গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলাভূমি। যা বলিভিয়া, ব্রাজিল এবং প্যারাগুয়েতে অবস্থিত। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কাইম্যান প্রজাতির কুমিরের বসবাস সেখানে। সংখ্যাটি প্রায় ১ কোটির মতো।

news24bd.tv/সাব্বির