সংকট কাটাতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
সংকট কাটাতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

সংকট কাটাতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেকোনো পর্যায়ের সংকট কাটাতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের যুক্ত করার গুরুত্ব আরোপ করে তিনি আরও বলেন, আমরা ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিটি সেক্টরে ৪০ শতাংশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছি।

জাতিসংঘ সদর দফতরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে সাধারণ পরিষদের সভাপতি কাসাবা কোরোসির আয়োজনে ইউএনজিএ প্ল্যাটফর্ম অফ উইমেন লিডারর্স-এর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নিজ নিজ দেশের জন্য নয়, মানবজাতির জন্য ইতিবাচক ফলাফলের লক্ষে এই নেটওয়ার্ককে (ইউএনজিএ প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডারস) ব্যবহার করার এটাই উপযুক্ত সময়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তিন দফা প্রস্তাব করেন। শেখ হাসিনা তার প্রথম দফা প্রস্তাবে লিঙ্গ সমতা বিষয়ে উপদেষ্টা বোর্ড গঠনের সুপারিশ করে বলেন, এটি এখন স্থানীয়করণ করা দরকার। আমাদের সব স্তরে জেন্ডার চ্যাম্পিয়নদের প্রয়োজন, বিশেষ করে তৃণমূল স্তরে। এছাড়াও নারী-নেতৃত্বাধীন সুশীল সমাজ সংস্থাকে পর্যাপ্ত রাজনৈতিক ও আর্থিক উপায়ে লালন-পালন এবং সমর্থন করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী তার দ্বিতীয় দফায় বলেন,  এই ধরনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সবশেষে তিনি লিঙ্গ সমতার জন্য তাদের সাধারণ এজেন্ডাকে শক্তিশালী করতে নেতৃবৃন্দের একটি শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করার লক্ষ্যে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, শুধু আমাদের নয়, সকল নেতাদের লিঙ্গ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের অগ্রগতির জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া উচিত এবং উপস্থাপন করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার নারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত এবং তাদের আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনে নতুন উপায় তৈরি করাসহ নারীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ এমডিজির তিনটি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা লিঙ্গ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের প্রায় ২৭ শতাংশ নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য বরাদ্দ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাজনৈতিক পটভূমিতে বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ থেকে সর্বনিম্নস্তর পর্যন্ত সকল স্তরে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে, নারীদের সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নারী উদ্যোক্তা উৎসাহিত করা তার সরকারের ‘মূলনীতি’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী ও পুরুষ উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থে সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে আমরা ব্যবসার জন্য লিঙ্গ-নিরপেক্ষ আইনি কাঠামো গড়ে তোলায় সুনির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছি। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ দিচ্ছে। পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্পের ১৫ শতাংশ তহবিল, ১০ শতাংশ শিল্প প্লট এবং ১০ শতাংশ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তহবিল নারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ডেডিকেটেড ডেস্ক রয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পে ৪০ লাখের বেশি নারী কর্মরত এবং দেশের প্রায় ৩৫ শতাংশ নারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে নারীর অবদান ৩৪ শতাংশ।

news24bd.tv/সাব্বির