মোশতাকের ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে বৈধতা দেন জিয়াউর রহমান
মোশতাকের ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে বৈধতা দেন জিয়াউর রহমান

খন্দকার মোস্তাক ও জিয়াউর রহমান

মোশতাকের ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে বৈধতা দেন জিয়াউর রহমান

তাসলিম তৌহিদ

জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করতে কলঙ্কিত ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারির করা হয় আজকের দিনে (২৬ সেপ্টেম্বর)। খন্দকার মোশতাকের করা এই অধ্যাদেশকে ১৯৭৯ সালে সংসদে আইনি বৈধতা দেন তৎকালিন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। অবশ্য দীর্ঘ ২২ বছর পর শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে এই আইন বাতিল করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেন।  

অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিনের মতে, এভাবে আইন করে বিচার বন্ধ করা ফৌজদারি অপরাধ।

 

’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার বিচার চিরতরে বন্ধ করতে চেয়েছিল খুনি ও তাদের দোসররা। বিচার রুখতে ওই বছর ২৬ সেপ্টেম্বর ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করে খন্দকার মোশতাক। এতে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কারো বিরুদ্ধে কোনো আদালতে মামলা করা যাবে না। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট বা কোর্ট মার্শালেও তাদের বিচার করা যাবে না।

 

অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন জানান, আদেশটিকে আইনে পরিণত করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালের ৯ জুলাই সংসদে পাস হয় ইনডেমনিটি আইন। শাস্তির পরিবর্তে পুরস্কৃত করা হয় খুনিদের। দেওয়া হয় বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি। এমনকি সংসদেও ছিল তাদের প্রতিনিধিত্ব।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, এই আইনের মাধ্যমে বিচার বিভাগে কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, অধ্যাদেশ জারি ও আইন প্রণোয়নের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তারা ফৌজদারি অপরাধ করেছে। তাদের মুখোশ উন্মোচনের সঙ্গে সঙ্গে বিচারের আওতায় আনতে হবে।  

১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর ইনডেমনিটি আইনটি বাতিল করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন শেখ হাসিনার সরকার। আর এভাবেই খুলে যায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ। বাঙালি জাতি হয় কলঙ্কমুক্ত।

news24bd.tv/ইস্রাফিল