রিকশা হারানো সেই শামিম হত্যা মামলার পলাতক আসামি
রিকশা হারানো সেই শামিম হত্যা মামলার পলাতক আসামি

সংগৃহীত ছবি

রিকশা হারানো সেই শামিম হত্যা মামলার পলাতক আসামি

অনলাইন ডেস্ক

সম্প্রতি কাওরানবাজারে ভাড়ায় চালানো রিকশা হারিয়ে বিলাপ করতে থাকা শামীম নামের এক যুবককে নিয়ে প্রতিবেদন করে দেশের একটি টেলিভিশন চ্যানেল। তাদের সেই প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়। এর পর শামীমের সাহায্যে এগিয়ে আসেন অনেকে। র‌্যাব তাকে একটি নতুন রিকশা  কিনে দেয়।

একটি আইটি প্রতিষ্ঠান তার মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। তাকে একটি চাকরিও দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এসব ঘটনাপ্রবাহ জনসাধারণের মাঝে স্বস্থির সৃষ্টি করে।  

রিকশা হারিয়ে শামিমের কান্না দেশের লাখ লাখ মানুষের মনে দাগ কাটলেও ব্যতিক্রম ছিল তার নিজ গ্রাম কেরানীগঞ্জের মুগারচর ও এর আশপাশের গ্রামের মানুষ।

তাদের অভিযোগ, সে মিথ্যা কথা বলে দেশবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে। গ্রামে তার কোটি কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও তিনি নিজেকে রিকশা চালক সাজিয়েছেন। মাকে নিয়েও তিনি মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন শামিম। নিজে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হয়ে মিডিয়ায় কথা বলছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা থেকে সাহায্য তুলছেন, অথচ তার সম্পদের অভাব নেই।

জানা গেছে, শামিমের আসল নাম মেহেদী হাসান। তার গ্রামের বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার রোহিতপুর ইউনিয়নের মুগারচর গ্রামে। তার বাবা মোতাহার হোসেন ২০১৬ সালে আপন নাতি শিশু আব্দুল্লাহ হত্যার আসামি। তিনি র‌্যাবের ক্রসফায়ারে মারা গেছেন। শামিম ওরফে মেহেদীও একই মামলার ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি।

তার গ্রামের মানুষ জানিয়েছে, শামিম (মেহেদী) ও তার পরিবারের লোকজন মিলে ২০১৬ সালে শিশু আব্দুল্লাহকে হত্যা করে একটি ড্রামের ভেতর রেখে তার পরিবার থেকে মুক্তিপণ আদায় করে। সে মামলায় তার বাবা মোতাহার র‌্যাবের ক্রসফায়ারে মারা গেছেন। তাছাড়া ওই মামলায় একজনের ফাঁসি, অন্যান্য আসামির সঙ্গে মেহেদীর ১০ বছরের জেল হয়।

পরে বয়স বিবেচনায় জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ভয়ানক মাদক ও চুরির কিশোর গ্যাং তৈরি করেন। একপর্যায় এলাকার মানুষ ক্ষেপে গেলে তিনি শহরে পালিয়ে যান। কোনরকম বিচার না করেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন লোকজন একজন ‌‘খুনিকে’ সহায়তা করছে বলে দাবি এলাকাবাসী ও আব্দুল্লাহর স্বজনদের।

নিহত আব্দুল্লার মা রিনা বেগম জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও দেখে বহু কষ্টে সময় পার করছি। আমার ছেলের খুনিকে প্রশাসনসহ দেশের মানুষ বিভিন্নভাবে সাহায্য করছে। একজন খুনিকে দেশের মানুষ বাহবা দিচ্ছে। অথচ সে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। সে দেশের মানুষের সঙ্গে মিথ্যা বলে প্রতারণা করেছে। মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য নাটক সাজিয়েছে। আমি চাই তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

প্রতিবেশী মুকবুল হোসেন বলেন, গ্রামে ডুপ্লেক্স বাড়ি, পাশেই পাকা মার্কেট, মাঠেও রয়েছে বাপ-দাদার রেখে যাওয়া অঢেল সম্পদ। অথচ সে রিকশা চালায়! এটা তার প্রতারণা ছাড়া কিছুই না। একজন খুনির জন্য দেশের মানুষ না জেনে সহানুভূতি দেখাচ্ছে। একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে, আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে, আর আব্দুল্লাহর পরিবার  কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আর রশীদ বলেন, আমি এ বিষয়ে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি। জেনেছি ওই যুবক একজন খুনি আসামি, জামিনে এসে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে শহরে গা ঢাকা দিয়ে আছে। তার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

news24bd.tv/আজিজ

এই রকম আরও টপিক