গ্রিন-ওয়েডের দিনে ‘খলনায়ক’ ভুবনেশ্বর-হর্ষল
গ্রিন-ওয়েডের দিনে ‘খলনায়ক’ ভুবনেশ্বর-হর্ষল

সংগৃহীত ছবি

গ্রিন-ওয়েডের দিনে ‘খলনায়ক’ ভুবনেশ্বর-হর্ষল

অনলাইন ডেস্ক

মোহালিতে আজ অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের ওপর ঝড়ই তুলেছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। মাত্র ৩০ বলে তার ৭১ রানের ইনিংসের সুবাদেই আগে ব্যাট করে ভারত স্কোরবোর্ডে জমা করেছিল ২০৮ রান। তবে ঘরের মাঠ এই রান নিয়েও জিততে পারল না ভারত। অস্ট্রেলিয়া ৪ বল আর ৪ উইকেট হাতে রেখেই পাহাড়সম এই রান টপকে যায়।

আন্তর্জাতিক টি২০তে আগে একবারই এর চেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ছিল অস্ট্রেলিয়ার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় রেকর্ড আজ অস্ট্রেলিয়া গড়েছে মূলত ক্যামেরুন গ্রিন এবং ম্যাথু ওয়েডের বিধ্বংসী দুই ইনিংসে। দায় কম ছিল না ভারতের দুই পেসার ভুবনেশ্বর কুমার এবং হর্ষল প্যাটেলেরও। এ দুজন ৮ ওভারে খরচ করেন ১০১ রান! এরপর আর লড়াই করবার মতো থাকেই বা কী!

ভুবনেশ্বর নিজের শেষ দুই ওভারে খরচা করেন ৩১ রান।

হর্ষল ১৮তম ওভারে বেদম পিটুনি খান ওয়েডের হাতে। ওই ওভারে এই কিপার ব্যাটারের ক্যাচ তো মিস করেনই, সঙ্গে হজম করেন তিনটি ছক্কা। দেন ২২ রান।

ভারতের দেওয়া পাহাড়সম রান টপকাতে শেষ ৪ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার করতে হতো ৫৫ রান। কিন্তু ১৭তম ওভারে বোলিংয়ে এসে ভুবনেশ্বর দিলেন ১৫ রান। এরপর হর্ষলের ওই ওভার। ভুবনেশ্বর এশিয়া কাপেও ডেথ ওভারে ভারতকে ডুবিয়েছেন। ডোবালেন আজও।

১৯তম ওভারে ভুবনেশ্বর আবার রান বিলালেন। এবার তিনি দিলেন ১৬ রান! ফলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য অসিদের দরকার ছিল মাত্র ২ রান। শেষ ওভারে যুজবেন্দ্র চাহাল তাই টিম ডেভিডকে ফেরালেও পরের বলেই প্যাট কামিন্স চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

ওয়েডের ঝড়ের আগে মোহালিতে চলেছিল গ্রিন ঝড়। এই ওপেনার সাজঘরে ফেরার আগে মাত্র ৩০ বলে করেন ৬১ রান। তাকে ফেরান অক্ষর প্যাটেল। ভারত মূলত ম্যাচে লড়াই করে এই অক্ষরের দারুণ বোলিংয়েই। চার ওভারে মাত্র ১৭ রান খরচায় অ্যারন ফিঞ্চ (২২ রান) এবং জস ইংলিসের (১৭ রান) উইকেটও পকেটে পোরেন তিনি।

অনেক দিন পর টি২০ দলে ফেরা উমেশ যাদব প্রথম ওভারে মার খান বটে। তবে দ্বিতীয় ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন তিনি। ফেরান স্টিভেন স্মিথ (৩৫ রান) এবং গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে (১ রান)। তিনি এ দুটি ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার পরই সমীকরণ কঠিন হতে শুরু করে সফরকারী দলের জন্য। তবে ভুবি-হর্ষলরা রান দেওয়ার খেলায় মাতলে ওয়েড ২১ বলে ৪৫ রান করে সেই সমীকরণ মিলিয়ে ফেলেন।

এর আগে ভারত এত বড় সংগ্রহ পায় হার্দিক পান্ডিয়ার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে। শেষ ৪ ওভারে ভারত তোলে ৬০ রান। যার সিংহভাগই এসেছে এই অলরাউন্ডারের ব্যাট থেকে। তিনি অপরাজিত থাকেন ৭ চার আর ৫ ছক্কায় ৩০ বলে ৭১ রানের ইনিংস খেলে।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামা ভারত ২১ রানে হারিয়েছিল নিজেদের প্রথম উইকেট। অধিনায়ক রোহিত শর্মা ১১ রান করেই ফেরেন জস হ্যাজেলউডের বলে নাথান এলিসকে ক্যাচ দিয়ে। শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাঁকানো বিরাট কোহলি টেকেন কেবল ৭ বল। ২ রান করে এবার এলিসের বলে গ্রিনের তালুবন্দী কোহলি।

ভারতকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন লোকেশ রাহুল এবং সূর্য কুমার যাদব। তৃতীয় উইকেট জুটিতে এ দুজন ৬৮ রানের জুটি। দারুণ খেলতে থাকা সূর্য কুমার (৪৬ রান) অল্পের জন্য হারান ফিফটির সুযোগ। আর ফিফটি তুলে নিতেই একই পথে রাহুল (৫৫ রান)। রাহুলকে ফেরান হ্যাজলউড। আর সূর্য শিকার হন গ্রিনের।

এরপর অক্ষর-কার্তিকরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছেন, খেলেছেন শুধু হার্দিক। তবে তার অতিমানবীয় ইনিংসটিও শেষ পর্যন্ত ম্লান হলো সতীর্থদের ব্যর্থতায়। ম্যাচসেরা হয়েছেন অলরাউন্ড পারফর্ম করা গ্রিন।

news24bd.tv/সাব্বির