১৯ বছর পর সাফ জয়ের উৎসব বাংলাদেশে
১৯ বছর পর সাফ জয়ের উৎসব বাংলাদেশে

সংগৃহীত ছবি

১৯ বছর পর সাফ জয়ের উৎসব বাংলাদেশে

অনলাইন ডেস্ক

ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। একবারই বাংলাদেশ সাফের ট্রফি জয়ের আনন্দে ভেসেছিল। সেটাও আজ থেকে প্রায় দুই দশক আগে পুরুষ দলের সৌজন্যে। ২০০৩ সালের ২০ জানুয়ারি, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কাঞ্চন-মামুনরা এনে দিয়েছিলেন আনন্দের উপলক্ষ।

দীর্ঘ ১৯ বছর ৯ মাস পর আবার দক্ষিণ এশিয়ার সেরা বাংলাদেশ। এবার নারী দলের হাত ধরে এলো সেই সাফল্য। আজ কাঠমান্ডুতে স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে সাবিনা-সানজিদারা। তাতে ঘুচল বাংলাদেশি ফুটবল প্রেমীদের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ।

ঘরের মাঠে সাফ জয়ের পর থেকেই ফুটবলে আস্তে আস্তে অবনতি ঘটতে থাকে বাংলাদেশের। পরিসংখ্যান বলছে, ওই আসরের পর আর কখনও ফাইনালও খেলতে পারেনি পুরুষ দল। বর্তমানে জামাল ভূঁইয়াদের খেলার যে হতশ্রী অবস্থা, তাতে খুব শিগগিরই ভালো কোনো কিছু আশা করাও বোকামি।

তবে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র নারী দলের। বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে সানজিদা, কৃষ্ণা, সামসুন্নাহারকে একসঙ্গে খেলছেন আজ অনেকদিন। আর তাদের গাইড করছেন হেড কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। বয়সভিত্তিক দলে বাংলাদেশ সাফল্যও পাচ্ছিল নিয়মিত। আছে শিরোপা জয়ের রেকর্ডও। তবে সিনিয়র দলের ছিল না কোনো ট্রফি।

সেই আক্ষেপ আজ ঘোচালেন সাবিনারা। সিনিয়র ফুটবলে নেপালের বিপক্ষে আগে কখনও জয়ের রেকর্ডই ছিল না বাংলাদেশের। সাফে তিনবারের দেখায় তিনটিতেই হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সেই বাংলাদেশের কাছেই আজ কোনো পাত্তা পেল না নেপাল।

এবারের সাফের শুরু থেকেই একের পর এক চমক জাগানিয়া পারফরম্যান্স উপহার দিচ্ছিল নারী দল। মালদ্বীপকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশের সাফ অভিযান। পরের ম্যাচে পাকিস্তানকে অর্ধডজন গোল উপহার দেয় ছোটনের শিষ্যরা। তৃতীয় ম্যাচে ভারত চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছিল বটে। তবে সেই ম্যাচেও উড়ন্ত বাংলাদেশ। ভারত বধ হলো ৩-০ গোলে।

কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে আগত বাংলাদেশি সমর্থকরা  ৥ বাফুফে

ফাইনালের আগে বাংলাদেশ নিজেদের সেরা খেলাটা সেমিফাইনালে। ভুটানকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলায় মাতে দল। আসরে সাবিনার দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকে ভুটানকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করে বাংলাদেশ। এবারের সাফের শুরু থেকেই ছোটনের দলের লক্ষ্য ছিল শিরোপা জয়। সেমিতে ওরকম জয়ের পর প্রত্যাশা বাড়ে সাবিনাদের নিয়ে।

সেই প্রত্যাশার চাপে নুইয়ে যায়নি বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। উল্টো নেপালের বিপক্ষে দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে দেখিয়েছে দাপট। একবার নেপাল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল বটে। একটা গোল শোধও দিয়েছিল। তবে কৃষ্ণা তার দ্বিতীয় গোলে পুরো নিশ্চুপ করে দেয় স্বাগতিক সমর্থকদের। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় জয়। অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পায় বাংলাদেশ।  

রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ শিবির মাতে শিরোপা উদযাপনে। খেলোয়াড়-কোচ এবং মাঠে আশা গুটিকয়েক দর্শকদের মুখে ছিল আলোর ঝলকানি। যে ঝলকানিতে আলোকিত এখন গোটা বাংলাদেশ।

news24bd.tv/সাব্বির