এসি কেবিনে থাকতেন জেলে, সময় কাটাতে আসতেন বলিউডের নায়িকারা
এসি কেবিনে থাকতেন জেলে, সময় কাটাতে আসতেন বলিউডের নায়িকারা

সংগৃহীত ছবি

এসি কেবিনে থাকতেন জেলে, সময় কাটাতে আসতেন বলিউডের নায়িকারা

অনলাইন ডেস্ক

২০০ কোটির আর্থিক প্রতারণা মামলায় বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। একই মামলায় সুকেশের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ ও নোরা ফাতেহির। মামলার অগ্রগতিতে নিয়মিতই আদালতে জেরার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। তবে খুব একটা মন্দ নেই সুকেশের জেল জীবন।

জেলের জীবনযাত্রা সামনে আসতেই হতবাক সকলে।

আভিজাত্যে সুকেশের খামতি ছিল না কখনওই। যখন জেলের বাইরে ছিলেন, তখনও যেমনি উপভোগ করেছেন নিজের জীবন। তেমনি জেলের ভিতরেও একইভাবে রাজার হালেই রয়েছেন।

থাকছেন নিজস্ব এসি কেবিনে। টিভি, ফোন, আই-প্যাড, সুকেশের জন্য সব রকম ব্যবস্থায় আছে সেখানে। শুধু এইটুকুই নয়, অর্ডার দিলেই এসে যেত পছন্দমতো খাবার। পরতেন পছন্দমতো পোশাক। এমনটি বলিউডের নায়িকারা এসে সময় কাটিয়ে যেত তার সাথে। এক কথায় পাঁচতারকা হোটেলের পরিষেবা পাচ্ছেন জেলে বসেই।

তবে এটা কোনও হোটেল নয়, ভারতের অন্যতম বড় ও কঠোর নিরাপত্তার তিহার জেল। জেলে এভাবেই রাজকীয় হালে দিন কাটাতেন সুকেশ চন্দ্রশেখর।

২০০ কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতি মামলার অভিযোগে অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখর। আর্থিক প্রতারণা মামলায় ইডির চার্জশিটে সুকেশের সঙ্গে জ্যাকলিনের নামও অভিযুক্ত হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আরেক অভিনেত্রী নোরা ফাতেহির নামও জড়িয়েছে এতে। সূত্রের দাবি, জ্যাকলিনের মতোই নোরার সঙ্গেও সম্পর্ক গড়তে চেয়েছিলেন সুকেশ। মন জিততে বলিউডের এই দুই অভিনেত্রীকেই নামীদামী উপহারে ভরিয়ে দিয়েছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। কয়েক লক্ষ টাকার দামি বিদেশি ব্যাগ থেকে শুরু করে কোটি টাকার বিদেশি গাড়ি- উপহারের তালিকায় একাধিক দামি জিনিসের উল্লেখ রয়েছে।

দিল্লি পুলিশের ইকোনমিক অফেন্স উইংয়ের কাছে খবর এসেছিল, সুকেশ চন্দ্রশেখর জেলে বসেই নিজের প্রতারণা চক্র চালিয়ে যাচ্ছেন। খবর পেয়েই তিহার জেলে হানা দেয় দিল্লি পুলিশ। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান সুকেশের রাজকীয় জেল-জীবন। যেখানে জেলকে পাঁচতারকা হোটেলের কামরা বানিয়ে ফেলেছেন সুকেশ।  

দিল্লি পুলিশের সিপি বীরেন্দ্র সেজওয়ানের জমা দেওয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, তিহার জেলে নিজস্ব কেবিনে থাকতেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। সেই কেবিনে ছিল এসি, টিভি, নিজস্ব টয়লেট, মোবাইল ফোন। প্রয়োজনে আইপ্যাড ও ল্যাপটপও পৌঁছে যেত সুকেশের কেবিনে। দিনে চারবেলাই বাইরে থেকে আসত সুকেশের পছন্দমতো খাবার।

এখানেই শেষ নয়, জেলেই সুকেশের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন বলিউডের নায়িকা, মডেলরা। জেলের কেবিনকেই অফিস বানিয়ে অতিথিদের ডেকে পাঠাতেন সুকেশ। তার “ভিআইপি গেস্ট”রা গাড়ি নিয়ে জেলের ভিতরে ঢুকতেন। কোনও সিকিউরিটি চেকিং বা পরিচয়পত্র দেখানোর বালাইও ছিল না বলে জানা গিয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

news24bd.tv/আমিরুল

এই রকম আরও টপিক