সার্বভৌমত্ব নিয়ে চীনের সাথে সমঝোতা নয়: তাইওয়ান
সার্বভৌমত্ব নিয়ে চীনের সাথে সমঝোতা নয়: তাইওয়ান

সংগৃহীত ছবি

সার্বভৌমত্ব নিয়ে চীনের সাথে সমঝোতা নয়: তাইওয়ান

অনলাইন ডেস্ক

রোববার বেইজিংয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি)-এর ২০ তম জাতীয় কংগ্রেসের সূচনা করে তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তার একদিন না পেরতেই পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন। সোমবার স্ব-শাসিত তাইওয়ান দ্বীপের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ‘সমঝোতার কোন জায়গা নেই’ বলে চীনকে পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি। তবে তাইওয়ান প্রণালী জুড়ে শান্তি বজায় রাখতে ‘পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য উপায়’ খুঁজে বের করার ব্যাপারে চীনের সাথে কাজ করতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছেন তিনি।

বেইজিংয়ের গ্রেট হল অফ দ্য পিপল-এ প্রায় ২ হাজার ৩০০ দলীয় সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় চীনা রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘তাইওয়ান প্রশ্নের সমাধান এমন একটি বিষয় যা চীনাদেরই সমাধান করতে হবে। আমরা আন্তরিকতার সাথে শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলনের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব, তবে আমরা সেখানে কখনই শক্তির ব্যবহার ত্যাগ করার প্রতিশ্রুতি দেব না। আমরা প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প সংরক্ষণ করি। এটি শুধুমাত্র বহিরাগত শক্তি এবং ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ চাওয়া কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপের হস্তক্ষেপে পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবসময় আমাদের তাইওয়ানের স্বদেশীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও যত্ন দেখিয়েছি এবং তাদের সুবিধা দেওয়ার জন্য কাজ করেছি। আমরা প্রণালী জুড়ে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং সহযোগিতার প্রচার চালিয়ে যাব। এক দেশ, দুই ব্যবস্থা' নীতি চীনা বৈশিষ্ট্যসহ সমাজতন্ত্রের একটি মহান উদ্ভাবন। মাতৃভূমিতে ফিরে আসার পর হংকং এবং ম্যাকাওতে টেকসই সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য এটি সর্বোত্তম প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই নীতি অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদে মেনে চলতে হবে। ’

এই বক্তৃতার একদিনের মাথায় পাল্টা বক্তব্য দিয়েছে তাইওয়ান। দেশটির প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন সোমবার বলেন, ‘তাইওয়ানের জনগণের ঐকমত্য, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক জীবনধারাকে রক্ষা করায় আমাদের কাজ। এতে আপস করার কোনো অবকাশ নেই। আমি বেইজিং কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাই, যুদ্ধ অবলম্বন করা উচিত নয়। আন্তঃ-প্রণালী সম্পর্কের বিকল্প হতে পারে। শুধুমাত্র সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের প্রতি তাইওয়ানের জনগণের জেদকে সম্মান করার মাধ্যমে আমরা তাইওয়ান প্রণালী জুড়ে ইতিবাচক মিথস্ক্রিয়া পুনরায় শুরু করতে পারি। ’

উল্লেখ্য, চীন উপকূল থেকে মাত্র ১১০ মাইল দূরে অবস্থিত তাইওয়ান দ্বীপে ২৩ মিলিয়ন মানুষের বাস। ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশ দুটি পৃথকভাবে শাসিত হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি দ্বীপটিকে নিজেদের বলে দাবি করে আসছেন। গত আগস্টের শুরুতে ইউএস হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের পর, দ্বীপটিতে সামরিক কৌশল বাড়িয়েছে চীন। তাইওয়ান প্রণালীর মধ্যরেখা জুড়ে যুদ্ধবিমান পাঠাতেও দেখা গেছে চীনকে।

news24bd.tv/আমিরুল

এই রকম আরও টপিক