প্রতিবন্ধী শিশু স্মৃতির মুখে হাসি ফোটালেন মানবিক পুলিশ মোস্তাফিজুর 
প্রতিবন্ধী শিশু স্মৃতির মুখে হাসি ফোটালেন মানবিক পুলিশ মোস্তাফিজুর 

প্রতিবন্ধী শিশু স্মৃতির মুখে হাসি ফোটালেন মানবিক পুলিশ মোস্তাফিজুর 

অনলাইন ডেস্ক

স্মৃতি রায় জন্মের পর থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারেনি দরিদ্র মা-বাবা। বিনা চিকিৎসায় স্মৃতি এখন১৪ বছরে। কখনও দু’পায়ে ঠিক মতো দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনি অসহায় এই শিশুটি।

দুর্গোৎসবে ওর বয়সী শিশুরা যখন আনন্দে ভাসছিল, তখনো ওর মুখে হাসি ছিল না। দীর্ঘদিনেও একমাত্র কন্যা স্মৃতির ইচ্ছাপূরণে একটি হুইল চেয়ার কিনে দিতে পারেননি তার বাবা-মা। তবে এবার সেই স্মৃতি রায়ের মুখে হাসি ফুটেছে। হাসছেন তার মা-বাবাও।

বিজয়া দশমীতে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু স্মৃতি রায়ের জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করেছেন মানবিক পুলিশ শেখ মোস্তাফিজুর রহমান। রংপুর সদর কোর্টের সহকারী টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (এটিএসআই) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এই পুলিশ সদস্য।

বুধবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে রংপুর নগরীর কামারপাড়াতে শিশু স্মৃতি রায়ের মা-বাবা কাছে একটি উন্নতমানের হুইল চেয়ার প্রদান করেন পুলিশ সদস্য শেখ মোস্তাফিজুর রহমান। এসময় সেখানে শিশু স্মৃতি রায় ছাড়াও কামারপাড়া কুতুবিয়া জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক মামুন, সদ্যপুষ্কুরিণী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সাইফুর রহমান বাবু, অগ্রণী সংঘের সদস্য সচিব মমিনুল ইসলাম রিপন উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, রংপুর মহানগরীর ২২নং ওয়ার্ডের কামারপাড়া গ্রামের বিষ্ণু রায় ও রাধা রাণী রায় দম্পতির শিশুকন্যা শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী স্মৃতি রায়। জন্মের কয়েকমাস পর স্মৃতির শারীরিক অসুস্থতা বুঝতে পারেন তার পরিবার। স্মৃতির বাবা বিষ্ণু রায় পেশায় একজন রং মিস্ত্রি। আর্থিক দৈন্যদশায় শারীরিক প্রতিবন্ধী কন্যার কোনো চিকিৎসা করাতে পারেননি তিনি। একাই চলাফেরা করতে না পারা স্মৃতি ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। অন্যের হাত ধরে নয়তো কোথাও ভর করে হাঁটতে হয় তাকে।

সম্প্রতি স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর কাছ থেকে প্রতিবন্ধী শিশু স্মৃতি রায়ের দুঃখ দুর্দশার কথা জানতে পারেন রংপুর সদর কোর্টের এটিএসআই শেখ মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বুধবার বিকেলে স্মৃতিকে একটি হুইল চেয়ার দেন।

এ ব্যাপারে স্মৃতির মা রাধা রাণী রায় বলেন, আমার দুটি ছেলে-মেয়ে। এর মধ্যে সবার বড় স্মৃতি আর ছোটটা ছেলে। জন্মগতভাবে স্মৃতি শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে একা হাঁটাচলা বা খেতেও পারে না। অন্য কারো হাতেও খেতে চায় না। ওর মনের মধ্যে খুব ভয়-ভীতি কাজ করে। কখনো হাসতেও চায় না। কিন্তু আজকে হুইল চেয়ারে বসার পর ওর চোখে মুখে হাসি ছিল। পুলিশ ভাই আমার মেয়েকে হুইল চেয়ার দিয়েছেন। মেয়েটা আমার এখন খুব খুশি।

এটিএসআই শেখ মোস্তাফিজ রহমান ২০০০ সালে পুলিশে যোগদান করেন। তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মানবিক কাজ করে আসছেন। ২০২০ সালে গাজীপুরে হাইওয়ে পুলিশে থাকাকালীন ঘুষ বিরোধী সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন।

শেখ মোস্তাফিজ রহমান বলেন, আমি আমার নিজ উদ্যোগে অবসর সময়ে সামর্থ্য অনুযায়ী এসব মানুষদের সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করছি। আমি চার বছর আগে ফুড ব্যাংক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছি। এ ধরনের মানবিক কাজ করতে আমার ভালো লাগে; আত্মার মধ্যে অন্যরকম শান্তি লাগে।

news24bd.tv/তৌহিদ