দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন সাফজয়ী রূপনার অন্ধ মা
দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন সাফজয়ী রূপনার অন্ধ মা

সংগৃহীত ছবি

দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন সাফজয়ী রূপনার অন্ধ মা

অনলাইন ডেস্ক

সাফ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নের সেরা গোলরক্ষক রূপনা চাকমা। কিন্তু অভাবী এই পরিবারের খবর কয়জন জানেন?

জানা গেছে, বাম চোখে কিছুই দেখতে পান না রূপনার মা কালাসোনা চাকমা। ডান চোখেও দেখেন ঝাপসা। দুই পা মাঝে মাঝে ফুলে যায়।

চিকিৎসা করানোর মতো অর্থ নেই। দেখাতে পারেন না কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে। তবুও বাঁচার তাগিদে অন্যের খেত খামারে দৈনিক মজুরিতে কাজ করতে হয় কালাসোনা চাকমাকে।

দৈনিক মজুরী যা পান তা হলো ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

এই টাকা দিয়ে সংসার খরচ চালানো কঠিন। বাঁশের খুঁটি আর বেড়ার ঘরটি বেশ জরা-জীর্ণ। এ ঘরে ছেলে, বউ ও দুই নাতনি নিয়ে রূপনাদের বসবাস। এভাবেই চলছে তাদের জীবন।

রূপনার মা বলেন, ‘খুব কষ্টে দিন পার করি। মাঝে মাঝে রূপনা হাজার দেড়েক টাকা পাঠায়। ৬ মাস পর একবার বিধবা ভাতা পাই। ’ 

রূপনার মা কালাসোনা আরো জানান, তার মোট ৪ সন্তান। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। রূপনা সবার ছোট। রূপনা যখন তার পেটে, তখন ওর বাবা মারা যায়। সংসারে তখন ঘোর অন্ধকার। সন্তানদের কী খাওয়াবেন, কিভাবে বড় করবেন—সেই চিন্তায় দিশাহারা। খেয়ে না খেয়ে কেটে গেছে দিনের পর দিন। ছেলেরা ছোট থাকতেই পাহাড়ে জুম চাষ করেছেন। পরিশ্রম করেছেন মেয়েরাও। এই দুরবস্থার মধ্যেও রূপনা পড়াশোনা করেছেন। খেলাধুলাও করেছেন। এক পর্যায়ে জাতীয় দলে সুযোগ হয় তাঁর। এর পর থেকে তাঁদের ছোট্ট মেয়েটির উপার্জনেই সংসার চলেছে। কিভাবে যে সম্ভব হয়েছে তা ভেবে এখন তিনি নিজেই অবাক।

এই জীর্ণ কুঁড়েঘরে রুপনাদের বাস

তিনি আরো জানান, রাতে মাটির ওপর মেঝেতে ঘুমান। বৃষ্টি হলে বাড়িতে পানি ঢুকে যায়। ঘুমানোর অবস্থা থাকে না। রূপনা এলে বাড়িতে থাকার জায়গা হয় না। বড় ভাইয়ের বাড়িতে থাকতে হয়।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি রূপনাদের বাড়িতে গিয়েছি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেড় লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আমাকে ফোন করে রূপনাদের বাড়ি নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই উদ্যোগ নেওয়া হবে। ’

www.news24bd.tv/desk

এই রকম আরও টপিক