ইবোলা সংক্রমণ ঠেকাতে উগান্ডার দুই এলাকায় তিন সপ্তাহ লকডাউন
ইবোলা সংক্রমণ ঠেকাতে উগান্ডার দুই এলাকায় তিন সপ্তাহ লকডাউন

সংগৃহীত ছবি

ইবোলা সংক্রমণ ঠেকাতে উগান্ডার দুই এলাকায় তিন সপ্তাহ লকডাউন

অনলাইন ডেস্ক

গত ২০ সেপ্টেম্বর পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় ইবোলা ভাইরাসকে প্রাদুর্ভাব হিসেবে ঘোষণার পর এবার লকডাউন জারি করতে বাধ্য হলো দেশটি। শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ইওওয়েরি মুসেভেনি মধ্য উগান্ডার মুবেন্দে এবং কাসান্দা এলাকায় কারফিউ জারি করেন। সংক্রমণ ঠেকাতে এলাকা দুটিতে তিন সপ্তাহের লকডাউন জারি করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসেব মতে, গত ২০ সেপ্টেম্বরের পর নতুন করে ১৯ জন মারা গেছে ইবোলা সংক্রমণে।

তবে এ পর্যন্ত ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত ৫৮ জনকে শনাঙ্ক করেছে দেশটি। ভাইরাসের প্রভাবে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হবে পারে বলে ধারণা দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার।

লকডাউনের ফলে আগামী ২১ দিন দুই জেলার ভেতরে ও বাইরে চলাচল সীমিত থাকবে। এছাড়াও পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া বন্ধ থাকবে সব পরিবহন।

বন্ধ রাখা হয়েছে উপাসনালয় ও বিনোদন স্থানগুলি।

দুটি জেলাকে মহামারীর কেন্দ্রস্থল উল্লেখ্য করে দেশটির জাতীয় টেলিভিশনে প্রেসিডেন্ট মিঃ মুসেভেনি বলেন, ‘ইবোলার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সাময়িক ব্যবস্থা এটি। আমাদের সকলের উচিত কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করা। যাতে আমরা এই প্রাদুর্ভাবটিকে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারি। ’

তবে এর আগে বিভিন্ন সময় লকডাউনের কথা বলা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মুসেভেনি। সে সময় তার বক্তব্য ছিল ইবোলা বায়ুবাহিত ভাইরাস নয় তাই কোভিড -১৯ এর মতো একই ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। তবে নতুন করে লকডাউন জারির পর মুসেভেনি দেশটির পুলিশকে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজনের গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছেন। যারা বিচ্ছিন্ন হতে অস্বীকার করছেন।

উল্লেখ্য, ভাইরাসটি একটি সুদান স্ট্রেন, যার অনুমোদিত কোনো ভ্যাকসিন নেই। এর আগে জায়ার স্ট্রেনের প্রভাবে গত ২০১৩-২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকা জুড়ে প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পরে টিকা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাদুর্ভাব ঠেকানো হয়।

ইবোলা শারীরিক তরল বা দূষিত জিনিসের সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে বমি, ডায়রিয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক রক্তপাত।

কাম্পালায় আফ্রিকার আঞ্চলিক স্বাস্থ্য আধিকারিকদের একটি সভায় ভার্চুয়াল ভাষণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক ফোকাস এখন প্রতিবেশী জেলাগুলির পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলিকে রক্ষা করা। সেই সাথে এই প্রাদুর্ভাবকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা। ’

news24bd.tv/আমিরুল

এই রকম আরও টপিক