গোপালগঞ্জে পিটিআই সুপারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ
গোপালগঞ্জে পিটিআই সুপারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

গোপালগঞ্জে পিটিআই সুপারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জে পিটিআই সুপারিন্টেনডেন্টের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ পরিচালনায় নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ট্রেনিং অব মাস্টার ট্রেনারস ইন ইংলিশ এর (টিএমটিই) প্রশিক্ষণার্থীরা। সোমবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে ভুক্তভোগী প্রশিক্ষণার্থীরা এসব অভিযোগ করেন।

প্রশিক্ষণার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষকদের ইংরেজি ভাষার উপর দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়। মেধাবী শিক্ষকদের মধ্য থেকে এপটিস টেস্টের মাধ্যমে চতুর্থ ব্যাচের জন্য ১৪ সপ্তাহের প্রশিক্ষণের জন্য গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা থেকে ৪৪ জন প্রশিক্ষণার্থীকে নির্বাচন করা হয়।

গত ৫ জুন থেকে পিটিআই গোপালগঞ্জে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ এ শেষ হয়। ভুক্তভোগী প্রশিক্ষণার্থী মাদারীপুরের শমসের সরদার, খুলনার মো. নাসির উদ্দিন, ফারজানা রহমান হেলেন, জেসমিন আক্তার, বাগেরহাটের এস এম মাহবুবুর রহমান, শেখ আসাদুর রহমান ও বিপুল কান্তি বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, খাবার রিফ্রেশমেন্টের বাবদ প্রতিদিন জনপ্রতি ৬৬০ টাকা বরাদ্দ থাকা স্বত্বেও প্রশিক্ষণ শুরুর দিন থেকে তাদের অতি নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করে পিটিআই কর্তৃপক্ষ। সংস্থাপন বিলের নামে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগে আরও জানান, এছাড়া গত ৫ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ২৬ দিনের মধ্যে শুক্র ও শনিবার খাবার ভাতা দেওয়া হলেও আকস্মিকভাবে ১ জুলাই থেকে শুক্র ও শনিবারের টাকা না দেওয়ার কথা জানানো হয়।

ঈদের ছুটির পর করোনা রিপোর্টের নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকার পরও নারী প্রশিক্ষণার্থীসহ অন্যান্য প্রশিক্ষণার্থীদের পিটিআইতে প্রবেশ করতে না দিয়ে বাইরে হোটেলে থাকতে বাধ্য করে।

এসব সমস্যা সমাধানে প্রশিক্ষণার্থীরা পিটিআই’র সুপারিন্টেনডেন্টের কাছে অভিযোগ জানালে প্রশিক্ষণার্থীদের উপর ক্ষিপ্ত হন সুপার। সেইসাথে প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন রকম অসহযোগিতা করা হয়েছে অভিযোগ রয়েছে। পানির লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয় ও ওয়াশরুম থেকে হ্যান্ড ওয়াশ, সাবান ইত্যাদি সরিয়ে ফেলা হয়। এসব ছাড়াও প্রশিক্ষণার্থীদের সম্মানী ভাতা ও ট্রান্সপোর্টেশন থেকেও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা কর্তন করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগে তারা জানান। এর প্রতিবাদ করায় ৫ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ আটকে দেওয়ার হুমকি দেন পিটিআই সুপার কৃষ্ণা রানী বসু।

এ বিষয়ে পিটিআই সুপার কৃষ্ণা রানী বসু বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ অসত্য। কতিপয় প্রশিক্ষণার্থী বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এসব বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

জানা গেছে এর আগেও এর আগেও পিটিআই সুপারিন্টেনডেন্টের বিরুদ্ধে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যাচের টিএমটিই প্রশিক্ষণার্থীরা একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন।

news24bd.tv/FA