বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা
বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক

জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে অবিরাম ছুটে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশকে নিয়ে যাচ্ছেন উন্নত দেশের কাতারে। নিজেও আজ প্রশংসিত বিশ্ব দরবারে। বঙ্গবন্ধুকন্যার হাত ধরেই বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং উন্নয়ন পৌঁছে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়।

সফল এই রাষ্ট্রনায়কের আজ ৭৬তম জন্মদিন।  

আনন্দে বিহ্বল হন না, সংকটে অটল থাকেন। বাংলাদেশের চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি প্রচলিত কথা। তার দৃঢ়তা, মনোবল, আত্মবিশ্বাস আর সব ছাপিয়ে নেতৃত্বের গুণাবলি কেবল বাংলাদেশেই নয়, প্রশংসিত বিশ্বজুড়ে।

ব্যক্তি জীবন ও রাজনীতির ময়দানে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। কারাভোগ করেছেন, একাধিকবার হয়েছেন গৃহবন্দি। একদিনে হারিয়েছেন পিতা, মাতা, ভাই, সবাইকে। তাকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে অগনিত বার।

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি বড়। ছোটবেলা থেকেই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা। ফলে ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

স্কুল জীবন থেকেই বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন শেখ হাসিনা। কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপিও নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন তিনি।
১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার দুই সন্তান। সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। সামরিক বাহিনীর কতিপয় বিপথগামী কর্মকর্তা ও সদস্য সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। এরপর শুরু হয় দুঃসহ এক জীবন। প্রথমে জার্মানি এবং পরে ভারতে তিনি নির্বাসিত জীবন যাপন করতে বাধ্য হন।

সব বাধা পেরিয়ে ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশের মাটিতে পা রাখেন। কাঁধে নেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব। তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করান তিনি। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য 
তোফায়েল আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনা যেদিন আসেন সেদিন লাখ লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। মানুষ মনে করছিলেন যেন আরেক বঙ্গবন্ধু দেশে এসেছেন।  

শেখ হাসিনা চতুর্থ, পঞ্চম ও অষ্টম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। দেশের ইতিহাসে এমন রেকর্ড আর কারও নেই। তিনি টানা চার দশক ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি।

সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্যে স্বনির্ভরতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বিশ্বকে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন শেখ হাসিনা।  

রূপকল্প ২০৪১ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নদীমাতৃক বাংলাদেশের জন্য তিনি ১০০ বছরের  ‘ডেলটা প্ল্যান’ বা ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা’ হাতে নিয়েছেন।

৩১টির বেশি আন্তর্জাতিক পদক ও স্বীকৃতি লাভ করেছেন শেখ হাসিনা । বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন জননেত্রী থেকে বিশ্বনেত্রীর কাতারে।

news24bd.tv/ইস্রাফিল