‘কোমা’ ভেবে ১৮ মাস ঘরে রাখা হলো মরদেহ!
‘কোমা’ ভেবে ১৮ মাস ঘরে রাখা হলো মরদেহ!

প্রতীকী ছবি

‘কোমা’ ভেবে ১৮ মাস ঘরে রাখা হলো মরদেহ!

অনলাইন ডেস্ক

১৮ মাস আগে মারা গিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু তার পরিবার ভেবেছিলেন বেঁচে আছেন তিনি। সেজন্য দীর্ঘ এই সময় ওই ব্যক্তির মরদেহটি ঘরে রেখে দেয় তার পরিবার। এমনকি প্রতিদিন ‘গঙ্গাজল’ ছিটিয়ে দিতেন মরদেহে।

ঘটনাটি ভারতের কানপুরের উত্তরের শহর রাওয়াতপুরের।

নিজেদের প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানায়, গত বছর আয়কর বিভাগের এক কর্মচারী মারা যান। তবে কোমায় রয়েছেন এই ধারণায় তার পরিবার দেহটি প্রায় ১৮ মাস ধরে বাড়িতে রেখেছিল। শুক্রবার কানপুর পুলিশ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশ বলছে, মারা যাওয়া আয়কর বিভাগের ওই কর্মচারীর স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন। কোমা থেকে উঠে আসবে এমন আশায় প্রতিদিন সকালে লাশটিতে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিতেন তিনি।

এক বিবৃতিতে কানপুর পুলিশ জানায়, ভিমলেশ দীক্ষিত নামের ওই আয়কর কর্মচারী ২০২১ সালের ২২ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। সেখান থেকে তার মৃত্যুর সার্টিফিকেটও দেয়া হয়।

উত্তর প্রদেশের চিকিৎসক অলোক রঞ্জন বলেন, ‘গত বছরের এপ্রিলে মারা গিয়েছিলেন ভিমলেশ। নিহতের পরিবার তার শেষকৃত্য করতে অনিচ্ছুক ছিল কারণ তারা বিশ্বাস করেছিল, তিনি কোমায় রয়েছেন। কোনো সরকারি কর্মচারী মারা গেলে তার পরিবারের ভাতা পাওয়ার কথা। তবে ভাতা পাচ্ছিলেন না তারা। এমনকি কাগজপত্রের অভাবে ভাতার ফাইলগুলো এক ইঞ্চিও না নড়ায় বিষয়টি আমাকে জানানো হয়। ’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন আয়কর বিভাগ, একটি স্বাস্থ্য দল ও একজন ম্যাজিস্ট্রেট ভিমলেশের বাড়িতে যায় তার পরিবার দাবি করেন, তিনি বেঁচে আছেন। বর্তমানে কোমায় রয়েছেন। অনেক বোঝানোর পর, পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসক দলকে মরদেহটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। পরে সেখানে পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ’

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটি অত্যন্ত পচনশীল অবস্থায় পেয়েছেন তারা।

নিহতের পরিবার তাদের প্রতিবেশীদেরও জানিয়েছিল, ভিমলেশ কোমায় রয়েছেন। প্রতিবেশীরা পুলিশকে জানিয়েছে, দীক্ষিত পরিবারের সদস্যদের প্রায়ই অক্সিজেন সিলিন্ডার বাড়িতে নিয়ে যেত।

news24bd.tv/মামুন

এই রকম আরও টপিক