শ্রেণিকক্ষের সংকট, গাছতলায় চলছে পাঠদান
শ্রেণিকক্ষের সংকট, গাছতলায় চলছে পাঠদান

গাছতলাতেই চলছে পাঠদান

শ্রেণিকক্ষের সংকট, গাছতলায় চলছে পাঠদান

শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ্

১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় স্কুলটি। শুরু থেকেই ফলাফলের দিক থেকে অন্যান্য স্কুলের থেকে এগিয়ে সেখানকার শিক্ষার্থীরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা। তবে বাড়েনি শ্রেণি কক্ষের সংখ্যা।

সরকারের নির্দিষ্ট দপ্তরে নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হলেও কাজের কাজ কোনোটাই হয়নি। পুরোনো ভবনেই চলছে স্কুলের কার্যক্রম। শ্রেণিকক্ষ সংকটে বাধ্য হয়ে গাছতলাতে চলছে পাঠদান। এতে শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বলছি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের ৩৭ নং ডাওরা জেবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৪ সালে এলাকার শিক্ষা অনুরাগী কিছু ব্যক্তি স্ব-উদ্যোগে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত করেন। শিক্ষার্থীরা বরাবরের ন্যায় ভালো ফলাফল করলেও প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোর কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে স্কুলটিতে ২৪০জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। বিদ্যালয়টিতে ৫-৭টি কক্ষ থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র তিনটি কক্ষ। এ কারণেই শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নীচে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন ভবনের জন্য সরকারি দপ্তরে আবেদন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। একবার মাটিও পরীক্ষা করা হয়। এতেই শেষ হয় নতুন ভবনের কার্যক্রম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষিকা আকলিমা বিদ্যালয়ের আঙিনায় গাছের নিচে বেঞ্চ পেতে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। এ সময় সাংবাদিক দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে বেশ কয়েক বছর যাবত আমরা খোলা আকাশের নীচে পাঠদান করছি। বিষয়টি যেন কেউ দেখছেন না। আমাদের শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করলেও কোনো কূলকিনারা হয়নি। জানিনা কবে আমাদের স্কুলের একটি সুন্দর ভবন হবে।

এ সময় স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য জোর দাবি জানান তারা।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আতাউল হক বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে খুবই অসুবিধা পোহাতে হচ্ছে। ২০১৮ সালে মাটি পরীক্ষা করে নিলেও কী কারণে নতুন ভবন নির্মিত হচ্ছে না তা আমার জানা নেই। শিগগিরই একটি ভবন নির্মাণ করে আমাদের স্কুলের সুন্দর পরিবেশ ফিরে আনা হোক। ’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আনসার উদ্দীন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অচিরেই সমস্যাটির সমাধান হবে। চলমান অর্থবছরেই একটি নতুন ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। ’

news24bd.tv/মামুন