নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি অব্যাহত
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি অব্যাহত

সংগৃহীত ছবি

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি অব্যাহত

অনলাইন ডেস্ক

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি অব্যাহত আছে। রোববার দিনে সীমান্তের তিনটি পয়েন্ট থেকে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। সন্ধ্যার দিকে একটি পয়েন্টে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুমের বেতবুনিয়া এলাকার এনজিওকর্মী আজিজুল হক জানান, মিয়ানমারের ঢেঁকিবুনিয়া এলাকায় কালো ধোঁয়া উড়ছে।

২০১৭ সালেও এমন ধোঁয়া দেখা গেছে। তখন মিয়ানমারের সেনারা রাখাইন রাজ্যে (আরাকান) রোহিঙ্গা বসতিতে আগুন দিয়েছিল। সেই সময় সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে দেশত্যাগ করে।  

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম সন্ধ্যায় জানান, বিকেল তিনটার দিকে ওপারের ঢেঁকিবুনিয়া এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

এর আগে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ির জামছড়ি এলাকার মিয়ানমার সীমান্তের দুটি পয়েন্ট থেকে থেমে থেমে গোলাগুলি ও মর্টার শেলের বিস্ফোরণের শব্দ আসে।

রাখাইন রাজ্যে সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে চলমান সহিংসতা দিন দিন বাড়ছে। গত চার দিনে আরাকান আর্মি দেশটির নিরাপত্তারক্ষীদের তিনটি বিওপি (বর্ডার অভজারভেশন পোস্ট) দখল করে নিয়েছে বলে সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।  

নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাখাইনে চলমান সহিংসতার ঘটনায় উভয়পক্ষই চরম দুঃসময় পার করছে। এ কারণে রাতেও যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার থেকে একের পর এক গোলা ও বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। এমনকি সশস্ত্র সহিংসতায় মুখোমুখি অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের শারীরিক গঠন ও চেহারায় মিল আছে। দুই পক্ষের পোশাকও একই রকম।  

পাহাড়ি এলাকার লোকজন বলছে, দুই পক্ষ মুখোমুখি হলেও কে বিদ্রোহী আর কে সরকারি বাহিনীর, সেটা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগে আরাকান আর্মি ওই রাজ্যের একে একে তিনটি বিওপি (চৌকি) দখলে নিয়েছে। জানা গেছে, ওপারের প্রতিটি বিওপিতে ৩০-৩৫ জন করে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী (নিরাপত্তারক্ষী) অবস্থান করে। সেই সঙ্গে তাদের অস্ত্রশস্ত্রেরও মওজুদ থাকে।  

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ৪৫ নম্বর পিলারের ওপারে আরাকানের ফালিদং নামক এলাকায় গত বৃহস্পতিবার প্রথমে একটি বিওপি আরাকান আর্মি দখল করে নেয়। পরের দিন শুক্রবার সীমান্তের ৪৪ নম্বর পিলারের বিপরীত পাশের একটি বিওপি দখলে নেয় তারা। পরপর দুটি দখলে যাওয়ায় অন্য একটি বিওপির নিরাপত্তারক্ষীরা পালিয়ে যায়। এরপর সেটাও তারা দখল করে নেয়।  

news24bd.tv/কামরুল