নোয়াখালীতে নারী চিকিৎসকের শ্লীলতাহানি, নিরাপত্তা প্রহরী গ্রেপ্তার
নোয়াখালীতে নারী চিকিৎসকের শ্লীলতাহানি, নিরাপত্তা প্রহরী গ্রেপ্তার

নোয়াখালীতে নারী চিকিৎসকের শ্লীলতাহানি, নিরাপত্তা প্রহরী গ্রেপ্তার

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের শ্লীলতাহানি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রহরীর বিরুদ্ধে।

সোমবার বিকেল পর্যন্ত এই ঘটনার প্রতিবাদে ও গ্রেপ্তারের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। নিরাপত্তা প্রহরীকে গ্রেপ্তারের পর কাজে যোগদান করেন চিকিৎসকরা। রোববার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতাল ক্যাম্পাসের জরুরী বিভাগ সংলগ্ন পাবলিক টয়লেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকরা একত্রিত হয়ে ওই নিরাপত্তা প্রহরীকে দফায় দফায় মারধর করে আহত করে। তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো.হেলাল উদ্দিন জানান, এ ঘটনার প্রতিবাদে ও হেনস্তাকারীর গ্রেপ্তারের দাবিতে রোববার বিকেল থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ধর্মঘট পালন করে। এই ঘটনায় হেনস্তার শিকার ওই নারী চিকিৎসক সুধারাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে রোববার রাতে পুলিশ তাকে জেনারেল হাসপাতাল থেকে আটক করে সুধারাম থানায় নিয়ে যায়।

সোমবার বিকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এই ঘটনার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও হেনস্তার শিকার আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন নারী চিকিৎসক জানান, রোববার তিনি হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে ডিউটি শেষে মাইজদী শহরের বাসায় ফেরার পথে জরুরী বিভাগ সংলগ্ন পাবলিক টয়লেটের সামনে রোহিঙ্গা ওয়ার্ডে কর্তব্যরত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রহরী আশরাফ উদ্দিন (৫০) এর মুখোমুখি হন। এসময় আশরাফ উদ্দিন শারীরিক ভাবে তাকে হেনস্তা করেন। এসময় নারী চিকিৎসকের সঙ্গে থাকা এক যুবক তাকে ধরে মারধর করে।

খবর পেয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ঘটনাস্থল এসে ওই নিরাপত্তা প্রহরীকে ব্যাপক মারধর করলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে ও ওই নিরাপত্তা প্রহরীর গ্রেপ্তার এবং চাকরীচ্যুত করার দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোববার বিকেল থেকে ধর্মঘট শুরু করেন। নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার ও জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সহ রাতেই হাসপাতাল পরিদর্শন করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, নারী চিকিৎসককে হেনস্তার ঘটনায় তাৎক্ষণিক ওই নিরাপত্তা প্রহরীকে চাকরীচ্যুত করা হয়েছে। এই ঘটনায় নোয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাইমা নুসরাত জেবিনকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নারী চিকিৎসকের অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি হিসাবে নথি ভুক্ত করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

news24bd.tv/FA